টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: সাদা-কালো চুল, পরনে নীল-সাদা শাড়ি এবং বুকে তৃণমূলের ব্যাচ। তৃণমূল কর্মী সেজে অভিষেকের সভাস্থলে মহিলা। উদ্দেশ্য অভিষেকের সামনে দলীয় নেতার অত্যাচার কাহিনি তুলে ধরা। বুধবার বাঁকুড়ার ওন্দা স্টেডিয়ামে ব্যতিক্রমী কাণ্ডটি ঘটান রামসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা গোস্বামী।
প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, আশিস দে নামে এক তৃণমূল নেতা একাধিক মানুষের কাছে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছেন। অভিযোগ, চাকরি তো পাননি। এমনকী, টাকা চাইতে গিয়েও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের বাড়ি, দোকান ঘর ভেঙে ফেলা হয়। প্রিয়াঙ্কার আরও অভিযোগ, করোনাকালে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে তিনি এবং কয়েকজন কর্মী এলাকায় মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করেন। সেই বাবদ কোনও পারিশ্রমিক পাননি। শুধু আশিসই নন। প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ খাঁ’র বিরুদ্ধেও সুর চড়ান তিনি।
[আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি, নবান্নে সব দপ্তরের মন্ত্রী ও সচিবদের বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী]
বুধবার ওন্দা স্টেডিয়ামে তৃণমূলের জনসভা শেষে প্রিয়াঙ্কার কাণ্ডে শোরগোল পড়ে যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শেষ হওয়ার পরেই দর্শকাসনে বসে থাকা প্রিয়াঙ্কা চেঁচামেচি শুরু করেন। চেঁচামেচি শুনে পুলিশ ও অভিষেকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা ওই মহিলার কাছে ছুটে যান। তাঁকে বাধা দিতে শুরু করেন। সমস্ত বাধা পেরিয়ে অভিষেকের কাছে পৌঁছন তরুণী। অত্যাচারের কাহিনি তিনি তুলে ধরেন।
ঘটনাটি শোনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রিয়াঙ্কাকে আশ্বাস দেওয়ার পর অভিষেক সভাস্থল ছাড়েন। ঘটনার ঘোর কাটার পরেই উপস্থিত তৃণমূল নেতা-কর্মীরা প্রিয়াঙ্কাকে তীর্যক ভাষায় কটাক্ষ করতে শুরু করেন। প্রিয়াঙ্কাকে নিরাপদে সভাস্থল থেকে বাড়িতে পাঠানোর বন্দোবস্ত করেন বাঁকুড়া জেলা মহিলা তৃণমূল নেত্রী মৌ সেনগুপ্ত। এ বিষয়ে অরূপ খাঁ বলেন, “কে, কোথায়, কার সঙ্গে প্রতারণা করবে, তার দায় আমি নেব কী করে?”
