ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)। বিজেপি-কংগ্রেসের জনপ্রিয়তাকে টেক্কা দিয়ে এই নয়া 'রাজনৈতিক দলে'ই বর্তমানে মজে আসমুদ্রহিমাচলের আট থেকে আশির প্রজন্ম। এই 'ককরোচ গ্যাং'য়ের আবির্ভাব 'জেন জি'র হাত ধরে হলেও উন্মাদনা কিন্তু নানা প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিজেপি-কংগ্রেস নয়, এই 'দলে'ই বর্তমানে ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা। যে তালিকায় সিনেদুনিয়ার সেলেবরা তো রয়েইছেন, উপরন্তু রাজনৈতিক ময়দানের চেনা ব্যক্তিত্বরাও যোগদানের ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন।
শুনানির সময় বিচারপতি বলেন, "বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করেন।" দেশের প্রধান বিচারপতির এহেন মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয় সোশাল মিডিয়ায়। বিতর্কও তুঙ্গে।
আপাতভাবে এটিকে রাজনৈতিক দল মনে হলেও বিষয়টা কিন্তু ঠিক সেরকম নয়। বলা যেতে পারে, এটি প্রতীকী বা ব্যঙ্গাত্মক 'রাজনৈতিক দল'। এহেন প্রতীকী প্রতিবাদের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। যা নিয়ে বিতর্কও তুঙ্গে। আদালতে শুনানির সময় বিচারপতি বলেন, "বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করেন।" দেশের প্রধান বিচারপতির এহেন মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয় সোশাল মিডিয়ায়। নিন্দায় সরব হন নেটভুবনের একাংশ। এরপরই নেট-মৌজায় 'ককরোচ জনতা পার্টি'র আবির্ভাব। যে প্রতীকী দলে মজে বলিউড সেলেবরাও। জন্মের পাঁচ দিনের মধ্যেই প্রত্যেক মিনিটে হুহু করে বাড়ছে এই জনতা দলের সদস্য সংখ্যা! বলা ভালো, অনুসরণকারী। কে নেই সেই তালিকায়? কীর্তি আজাদ, মহুয়া মৈত্রর মতো তৃণমূলের তাবড় সাংসদরা আগেই এই দলে নাম লেখানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন। এবার বলিউড তারকাদের হুড়মুড়িয়ে যোগদানের খবর প্রকাশ্যে। অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী দিয়া মির্জা, কঙ্কনা সেন শর্মা, এষা গুপ্তা, ফতিমা সানা শেখ, পরিচালক কুণাল কোহলি থেকে কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরাও রয়েছেন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র সোশাল সদস্যের তালিকায়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পরিসংখ্যান বলছে, ১৩.৯ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে এই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের। আর আত্মপ্রকাশের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে কংগ্রেস-বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা টপকে গেল ককরোচ জনতা পার্টি।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠতা অভিজিৎ দীপক। সূত্রের খবর, এর আগে তিনি আম আদমি পার্টি (আপ)-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে অভিজিৎ আপের হয়ে সমাজমাধ্যমে প্রচারের কাজ করেছিলেন। নয়া এই রাজনৈতিক ফ্রন্টটির আদর্শবাণী হল- ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, অলস। ইতিমধ্যেই তারা নিট কেলেঙ্কারি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদেও সরব হয়েছে। সেকারণেই সোশাল মিডিয়ায় হুহু করে বাড়ছে ফলোয়ার। যুবসমাজের এই উদ্যোগ অতি ক্ষুদ্র হলেও কিন্তু তুচ্ছ নয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পরিসংখ্যান বলছে, ১৩.৯ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে এই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের। এবার আত্মপ্রকাশের মাত্র পাঁচদিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা টপকে গেল ককরোচ জনতা পার্টি। বর্তমানে শাসক দল বিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৮.৭ মিলিয়ন অর্থাৎ ৮৭ লক্ষ। সেটার চেয়ে বেশি ফলোয়ার রয়েছে ককরোচ পার্টির। আপাতত ১ কোটি ২৮ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে তাদের। কংগ্রেসের ইনস্টাগ্রামে ১৩.২ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে, অর্থাৎ ১ কোটিরও বেশি। তাকেও ছাপিয়ে গেল 'ককরোচ জনতা পার্টি'র জনপ্রিয়তা। এবার খবর, 'ককরোচ জনতা পার্টি'র এক্স হ্যান্ডেল ব্লক করা হয়েছে।
