সৌরভ মাজি, বর্ধমান: অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসত। মহিলা সেই ফোনে ব্যস্ত থাকতেন। যা নিয়ে যুবক-ছেলের সঙ্গে অশান্তি হত মায়ের। ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন যা চরমে ওঠে। মায়ের ফোনটি কেড়ে নেয় ছেলে। এই নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়। তার জেরে ওই মহিলা বিষ খেয়ে নেন। শনিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
[চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, পরিজনদের তাণ্ডবে উত্তাল রায়গঞ্জ]
বীরভূমের তারাপীঠের সাহাপুর গ্রামে বাড়ি মৃত মহিলার। নাম ঊষা বসু (৪৫)। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বিষ খেয়েছিলেন বাড়িতে। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এদিন সকালে সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। এদিন বর্ধমান হাসপাতালের মর্গে এসেছিলেন মৃতের স্বামী অনুপকুমার বসু ও ছেলে কৃষ্ণেন্দু। তাঁরা দাবি করেছেন, গত মাসখানেক ধরে একটি অজানা নম্বর থেকে ঊষাদেবীর মোবাইলে ফোন আসত।
[এক রুটের যাত্রী নিয়ে অন্য রুটে বারাণসী এক্সপ্রেস, যাত্রী বিক্ষোভ বর্ধমানে]
অনুপবাবু জানান, ফোন করে তাঁর স্ত্রীকে উত্যক্ত করা হত। কিন্তু সেই ফোন এলে ঊষাদেবী ব্যস্ত হয়ে পড়তেন বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে আপত্তি ছিল ছেলের। ছেলে ফোন কেড়ে নেয়। মা ফোন ফেরত চাইলেও ছেলে তা দেয়নি। এই নিয়ে অভিমান করে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন ঊষাদেবী। কৃষ্ণেন্দু এদিন বলেন, “মাকে বারণ করলেও শুনত না। তাই ফোন কেড়ে নিয়েছিলাম। এই নিয়ে অশান্তিও হয় মায়ের সঙ্গে। এরপরই মা বিষ খেয়ে নেন। আমরা চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারলাম না।” সামান্য ফোন নিয়ে অশান্তির জেরে মহিলার আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
