১২ এপ্রিল, রবিবাসরীয় বেলায় ইহজগতের মায়া ত্যাগ করে অমৃত সুরালোকের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছেন আশা ভোঁসলে। শোকে মুহ্যমান 'অভিভাবকহীন' সঙ্গীতদুনিয়া। কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণে দেশজুড়েও শোকের আবহ। আন্তর্জাতিকমহল থেকেও শোকবার্তার ভিড়। এমন আবহে চর্চায় আশা ভোঁসলের বায়োপিক।
বিগত কয়েক বছর ধরেই বলিউডের পর্দায় জীবনীচিত্রের জোয়ার। কখনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কখনও ক্রীড়াদুনিয়া আবার কখনও বা গ্ল্যামারদুনিয়ার তারকাদের জীবনকাহিনি পর্দায় ফুটে উঠেছে। এবার আশা ভোঁসলের প্রয়াণের পর হিন্দি বিনোদুনিয়ায় তাঁর বায়োপিক নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আট দশকের বর্ণময় কেরিয়ার। ব্যক্তিগতজীবনে পদে পদে চ্যালেঞ্জ। ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় হাজার হাজার প্লেব্যাকের অধিকারী নাম লিখিয়েছিলেন গিনেস বুকেও। এহেন প্রবাদপ্রতীম শিল্পীর চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তোলা চারটিখানি কথা নয়। অতীতেও আশার বায়োপিকের কথা শোনা গিয়েছিল। সেসময়েই নিজের জীবনীচিত্রের জন্য দুই তাবড় নায়িকাকে নির্বাচন করে গিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে।
২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান- সংখ্যার নীরিখে যেমন বিস্ময়কর, তেমনই বৈচিত্র্যের দিক থেকেও অনন্য। শেষ বয়সেও থেমে থাকেননি। নতুন সঙ্গীতচর্চা, এমনকী অভিনয়েও হাতেখড়ি করে ফেলেছিলেন আশা ভোঁসলে। এহেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আশা ভোঁসলের বায়োপিকের জন্য দুঁদে অভিনেত্রীকেই যে প্রয়োজন, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু আশা ভোঁসলে নিজের বায়োপিকে কাকে দেখতে চেয়েছিলেন?
গানে-গানে নিজেকে বিচিত্র পথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন আশা।
খুব অল্প বয়সেই সঙ্গীত কেরিয়ার শুরু করেছিলেন আশা। কারণ পিতৃবিয়োগের পর লতা-আশা দুই বোনের কাঁধে সংসারের দায়িত্ব পড়েছিল। তবে একই পরিবারে জন্ম, একই পরিবেশে বড় হওয়া সত্ত্বেও আশা ভোঁসলের সুরেলা সফর কিন্তু সহজ ছিল না। একাধিকবার 'কোকিলকণ্ঠী দিদি' লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর তুলনা টানা হয়েছে। কিন্তু দুই বোনের গানের ঘরানা ছিল অনেকটাই ভিন্ন। মারাঠি ছবির গান দিয়ে সঙ্গীত সফরের শুরুয়াত করেছিলেন আশা। এরপর ধীরে ধীরে হিন্দি ছবিতে প্লেব্যাকের সুযোগ আসে। আশা যখন পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন, তখন দিদি লতা খ্যাতির শীর্ষে না পৌঁছলেও সঙ্গীতজগতে পায়ের তলার মাটি শক্ত করে ফেলেছিলেন। পাঁচের দশকে লতা যখন সাফল্যের শীর্ষে, তখন বোন আশা পার্শ্বচরিত্রদের কণ্ঠে গান গাওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন। লতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে এগিয়ে রাখতেন সঙ্গীত পরিচালকরা। প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল আশা ভোঁসলেকে। কিন্তু দিদি লতার খ্যাতির জেরে তাঁর সুর যেন হারিয়ে না যায়, তাই খুব কম সময়েই ভিন্ন ঘরানার গান গাইতে শুরু করেন আশা ভোঁসলে। সেই তালিকায় পপ, ক্যাবারে, গজল, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক গান, কী নেই? ওপি নায়ার থেকে শচীন দেব বর্মন, আর ডি বর্মনের মতো কালজয়ী সুরকারদের সঙ্গে কাজ করেছেন। সঙ্গীতের ইতিহাসে সর্বাধিক গান গাওয়ার জন্য ২০১১ সালে আশা ভোঁসলের নাম ওঠে বিশ্বরেকর্ডের খাতায়। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারেরও বেশি গান- সংখ্যার নীরিখে যেমন বিস্ময়কর, তেমনই বৈচিত্র্যের দিক থেকেও অনন্য। শেষ বয়সেও থেমে থাকেননি। নতুন সঙ্গীতচর্চা, এমনকী অভিনয়েও হাতেখড়ি করে ফেলেছিলেন আশা ভোঁসলে। এমনকী রন্ধন পটিয়সী হওয়ায় নিজের রেস্তরাঁও খোলেন। যেখানে টম ক্রুজ, ব্রেট লি'র মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতনামাসম্পন্নরা ভিড় জমাতেন ভারতীয় পদ চেখে দেখার জন্য। এহেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আশা ভোঁসলের বায়োপিকের জন্য দুঁদে অভিনেত্রীকেই যে প্রয়োজন, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু আশা ভোঁসলে নিজের বায়োপিকে কাকে দেখতে চেয়েছিলেন?
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, কঙ্গনা রানাউত। ছবি- সংগৃহীত
অতীতে বলিউড মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি গায়িকা জানান, "পর্দায় আমার চরিত্রে অভিনয় করার জন্য প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস-ই সবচেয়ে উপযুক্ত। কঙ্গনা রানাউতও অত্যন্ত দক্ষ অভিনেত্রী। আমার মনে হয়, তিনিও আমার চরিত্রের জন্য চমৎকার পছন্দ হতে পারেন ভবিষ্যতে। কিন্তু মনে হয় না, আমার জীবনের ওপর ভিত্তি করে কখনও কোনও সিনেমা তৈরি হবে।" যদিও আশা নিজে তাঁর বায়োপিক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে ভবিষ্যতে এই জীবনীচিত্র তৈরি হলে প্রিয়াঙ্কা কিংবা কঙ্গনার ডাক পড়ে কিনা? নজর থাকবে সেদিকে।
