শুভঙ্কর বসু: বিমানবন্দর সোনা কাণ্ডে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুল্ক দপ্তরের মামলা গৃহীত হল কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের শুনানিতে শুল্ক দপ্তরের বক্তব্য শোনার পর তাতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন বিচারপতিরা।
এই সপ্তাহেই মামলাটি উচ্চ আদালতের বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ও বিচারপতি মহঃ নিজামউদ্দিনের ডিভিশন বেঞ্চে উঠেছিল। শুল্ক দপ্তরের তরফে আইনজীবী ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য দু’সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি চলতে থাকায় বিচারপতিরা বেশি সময় দিতে নারাজ। তাই আজই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এদিন শুল্ক দপ্তরের বক্তব্য শোনার পর মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: ‘প্রচার না পেয়ে গুন্ডাদের দিয়ে হামলার নাটক করাচ্ছে’, নাম না করে নাড্ডাকে কটাক্ষ মমতার]
মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। ওই বছরের ১৬ মার্চ রুজিরা ও তাঁর দিদি মেনকা গম্ভীর ব্যাংকক থেকে কলকাতায় ফেরেন। কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের করা মামলায় রুজিরা দাবি করেছিলেন, ওই দিন তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর শুল্ক দপ্তরের কর্মীরা তাঁর কাছে ‘ঘুষ’ চান। তিনি তা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে মালপত্র সমেত বিমানবন্দরের রেড চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের মালপত্র প্রথমে এক্স-রে মেশিন এবং পরে খুলে তল্লাশি করা হয়। কোনও ধরনের বেআইনি জিনিস বা নিষিদ্ধ পদার্থ তাঁদের কাছে পাওয়া যায়নি। তবে রুজিরা এবং তাঁর দিদির কাছে অতিরিক্ত পরিমাণ সোনা পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানায় গিয়ে শুল্ক কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ দায়ের করেন। তার ক’দিন পর ২৬ মার্চ দু’জনকে শুল্ক দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়। রুজিরার মামলার প্রেক্ষিতে শুল্ক দপ্তরের জারি করা ওই সমন খারিজ করে দেয় হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ।
[আরও পড়ুন: অর্থনীতি থেকে শিক্ষা, তৃণমূল জমানায় ১০ বছরে কী কী উন্নয়ন? রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ শাসক দলের]
বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের মামলার শুনানিতে শুল্ক দপ্তরের হয়ে বক্তব্য পেশ করেন আইনজীবী আমন লেখি। তাঁর সওয়াল, শুল্ক আইন অনুযায়ী, শুল্ক দপ্তরের কর্তারা মনে করলে কাউকে খানাতল্লাশি করতেই পারে। রুজিরাদেবীকে এই আইন অনুযায়ীই তল্লাশি করা হয়েছিল এবং আইন মেনেই তদন্তের পথে হেঁটেছে শুল্ক দপ্তর। সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁদের পাঠানো সমন ‘বেআইনি’ বলে খারিজ করার বিরোধিতা করে তাঁর পালটা প্রশ্ন, তাহলে কি শুল্ক দপ্তর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবে না? এরপর দুই বিচারপতি মামলাটি গ্রহণ করেন। তবে এখনই রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুল্ক দপ্তর সমন পাঠাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কারণ, ডিভিশন বেঞ্চ এদিন শুল্ক দপ্তর এবং রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় – দু’পক্ষেরই মতামত হলফনামা আকারে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি। ফের সওয়াল-জবাবের পর সমন নিয়ে বিচার করবে উচ্চ আদালত।