পুজোর মুখে মাথায় হাত শতাধিক মহিলার! বছরের পর বছর ধরে কষ্টার্জিত টাকা সঞ্চয় করেছিলেন বিপদের দিনে কাজে লাগার আশায়। কিন্তু সেই জমানো টাকাই এখন কার্যত গায়েব! অভিযোগ, বেশি সুদের লোভ দেখিয়ে মাসিক ফান্ডের মাধ্যমে এলাকার শতাধিক মহিলার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেন দুর্গাপুর পুরসভার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের বীরভানপুরের বাসিন্দা চম্পা বাউরি। আর তারপর থেকেই এলাকায় তারঁ টিকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষোভে ফুঁসছেন প্রতারিতরা। কোকওভেন থানার পুলিশের দ্বারস্থ তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এলাকার মহিলাদের নিয়ে মাসিক ফান্ড চালাতেন চম্পা। নিয়মিত টাকা জমালে ভবিষ্যতে মোটা অঙ্কের টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বেশি সুদেরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত বলে অভিযোগ। কেউ সংসারের খরচ সামলে, কেউ দিনমজুরি করে, কেউ পরিচারিকার কাজ করে, আবার কেউ ছোটখাটো ব্যবসা বা অন্যান্য উপায়ে উপার্জন করে সেই টাকা জমা রাখতেন তাঁর কাছে। অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে এভাবেই একশোরও বেশি মহিলার কাছ থেকে মাসে মাসে টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে জমা পড়া টাকার পরিমাণ নিঃসন্দেহে কয়েক লক্ষ টাকা। কিন্তু আচমকাই সেই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে শুরু হয় টালবাহানা। এরপর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, এলাকায় থেকে চম্পা বাউরি গায়েব। ফোনেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে দাবি প্রতারিতদের। এরপর একজোট হয়ে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানায় হাজির হন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিতরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।প্রতারিত মহিলা দীপা বাউরির অভিযোগ, "আমরা ওর কাছে টাকা রাখতাম বিপদে-আপদে পাব বলে। কিন্তু এখন টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে গেছে। আমরা টাকা দিতে না চাইলেও আমাদের স্বামীদের ফোন করে টাকা দেওয়ার কথা জানাত। আমরা এখন চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা ওর শাস্তি চাইছি।"
