shono
Advertisement
Dev

'দেব ঈশ্বরতুল্য, পুনর্জন্ম হল', দু'বছর পর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পেয়ে আবেগপ্রবণ রূপটানশিল্পী সিমরণ

কর্মহীনতা-খুনের হুমকিতে জেরবার রূপসজ্জা শিল্পী সিমরণ পালের জীবন। অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনে আলোর দিশারী হয়ে কীভাবে ধরা দিলেন দেব? সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিমরণ বলেন, 'দেবদা আমার কাছে ভগবান। ওঁর জন্যই জীবনে নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।'
Published By: Kasturi KunduPosted: 03:30 PM Apr 13, 2026Updated: 05:30 PM Apr 13, 2026

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু তদন্তের মাঝেই 'পুর্নজন্ম' রূপটান শিল্পী সিমরণ পালের। দেবের (Dev) অনুগ্রহে দীর্ঘ দু'বছর কর্মহীন থাকার যন্ত্রণা ঘুচবে তাঁর। প্রসঙ্গত, রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর নেপথ্যে রহস্য উন্মোচনের লড়াইয়ে সামিল হয়েছিলেন সুপারস্টার দেব। গত মঙ্গলবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বৈঠক থেকে বেরিয়েই নিষিদ্ধ শিল্পীদের কাজে ফেরানোর জন্য 'ইন্ডাস্ট্রি' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে 'ডেডলাইন' বেঁধে দিয়েছিলেন টলিউড সুপারস্টার। সময় পেরনোর আগেই 'দেশু ৭'-এর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা করেছেন। শুধু অনির্বাণই নয়, দেবের অনুগ্রহে আরও একবার নতুনভাবে বাঁচার তাগিদ অনুভব করলেন সিমরণ পাল। একদিকে কর্মহীনতা তো অন্যদিকে প্রাণসংশয় নিয়ে মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। সোশাল মিডিয়ায় জীবনের করুণ পরিণতি নিয়ে মুখ খুলতেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন দেব।

Advertisement

শনিবার সিমরণের ভিডিওটি দেবের নজরে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় ভাগ করে সহযোগীতার আশ্বাস দেন। প্রথমে সিমরণ বিশ্বাস করতে না পারলেও অভিনেতার টিমের তরফে ফোন আসতেই স্বস্তি পেয়েছেন সিমরণ। সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে সিমরণ বলেন, "দেবদা আমার কাছে ভগবান। ওঁর জন্যই জীবনে নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। জীবনে অনেক উন্নতি হোক, ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক ঈশ্বরের কাছে আমি সেই প্রার্থনাই করব। আমার অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনে আলোর দিশারি দেবদা। অনেকদিন পর আবার নিজের পেশায় ফিরতে পারব, সেই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করছি।"

সিমরণ বলেন, "দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর ৭ এপ্রিল সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের বর্তমান পরিস্থিতিটা সকলকে জনাতে বাধ্য হই। এরপরই দেবদা যেন ভগবানের দূত হিসেবে আমার কাছে কাজের প্রস্তাব পাঠালেন।"

কর্মহীনতার যন্ত্রণা ভাগ করে সিমরণ বলেন, "এই দু'বছর কী মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি সেটা শুধু আমি জানি। স্বামী মারা যাওয়ার পর আমার বাবা যতদিন বেঁচে ছিলেন কিছু টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন। ভাড়া বাড়িতে থাকি, মাসোহারা তো দিতেই হবে। এরপর যখন মাথার উপর থেকে সেই ছাদটাও চলে গেল তখন আমি সামান্য কিছু কাজ করে আলুসিদ্ধ ভাতের যোগানটুকু করতে পারি। আমি দুই সন্তানের মা। সাহায্যের জন্য মেকআপ গিল্ডের শরণাপন্ন হয়েও আমাকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল। ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে চিঠি লিখেও কোনও লাভ হয়নি বরং খুনের হুমকি পেয়েছি। অগত্যা আমি গল্ফ গ্রিন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানাই। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর ৭ এপ্রিল সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে নিজের বর্তমান পরিস্থিতিটা সকলকে জনাতে বাধ্য হই। এরপরই দেবদা যেন ভগবানের দূত হিসেবে আমার কাছে কাজের প্রস্তাব পাঠালেন।"

ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন কাজ করার পর কেন আচমকা এই কর্মবিরতি? সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে সিমরণ অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে বলেন, "সেই উত্তরটা আজও অজানা। আমাকে কিন্তু শিল্পীরা ভালোবাসেন। সবসময় হাসিমুখে কাজ করতাম। তবে আমাকে কিন্তু, অনেকবার আকারে ইঙ্গিতে বোঝানো হয়েছিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রিয় না হলে কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু, আমি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে, প্রিয়-অপ্রিয় হওয়ার ইঁদুর দৌঁড়ে সামিল হতে পারিনি। তাছাড়া আমি সত্যিই জানি না, কীভাবে কারও প্রিয় পাত্রী হয়ে উঠতে হয়। তবে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বলতে পারি অনেক যন্ত্রণা সহ্য করে প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে জীবনের মর্মটা বুঝেছি। দেদার জন্য যে পুর্নজন্মটা হল সেটার জন্য ভগবানের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement