দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের দাবি দাওয়া মানতে সরকার যে আন্তরিক সেটা আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশাল মিডিয়ায় মোদির বার্তা, 'ছাত্রদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে কিছুই নয়। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করবে না সরকার। দেশের যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্য।' তবুও আন্দোলন অব্যাহত। পড়ুয়াদের সমর্থনে সুর চড়ালেন বলিউডের তরুণ প্রজন্ম। সেই তালিকায় রয়েছেন অনন্যা পাণ্ডে, সারা আলি খানের মতো সেলিব্রিটিরা। এছাড়াও মুখ খুলেছেন নবাব বেগম করিনা কাপুর খান, বরুণ ধাওয়ান।
বলিউড তারকাদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত 'মৌন' বলিউডের 'মস্তানি' দীপিকা পাডুকোন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে সমাজকর্মী ও চলচ্চিত্র জগতের একাধিক ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যে এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। পরীক্ষা ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিরুদ্ধেই এই আন্দোলনের ডাক। ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলনের সূচনা করলেও পরবর্তীতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ।
'ককরোচ'-এর বিক্ষোভ
সইফ কন্যা সারা হৃদয়বিদারক পোস্টে লিখেছেন, 'শিক্ষার্থীরাই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ, জাতির গর্ব। ওঁদের দৃঢ় সংকল্প নীরব অথচ নিভে না যাওয়া শিখার মতো। যা আমার চোখে জল এনে দেয়। এই দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় সত্যিকারের দেশপ্রেম সেই সাহসী হৃদয়গুলোতেই বাস করে যারা নিজেদের লক্ষ্যে মেরুদণ্ড সোজা রেখে লড়াই করে।'
পড়ুয়াদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ
সারা আরও লেখেন, 'নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় ওঁদের সাহস সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। সম্মিলিত বিবেককে জাগিয়ে তোলার এক শক্তিশালী আহ্বান। আমাদের উচিত ওঁদের কথা শোনা। আন্তরিকভাবে পাশে থাকা এবং একসঙ্গে পথচলা। ওদের স্বপ্ন আমাদের স্বপ্নের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমাদের স্বপ্নও কিন্তু ওঁদের স্বপ্নতেই বেঁচে আছে। দেশপ্রেমিক হিসেবে দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের সরকার অবশ্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। জয় হিন্দ।'
যুবসমাজের পাশে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে অনন্যার বর্তা, 'জেন জি সেই প্রজন্ম যাঁরা আর এভাবেই তো সবসময় হয়ে এসেছে, এই যুক্তি মেনে নিতে রাজি নয়। প্রশ্ন করা অসম্মান নয়। নিজের কথা বলা বিদ্রোহ নয়। আশা-ভরসা একটাই, সবকিছু আরও ভালো হতে পারে। আর পরিবর্তনের শুরু সেখান থেকেই। আমি আমার দেশকে এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসি। জয় হিন্দ।'
করিনার বক্তব্যেও রয়েছে সেই একই দৃষ্টিকোণ। বেবোর মতে, চোখের সামনে এমন ঘটনা দেখে চুপ থাকা সম্ভব নয়। একটি শিশুর জীবনে শিক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটাই ব্যক্ত করেছেন করিনা। স্পষ্ট বক্তব্য, শিক্ষা তখনই কার্যকর হয়, যখন শিশুরা তার ওপর বিশ্বাস রাখে। কিন্তু, যে মুহূর্ত শিক্ষার উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে যায় তখন কঠোর পরিশ্রম এবং যোগ্যতার আর কোনও মূল্য থাকে না। মুখ খুলেছেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানও।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন বলিউডের বিতর্কিত অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত। ছাত্রসমাজের বর্তমান পরিস্থিতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী। যুবসমাজের আন্দোলনকে পয়লা দিন থেকেই সমর্থন করছেন রাখি। নিজের হাতে সোনম সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহার করানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন।
