shono
Advertisement
BJP on AR Rahman

মুসলিম হওয়ায় বলিউডে কাজ পাচ্ছেন না রহমান! 'মাদ্রাজ মোজার্টে'র বিস্ফোরণে 'জল ঢালল' বিজেপি

বিজেপির শাসনকালে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির শিকার হয়ে 'বলিউডে কোণঠাসা', এআর রহমানের ঢিলে পালটা পাটকেল ছুঁড়ে কী বলল পদ্মশিবির?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 11:22 AM Jan 17, 2026Updated: 12:45 PM Jan 17, 2026

প্রায় সাড়ে তিন দশকের সঙ্গীত কেরিয়ার। বলিউড, দক্ষিণী সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে এআর রহমান যে বর্তমানে 'গোব্লাল', তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। হলিউডি সিনেদুনিয়ায় কাজের সুবাদে তাঁর হাতে উঠেছে অস্কার। ফি বছর সাধারণতন্ত্র দিবস হোক কিংবা স্বাধীনতাদিবস, যাঁর গাওয়া 'বন্দেমাতরম' গানে পাড়ার অলি-গলি থেকে ঠেক, দেশবন্দনায় মেতে ওঠে, সুরের মূর্ছনায় যিনি বিশ্ব আঙিনায় ভারতকে সম্মানিত করেছেন, সেই শিল্পীই কিনা হিন্দি সিনেদুনিয়ায় ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির শিকার? সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর দাবিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন এআর রহমান। 'মাদ্রাজ মোজার্ট' বলছেন, ধর্মীয় বিভাজন, অর্বাচীন ব্যক্তিত্বদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর থেকেই বলিউডে বহু কাজ হাতছাড়া হয়েছে তাঁর। এমন মন্তব্যের পরই সিনেদুনিয়া থেকে রাজনৈতিকমহলে হইচই পড়ে গিয়েছে।

Advertisement

বছরখানেক ধরেই ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির প্রতিবাদে সিনেইন্ডাস্ট্রির একাধিক ব্যক্তিত্বকে সরব হতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের নিশানায় যে গেরুয়া শিবির, তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। এবার বোমা ফাটালেন রহমান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন ছোঁড়া হয়েছিল, বলিউডে কখনও ভেদাভেদের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে? উত্তরে রহমান জানান, বিগত আট বছরে এক-এক করে বহু কাজ হারিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, 'মাদ্রাজ মোজার্ট' যে বলিউডের তুলনায় দক্ষিণী সিনেইন্ডাস্ট্রিতে বেশি কাজ করছেন, বছরখানেক ধরেই এমন ত্বত্ত্ব চর্চায়। কিন্তু কেন? এবার নেপথ্যের কারণ ফাঁস করলেন খোদ মিউজিক মায়েস্ত্রো। অস্কারজয়ী শিল্পীর মন্তব্য, "ক্ষমতার বদল হওয়ার পর থেকেই গত আট বছরে বলিউডে কাজের সুযোগ কমেছে। কারণ ক্ষমতা এখন তাঁদের হাতেই রয়েছে, যাঁরা সৃজনশীল নন। আবার ধর্মীয় বিভাজনের কারণও হতে পারে। যদিও একথাগুলো কেউ আমার মুখের উপর বলেনি, তবে আমার কানাঘুষো শোনা।" রহমানের এহেন মন্তব্যের পরই শোরগোল রাজনৈতিকমহলে। বিরোধী শিবিরগুলির নিশানায় বিজেপি। এপ্রসঙ্গে পদ্মশিবিরের কী মত?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আতাওয়ালের মন্তব্য, "রহমানের অভিযোগের সঙ্গে আমি একেবারেই একমত নই। এই ধরণের অভিযোগে কোনও সত্যতা নেই। হিন্দি সিনেদুনিয়ায় সলমন খান, শাহরুখ খান, এবং আমির খান-সহ মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক শিল্পী রয়েছেন, যাদের শুধু মহারাষ্ট্র কেন সারা ভূ-ভারতের মানুষ ভালোবাসেন।" অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র কুমার গোথওয়াল বলছেন, "যদিও বিষয়টা সিনেদুনিয়ার, তবে আমার মনে হয় বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বচ্ছভাবে কাজ করা হচ্ছে। আগে প্রায়ই কিছু নেতার সুপারিশে শিল্পীরা কাজ পেতেন। তবে এখন কোনও কারসাজি চলে না। বরং প্রতিভার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হচ্ছে।" এখানেই থামেননি তিনি। আরও একধাপ এগিয়ে বিধায়কের দাবি, "এহেন পরিবর্তনগুলোর কারণেই রহমান হয়তো অস্বস্তিবোধ করছেন।" মুখ খুলেছেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি সৈয়দ ভাষাও। রহমানের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, "রহমান বলছেন যে, তিনি বিজেপি সরকারের অধীনে নাকি কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। কিন্তু এটা মোটেই সত্যি নয়। নইলে ১৯৯২ সাল থেকে 'স্লামডগ মিলিয়নেয়ার', 'মাদ্রাজ ক্যাফে'র মতো বড় হিট দিতে পারতেন না। এবং সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতেই ২০২২ সালে সেরা সঙ্গীতের জন্য জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।" সবমিলিয়ে বিজেপির শাসনকালে রহমানের বলিউডে কোণঠাসা হওয়ার 'ত্বত্ত্বে' শোরগোল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement