রঙিন দুনিয়ার চাকচিক্যের আ়ড়ালে চাপা পড়ে যায় সেলিব্রিটিদের জীবনের বহু অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক। সাম্প্রতিক অতীতে কাপুরতনয়া করিশ্মা কাপুর প্রয়াত স্বামীর বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছিলেন। অভিযোগ, মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে অন্য পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার জন্য চাপসৃষ্টি করেছিলেন সঞ্জয়। এবার আমির খানের সৎ ভাই হায়দার আলি খানের বিরুদ্ধেও উঠল সেই একই অভিযোগ।
স্বার্থসিদ্ধির জন্য স্ত্রীকে পরিচালকদের সঙ্গে শারীরিক মিলনে বাধ্য করতেন হায়দার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন টেলি অভিনেত্রী ইভা গ্রোভার (Eva Grover)। একাধিক হিন্দি মেগার পরিচিতি মুখ ইভা। 'করিশ্মা কা করিশ্মা', 'রেডি'র মতো বহু প্রোজেক্টে কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু, বৈবাহিকজীবনে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। দাম্পত্য ছিল অত্যন্ত যন্ত্রনাদায়ক। ইভার মন্তব্যে তা একদম স্পষ্ট।
প্রকাশ্যে প্রাক্তন স্বামীর কুকীর্তি ফাঁস করে দেন। তৃতীয় পুরুষের সঙ্গে বিছানা ভাগ করার জন্য মারাত্মক চাপ দিতেন হায়দার। ইভার কথায়, "পরিচালক-প্রযোজকদের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ কাজ করতেন। আর আমাকে বিক্রি করতে রীতিমতো বলপ্রয়োগ করত। আমি যদি ওঁদের খুশি করতে পারি তাহলেই একমাত্র ও কাজ পাবে। অন্যথায় বেকারত্বের জীবন কাটাতে হবে।"
তিনি বলেন, "আমার কখনও কাজের অভাব হয়নি। কিন্তু, একটা সময় সংসার সামলাতে সমস্ত ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে ফেলেছিলাম। বাড়ি, গাড়ি সব বিক্রি করে দিয়েছিলাম। পরিবারের জন্য সমস্ত ত্যাগ স্বীকার করতেও রাজি ছিলাম। কিন্তু, যখন ও আমাকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতে দ্বিধাবোধ করল না তখন আমি আর পিছন ফিরে দোখিনি। নিজের স্বামী ইলেকট্রিক বিল মেটাতে, সন্তানের খরচ চালাতে স্ত্রীকে অন্য পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হতে উসকানি দেয় সেখানে বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্ককে অপমান করা হয়।"
Eva grover revealed a few things about her ex husband Haider Ali Khan, Aamir's Cousin
by u/NewThat1 in BollyBlindsNGossip
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে অভিনেত্রীদের কাছে কুপ্রস্তাব আসে সে কথা স্বীকার করেছেন ইভা। শুধু তাই নয়, যখন তিনি এধরনের প্রস্তাব পেয়েছেন তখন হায়দার সেই অন্ধকারে স্ত্রীকে ঠেলে দিতে বিন্দুমাত্র সংকোচ করতেন না। এধরনের মানসিকতার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন ইভা। তাই অগত্যা ঘর সংসার ত্যাগ করেন। আর কখনও ফিরে যাওয়ার কথা ভাবেননি। বিয়ের পর বহুবারতাঁর গায়ে হাত তুলেছেন হায়দার। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তেন।
সৎ ভাইয়ের সঙ্গে আমির
বর্তমানে খানদান পরিবারের ছেলের অত্যন্ত করুণ পরিণতি। সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হায়দার আলি খান। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত প্রাক্তন স্ত্রী। কিন্তু, তাঁর দাবি বিয়ের সময় এসব তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অজানা ছিল। হায়দারে কথা বলতে গিয়ে ইভার সংযোজন, "হায়দারের জীবন এখন অত্যন্ত কষ্টের। নিজের কোনো বাড়ি নেই, খাবারের জন্যও সংগ্রাম করতে হয়। কখনও পরিচিত কারও কাছে, কখনও কোনো বন্ধুর সহায়তায় কোনওক্রমে দিন গুজরান। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যেও মানবিক দিক থেকে খারাপ লাগে। আশা করি জীবনের শেষ সময়ে হায়দার যেন শান্তি পান।"
