ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও প্রাচীন শাস্ত্রজ্ঞানের মূল উৎসগুলির মধ্যে অন্যতম পালি ভাষা এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। বৌদ্ধ সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস ও সমাজজীবনের অসংখ্য মূল্যবান তথ্য আজও সংরক্ষিত রয়েছে পালি ভাষার পাণ্ডুলিপির মধ্যে। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে একাধিক বিশেষ কোর্স চালুর কথা ঘোষণা করল ইন্ডাস ব্যান্ড ফাউন্ডেশন।
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, গবেষক ও হিস্টোরিওগ্রাফার সোমালি পান্ডার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাপলায়েড পালি (Applied Pali) এবং ম্যানুস্ক্রিপ্ট স্টাডি (Manuscript Study) বা পাণ্ডুলিপির পাঠোদ্ধারের উপর সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কোর্স চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়। ক্লাসরুম এবং অনলাইন দুই মাধ্যমেই এই পাঠক্রম পরিচালিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পালি ভাষা শুধুমাত্র একটি প্রাচীন ভাষা নয়, এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস, ধর্মীয় দর্শন এবং সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। একইভাবে পাণ্ডুলিপি বা ম্যানুস্ক্রিপ্টের অধ্যয়ন গবেষকদের সামনে উন্মোচন করে বহু অজানা তথ্য, যা ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, সমাজবিজ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে অত্যন্ত মূল্যবান।
ইন্ডাস ব্যান্ড ফাউন্ডেশনের দাবি, এই কোর্সগুলির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রাচীন জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত হবেন না, বরং পর্যটন, প্রত্নতত্ত্ব, মিউজিয়াম স্টাডিজ, আর্কাইভ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কলকাতার একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এই কোর্সগুলি পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সল্টলেক সেক্টর-৫-এ একটি বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ভর্তি ও অকাডেমিক কার্যক্রমের সমন্বয় করা হবে।
প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানভাণ্ডারকে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, পালি ও ম্যানুস্ক্রিপ্ট স্টাডির মতো বিষয়ের প্রসার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে এবং গবেষণার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে ইন্দাস ব্যান্ড ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে, বিশেষ করে দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান ও সাবলম্বী করার ক্ষেত্রে নিরলস কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মানবতা সম্মান গ্লোবাল (সামাজিক দায়বদ্ধতা বিভাগে) পুরস্কারে দেওয়া হল আন্তর্জাতিক যুব মার্গদর্শী ব্রহ্মাণ্ড প্রতাপ বড়ুয়া মহাশয়কে।
