পঁচিশ সালের ডিসেম্বর মাসেই জানা গিয়েছিল যে, 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' সিনেমার সুবাদে উইন্ডোজের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করতে চলেছেন অর্জুন চক্রবর্তী। এবার অভিনেতার লুক প্রকাশ্যে এনে কৌতূহলের পারদ চড়ালেন নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস দখলের প্রাক্কালে 'ফুল পিসি'র প্রথম চরিত্র পোস্টারেই যে পরিচালকদ্বয় শোরগোল ফেলে দিলেন, তা বলাই বাহুল্য।
"এই প্রথম বুঝলাম শিবপ্রসাদ অসাধারণ অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি অসাধারণ একজন পরিচালকও। কারণ আমি যে চরিত্রে রয়েছি সেটা ভীষণই কঠিন। এরকম ধরনের চরিত্রে এর আগে কোনওদিন অভিনয় করিনি। তবে নন্দিতাদি, জিনিয়া ওঁরা আমাকে খুব সাহায্য করেছে। চরিত্রটা এত ভালোভাবে স্কেচ করে দিয়েছিল যে...।"
ফ্যামিলি ড্রামার মোড়কে 'ফুল পিসি' সোহিনী সেনগুপ্তর গোয়েন্দাগিরির গল্প ফুটে উঠবে এই ছবিতে। এক অভিজাত পরিবারের অন্দরমহলের নানা গোপন কেচ্ছা-কাহিনি নিয়েই সাজানো হয়েছে চিত্রনাট্য। দিন কয়েক আগেই নারী দিবসে ছবির নারীচরিত্রদের লুক ফাঁস করেছিলেন পরিচালকদ্বয়। যেখানে জমিদার পরিবারের গিন্নি 'অদিতি', 'রাজলক্ষ্মী'র বেশে নজর কাড়েন রাইমা সেন এবং কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে নবপরিণীতা 'বিনিতা' বেশে শ্যামৌপ্তি মুদলি এবং 'পুতুল বাই'য়ের ভূমিকায় নজর কাড়েন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। পরিবারের গুরুজন হাসি দেবীর ভূমিকায় দেখা যায় অনামিকা সাহাকেও। এবার 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' সিনেমার প্রথম পুরুষ চরিত্রের লুক প্রকাশ্যে এল। যেখানে বরবেশে কৌতূহলের পারদ চড়ালেন অর্জুন চক্রবর্তী। ছবিতে মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেতাকে।
'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' ছবিতে অর্জুন চক্রবর্তী।
পোস্টারে দেখা যায়, বিয়ের আসরে আদ্যোন্ত বাঙালি বরবেশে অর্জুন চক্রবর্তী। মাথায় পাগড়ি, গলায় বরমালা, পরনে মসলিনের পাঞ্জাবি আর শাল। চোখেমুখে অদ্ভূত এক অভিব্যক্তি। যেন কোনও অশনি সংকেতের আভাস পেয়েছেন তিনি! আর সেই লুকই বলে দেয় মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর চরিত্র বহুস্তরীয় রয়েছে। সেটা ইতিবাচক না নেতিবাচক, গল্প এগনোর সঙ্গে সঙ্গেই বেশ বোঝা যাবে। 'ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড' ছবির সুবাদে এই প্রথমবার নন্দিতা-শিবপ্রসাদের পরিচালনায় অভিনয় করলেন অর্জুন চক্রবর্তী। কেমন অভিজ্ঞতা? অভিনেতার মন্তব্য, "উইন্ডোজ-এ আমার প্রথম কাজ। ৩২ বছর শিবুকে চিনি। ১৯৯৬ সালে ‘ঘুম নেই’ বলে একটি সিরিয়ালে আমরা একসাথে কাজ করেছিলাম। যেখানে ও আমার ছেলের ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় করেছিল। আর এই প্রথম বুঝলাম শিবপ্রসাদ অসাধারণ অভিনেতা হওয়ার পাশাপাশি অসাধারণ একজন পরিচালকও। কারণ আমি যে রোলটা করেছি সেটা ভীষণই কঠিন। এরকম ধরনের চরিত্রে এর আগে আমি কোনওদিন অভিনয় করিনি। তবে নন্দিতাদি, জিনিয়া ওঁরা আমাকে খুব সাহায্য করেছে। চরিত্রটা এত ভালোভাবে স্কেচ করে দিয়েছিল যে আমার কোনও অসুবিধে হয়নি। কারণ আমি ভীষণভাবে হোমওওয়ার্কে বিশ্বাসী। ওঁদের সঙ্গে কাজ করে আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। তার জন্যে থ্রি মাসকেটিয়ার্সকে (নন্দিতা রায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, জিনিয়া সেন) ধন্যবাদ। ওঁরা যদিও উচ্ছ্বসিত, তবে আমি খুব ভয়ে ভয়ে রয়েছি। দেখি, দর্শক কীরকম প্রতিক্রিয়া দেন। আশা করি, রেজাল্ট খারাপ হবে না।"
