'হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে...', কবীর সুমনের গানের কথা কি এবার অরিজিৎ সিংয়ের জীবনে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হতে চলেছে? কানাঘুষো, এবার নাকি গিটারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ঝান্ডা উঠতে চলেছে প্লেব্যাক সম্রাটের হাতে! তাহলে কি এবার থেকে সুরেলা কণ্ঠে আমজনতার হয়ে দেশের হালহকিকত নিয়ে সওয়াল করবেন অরিজিৎ? কেরিয়ারের উচ্চমার্গে থাকা গায়কের আকস্মিক স্বেচ্ছাবসর নিয়ে এই মুহূর্তে নানান ত্বত্ত্ব চাউড় হয়েছে। এমন আবহেই সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের দাবি নিয়ে তোলপাড় বিনোদুনিয়া।
সর্বভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, অরিজিৎ সিং নাকি এবার রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন। তবে বিদ্যমান কোনও রাজনৈতিক দলে নাম লেখাচ্ছেন না গায়ক। বরং অরিজিৎ নাকি নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ওই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে এও বলা হয়েছে যে, রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনই ফাঁস করতে চাইছেন না অরিজিৎ। গায়কের ঘনিষ্ঠমহল থেকেই নাকি এমন খবর ফাঁস করা হয়েছে সর্বভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যমের কাছে। তাঁদের দাবি, প্লেব্যাক থেকে সরে এসে এবার নিজস্ব মিউজিক কম্পোজের পাশাপাশি রাজনীতির পথে পা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অরিজিৎ সিং। তবে গুঞ্জনের 'রথ' এখানেই থামেনি! এও শোনা যাচ্ছে যে, আগামিতে তিনি নাকি ভোটেও লড়বেন। সামনেই বাংলার বিধানসভা ভোট। সেদিকেই কি ইঙ্গিত করা হচ্ছে? যদিও এই বিষয়ে 'স্পিকটি নট' শিল্পী! তবে এহেন গুঞ্জন শুরু হতেই তোলপাড় বিনোদুনিয়া।
২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’-এর প্রতিযোগী হিসেবেই প্রথম সকলের নজর কাড়েন অরিজিৎ।
অরিজিতের মধ্যে অবশ্য বরাবরই প্রতিবাদী সত্ত্বা বিদ্যমান। কখনও শিল্পীদের পারিশ্রমিক ছাঁটাই নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি, তো কখনও বা আবার হিন্দি সিনেদুনিয়ার মিউজিক সংস্থাগুলির 'মাৎসান্যায়' প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। কোনও গান গেয়ে বিতর্কে জড়ালেও স্পষ্টভাষায় দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এহেন নির্ভীক, প্রতিবাদী অরিজিৎ সিং কি তবে এবার সত্যিই রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করতে চলেছেন? যদিও সময়ের গর্ভেই সেই উত্তর লুকিয়ে, তবে জনদরদী হতে গেলে যে কোনও রাজনৈতিক রং-দলের প্রয়োজন হয় না জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র 'সোমু' সেটা একাধিকবার প্রমাণ করেছেন মানুষের পাশে থেকে।
