সৌরভ মাজি, বর্ধমান: রাতের অন্ধকারে বিধবা মহিলার উপর অ্যাসিড হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার ধারান গ্রামের ঘটনায় চাঞ্চল্য। ওই মহিলার ডান চোখ-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ অ্যাসিডে ঝলসে গিয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই মহিলা। ঘটনার বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মহিলার পরিজনরা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে কে বা কারা এই অ্যাসিড হামলা করেছে তা স্পষ্ট নয়। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে।
ওই মহিলার শ্বশুর ও শাশুড়ি রবিবার জানান, তাঁরা পাশের ঘরে শুয়েছিলেন। মাঝরাতে পুত্রবধূর আর্তনাদ শুনে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেন মুখ-সহ গোটা শরীর অ্যাসিডে ঝলসে গিয়েছে। অ্যাসিড হামলাকারীকে তাঁরা দেখতে পাননি। আগেই পালিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা মহিলার বাপের বাড়ির লোকজনকে খবর দেন। তাঁরা আসার পর মহিলাকে নিয়ে রায়না থানায় যান তাঁরা।
সেখান থেকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সোমবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাপের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাঢ়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই মহিলা। এদিন বাড়িতে বিছানায় শুয়ে কার্যত কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। রাতের ওই আতঙ্ক এখনও তাঁকে তাড়া করছে যেন।
[আরও পড়ুন: অবরোধ-পালটা লাঠিচার্জ, দুর্ঘটনায় প্রৌঢ়ের মৃত্যু ঘিরে আমতায় পুলিশ ও জনতা খণ্ডযুদ্ধ]
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে ওই মহিলার স্বামী মারা গিয়েছেন। তাঁর ৭ বছরের একটি মেয়ে ও ৫ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ছেলেমেয়েদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকেন ওই মহিলা। ওইদিন রাতে ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটি ঘরে শুয়েছিলেন তিনি। পাশের ঘরে ছিলেন শ্বশুরশাশুড়ি। রাতে শৌচকর্ম করতে বাইরে শৌচালয়ে যান।
সেখান থেকে ফিরে বাড়ির বারান্দার গ্রিলের দরজা আটকানোর সময় কেউ তাঁর গায়ে অ্যাসিড ছুড়ে দেয়। তীব্র জ্বালায় চিৎকার করতে থাকেন মহিলা। শ্বশুর-শাশুড়ি চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে পালিয়ে যায় হামলাকারী। মহিলাও রাতের অন্ধকারে হামলাকারীকে দেখতে পাননি বলে জানা গিয়েছে। মহিলার এক আত্মীয় বলেন, “আমরা সব ঘটনা জানিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি।”
