দিন কয়েক ধরেই কন্নড় ছবি 'কেডি: দ্য ডেভিল'-এর আইটেম গান নিয়ে তোলপাড় (KD Song Row) নেটভুবন! যে গানের দৃশ্যে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির জেরে বিতর্কে জড়িয়েছেন নোরা ফতেহি (Nora Fatehi), সঞ্জয় দত্তও। শ্রোতামহলের একাংশের অভিযোগ, 'সারকে চুনার তেরি সারকে' গানের লিরিকস অশ্লীল-চটুল শব্দে ঠাসা। সম্প্রতি ওই গান নিয়ে আপত্তি তুলে নোটিস ধরিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বুধবার কন্নড় সিনেমার ওই 'যৌনইঙ্গিতমূলক' আইটেম নম্বর নিয়ে নিন্দার ঝড় সংসদেও। বিতর্কের আবহে নোরা ফতেহির নাচের প্রসঙ্গ তুলে এদিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সংসদেই 'নিষিদ্ধ' ঘোষণা করেন ওই চটুল গানটিকে।
"হিন্দি সংস্করণে এমন সব কথা ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অনুপযুক্ত। আর এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না। গানটি শোনার পর আমি পরিচালককেও জানিয়েছিলাম যে এটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আমি এই প্রজেক্ট থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিলাম। ভাগ্যিস বিতর্ক হয়েছে, তাই গানটি সরানো হল। নইলে আমি তো নেপোকিড নই বা আমার ক্ষমতার জোরও নেই। আমাদের মতামতও গুরুত্ব পায় না।..."
বুধবার লোকসভায় সমাজবাদী পার্টির সদস্য আনন্দ ভাদৌরিয়াই এপ্রসঙ্গ তোলেন। সেপ্রসঙ্গেই সংসদে দাঁড়িয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, "'সারকে চুনার তেরি সারকে' গানটিকে নিষিদ্ধ করা হল। আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই যে, ভারতের সংবিধান প্রণেতারা বাকস্বাধীনতার উপর যে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, আমাদের সেসব মেনে চলা উচিত। শিল্পীদের বাকস্বাধীনতা মানেই সীমাহীন মতামত প্রকাশ নয়! সমাজ ও সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে বাকস্বাধীনতাতেও লাগাম টানা উচিত।" আসলে 'কেডি: দ্য ডেভিল'-এর আইটেম গানে অশ্লীল শব্দ নিয়েই বিতর্কের ঝড়। গানের লিরিকসে 'পহেলে উঠালে, আন্দার ভো ডালে...', আবার কখনও বা 'চুসেগা ইয়া চাটেগা'র মতো কুরুচিকর দ্বৈত অর্থ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। একাংশ আবার গানের লিরিকসের পাশাপাশি বলিউডের বোল্ড বিউটি নোরা ফতেহির নাচের চটুল অঙ্গভঙ্গি নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন! তাঁদের দাবি, এহেন গানের শব্দ এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করছে। একাংশ আবার 'আবর্জনা' বলেও কটাক্ষ করলেন নোরা-সঞ্জয়ের আইটেম গানকে। কটাক্ষ করে কঙ্গনা রানাউতও বলেছেন, "বলিউড অশ্লীলতার সব মাত্রা ছাড়িয়েছে।" এদিকে বিতর্কে পড়ে গীতিকার রাকিব আলম বলছেন, তিনি কন্নড় ভাষা থেকে হিন্দিতে গানের লিরিকস অনুবাদ করেছেন মাত্র। তাঁর কোনও দোষ নেই। এবার কেন্দ্রের তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই মুখ খুলেলন নোরা ফতেহি।
নোরা-সঞ্জয়ের 'অশ্লীল' গানে ক্ষিপ্ত মানবাধিকার কমিশন। ছবি- সংগৃহীত
সংশ্লিষ্ট বিতর্কের জেরে মান খোয়াতে হচ্ছে অভিনেত্রীকেও। সেপ্রসঙ্গে উত্থাপন করেই এক ভিডিও বার্তায় নোরা জানান, "আমি এই গানটির শুটিং করেছিলাম তিন বছর আগে কন্নড় নামক একটি ভাষায়। যে সিনেইন্ডাস্ট্রিকে মূলত 'স্যান্ডালউড' বলা হয়ে থাকে। আমি কন্নড় ভাষা জানি না। নাচের কোরিওগ্রাফের সময় আমাকে অনুবাদ করে যা শোনানো হয়েছিল, সেখানে গানের কথায় কোনও অশ্লীলতা ছিল না। ওঁরা যা বুঝিয়েছিলেন, আমি সেটাই অনুসরণ করেছিলাম মাত্র। তবে এটাও ঠিক যে, আমি যেহেতু কন্নড় ভাষা বুঝি না, তাই ওঁদের উপরই ভরসা রাখতে হয়েছিল আমাকে। কিন্তু গানটির হিন্দি সংস্করণে এমন সব লিরিকস বা কথা ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অনুপযুক্ত। আর এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না। গানটি শোনার পর আমি পরিচালককেও জানিয়েছিলাম যে এটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আমি এই প্রজেক্ট থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিলাম। আপনারাও দেখেছেন এই গানের কোনও প্রচার আমি করিনি। কারণ আমার ভাবমূর্তিতে এর প্রভাব পড়ছে।" নোরা এও জানান যে, প্রথমত সঞ্জয় দত্তের মতো তারকার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারের সুযোগ এবং দ্বিতীয়ত বিগবাজেট সিনেমার আইটেম নম্বর বলেই তিনি এই গানে পারফর্ম করতে রাজি হয়েছিলেন। নায়িকার সংযোজন, "ভাগ্যিস বিতর্ক হয়েছে, তাই গানটি সরানো হল। নইলে আমি তো নেপোকিড নই বা আমার ক্ষমতার জোরও নেই। আমাদের মতামতও গুরুত্ব পায় না। তাই বিতর্কের জোরে গানটি নিষিদ্ধ হওয়ায় ভালোই হয়েছে একদিন থেকে।"
