সুরসম্রাজ্ঞী তিনি। সুরেলা কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ আট থেকে আশি। জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। সাফল্যের ঝুলিতে রয়েছে একাধিক পুরস্কার। তবে এত সাফল্যের মাঝেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন মা-ও। যাঁর কাছে গোটা পৃথিবী একদিকে। আর সন্তানের আবেগ, আবদার যেন মনের মণিকোঠায় আগলে রাখা ধন। তা এতটাই মূল্যবান যে ছেলের আবদার প্রভাব ফেলে তাঁর পোশাক পরিচ্ছদেও। তাই ছেলের মতো শাড়িও বড় প্রিয় ছিল আশার।
আশার (Asha Bhosle) মঞ্চে উপস্থিতিই যেন অন্যরকম। পাটভাঙা শাড়ি। তা হতে পারে কোনও সিল্ক। কাঞ্জিভরম থেকে পৈঠানি - কী ছিল না তাঁর কালেকশনে। সঙ্গে রংমিলান্তি ব্লাউজ। গলায়, হাতে মানানসই গয়না। সোনা থেকে মুক্তো সবই পরতে দেখা গিয়েছে আশাকে। হাতে আবার ব্রেসলেট। তাঁর সময়কার শিল্পীদের থেকে পোশাক আশাক যা কিছুটা অন্যরকম। মেকআপও করতেন আশা। কাজল, মাসকারা, লিপস্টিক - সবমিলিয়ে একেবারে উজ্জ্বল তিনি। নিন্দুকেরা অবশ্য কখনও কখনও তাঁর সাজপোশাক নিয়ে কটাক্ষের হাসি হেসেছেন। তবে তাতে কোনও সময় কান দেননি আশা। বরং একাধিক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর সাজগোজের কথা।
আশার পরনের শাড়িতে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট। আসলে আশা নিজেও সাক্ষাৎকার বলেছেন, শাড়ি তাঁর কাছে শুধুমাত্র পোশাক নয়। তাঁর কাছে শাড়ি মানে ভারতীয় সংস্কৃতির ইতিহাস। আবার এর সঙ্গে জুড়ে রয়েছে তাঁর ছেলে আনন্দের আবদার। আশা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে শাড়ি খুব পছন্দ করেন। ছোটবেলায় মাকে শাড়ি পরেই সবসময় দেখতে চাইতেন আনন্দ। সে কারণেই শাড়ি ছেড়ে আর অন্য কিছু পরার কথা নাকি ভাবেননি সুরসম্রাজ্ঞী।
বিদেশে কোথাও বেড়াতে গেলে অবশ্য মাঝেমধ্যে সালোয়ার, কামিজ পরেছেন। তবে তা হাতে গোনা কয়েকবার। আসলে একজন মায়ের কাছে, ছেলের আবদার পূরণের থেকে বড় আর কী-ই বা হতে পারে। তাই তো শেষযাত্রাতেও কফিনবন্দি আশা ভোঁসলের পরনে সবুজ সিল্কের শাড়ি। গলায় মুক্তোর হার। কপালে টিপ। ঠিক যেন আগের মতো। তাঁকে হারিয়ে শোকবিহ্বল অনুরাগীরা। স্বাভাবিকভাবেই শোকে কাতর তাঁর ছেলে আনন্দও।
