যে নন্দন অনীক দত্তকে ফিরিয়েছে বারবার, সেই প্রেক্ষাগৃহেই এবার মুক্তির আলো দেখতে চলেছে তাঁর সিনেমা। আগামী ৫ জুন নন্দনে রিলিজ করছে 'অপরাজিত'। সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালি' তৈরির নেপথ্য সংগ্রাম দেখিয়ে ২০২২ সালে শুধু বাঙালি দর্শক নয়, বাংলার গণ্ডি পেরিয়েও প্রশংসা অর্জন করেছিলেন অনীক। কিন্তু বছর চারেক আগে সেই সিনেমা ঠাঁই পায়নি নন্দনে। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর অনীক দত্তকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে সেই 'অপরাজিত'কেই সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনতে চলেছে বিজেপি সরকার।
সেই নন্দন চত্বরেই শেষবারের মতো অনীক দত্তকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীরা সমস্বরে 'অপরাজিত'কে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান এবং অনীকর 'মাণিক' জীতু কমলের আর্জিতে সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এ যেন এক অদ্ভুত সমাপতন। জীবদ্দশায় যাঁর ছবি নন্দনে ঠাঁই পায়নি, মৃত্যুর পরে তাঁর নিথর দেহই শায়িত ছিল সেই প্রেক্ষাগৃহ চত্বরে। ২০১৯ সাল, ১৫ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার মুক্তি পেয়েছিল ‘ভবিষ্যতের ভূত’। কিন্তু সেদিন নন্দনে ঠাঁই পাননি অনীক দত্ত! বলা ভালো, ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পোস্টার আস্ফালনের প্রতিবাদের জেরেই সরকারি প্রেক্ষাগৃহের পর্দায় প্রদর্শিত হয়নি তাঁর সিনেমা। অঘোষিত 'ব্যান'-এর খাঁড়া নেমে আসে অনীক দত্তর উপর। সাত বছর বাদে, ২৯ মে, সেদিনও ছিল আরেক শুক্রবার। সেই নন্দন চত্বরেই শেষবারের মতো অনীক দত্তকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীরা সমস্বরে 'অপরাজিত'কে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান এবং অনীকর 'মাণিক' জীতু কমলের আর্জিতে সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রযোজক ফিরদৌসুল জানিয়েছেন, পরিচালক অনীক দত্তকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে নন্দনে আগামী ৫ই থেকে ৭ই জুন দেখানো হবে 'অপরাজিত'। বুধবার থেকে বুক মাই শো'তে টিকিট কাটতে পারবেন দর্শক।
'অপরাজিত'র প্রত্যাবর্তনে কী বলছেন জীতু কমল?
'অপরাজিত'র প্রত্যাবর্তন নিয়ে কী বলছেন জীতু কমল? সংবাদ প্রতিদিন-কে অভিনেতা জানালেন, "মুখ্যমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আমি নিজে শুভেন্দুবাবুকে মেসেজ করেছিলাম। মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যেই উত্তর পেয়েছি। এই ফেরাটা আমার কাছে অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! প্রযোজনা সংস্থার পাশাপাশি আমি নিজেও মেইল করেছিলাম। অনীকদা যেদিন চলে গেলেন, তার পরের দিনই বৃহস্পতিবার আমি মেসেজ করি মুখ্যমন্ত্রীকে। উনি তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাকে জানান যে, প্রযোজক এবং পরিচালকের পরিবার যদি রাজি থাকেন, তাহলে অবশ্যই 'অপরাজিত'কে ফেরানো যেতে পারে। সেই প্রেক্ষিতে সোমবার আমি ফের একবার খোঁজ নিই। আর চব্বিশ ঘণ্টা পেরতে না পেরতেই আজ জানানো হল 'অপরাজিত' ফিরছে।" যদিও 'অপরাজিত' সহ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি জীতু তবে অভিনেতার সংযোজন, "এদিন প্রেক্ষাগৃহে আমরা অনীকদাকে স্মরণ করব। আমিও উপস্থিত থাকব। এবার দর্শক দেখে বলুক, এই ছবিটা শুধু নন্দন নয়, সমস্ত সরকারি প্রেক্ষাগৃহে চলা উচিত ছিল। অনীকদার চলে যাওয়াটা আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি।" 'অপরাজিত'র প্রত্যাবর্তনের খবরে খুশি চঞ্চল চৌধুরীও। বাংলাদেশ থেকে প্রযোজককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
