সঞ্জয় কাপুরের (Sunjay Kapur) মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর ৩০ হাজার কোটির সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ। সোনা কমস্টার কোম্পানির মালিকানা এবং এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উত্তরাধিকার কে হবেন? তা নিয়েই গোল বেঁধেছে কাপুরদের অন্দরমহলে। যদিও ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, বিবাহ বিচ্ছেদের সময় ৭০ কোটি টাকা খোরপোশ নেওয়ায় এই সম্পত্তির কানাকড়িও পাবেন না করিশ্মা কাপুর। সেক্ষেত্রে কোম্পানির নতুন ‘মালিক’ হিসেবে সঞ্জয়ের মা রানি কাপুর এবং দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়া সচদেবের নাম শোনা গিয়েছিল। যার জেরে মাস কয়েক আগেই বাবার সম্পত্তির ভাগ চেয়ে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন করিশ্মার দুই সন্তান সামাইরা এবং কিয়ান। এবার সেই প্রেক্ষিতেই বড় রায় দিল আদালত।
'সৎ মা' প্রিয়া সচদেবের বিরুদ্ধে সঞ্জয় কাপুরের প্রথম পক্ষের সন্তানদের অভিযোগ, তিনি সঞ্জয়ের করে যাওয়া দলিল জাল করেছেন। এমনকী জালিয়াতি করে বানানো নতুন উইলে সম্পত্তির পুরো তালিকাও দেননি।
সতীন প্রিয়া, সঞ্জয় কাপুর-সহ সপরিবারে একফ্রেমে করিশ্মা কাপুর। ছবি- সংগৃহীত
সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিগত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার আদালতে ছুটতে হয়েছে করিশ্মা কাপুর এবং তাঁর দুই সন্তানকে। 'সৎ মা' প্রিয়া সচদেবের বিরুদ্ধে সঞ্জয় কাপুরের প্রথম পক্ষের সন্তানদের অভিযোগ, তিনি সঞ্জয়ের করে যাওয়া দলিল জাল করেছেন। এমনকী জালিয়াতি করে বানানো নতুন উইলে সম্পত্তির পুরো তালিকাও দেননি। তাঁদের দাবি, ওই তালিকায় বাবা সঞ্জয় কাপুরের মালিকানাধীন দামি পোলো ঘোড়া এবং অডেমার্স পিগুয়েট ও রোলেক্সের মতো নামী ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল হাতঘড়িগুলোর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আর সেইজন্যই দলিল এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনওরকম নথিপত্র হাতে দেওয়া তো দূর অস্ত, বানানোর আগে দেখানো পর্যন্ত হয়নি করিশ্মা এবং তাঁর দুই সন্তান সামাইরা-কিয়ানকে। আদালতের কাছে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিল সঞ্জয়-করিশ্মার সন্তানরা। এবার সেই প্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার দিল্লির উচ্চ আদালতের তরফে জানানো হল, সঞ্জয় কাপুরের বিদেশের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপাতত নন-অপারেশনাল থাকবে। অর্থাৎ প্রয়াত ব্যবসায়ীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আর কোনও লেনদেন করতে পারবেন না প্রিয়া সচদেব। আদালতের এই সিদ্ধান্ত যে সামাইরা এবং কিয়ান কাপুরের ভবিষ্যৎ অধিকার রক্ষায় বড় পদক্ষেপ, তা বলাই বাহুল্য।
একইসঙ্গে প্রিয়া সচদেব কাপুর যাতে ওই সম্পত্তিগুলো কোনওভাবেই বিক্রি না করতে পারে, তাতে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশও জারি করেছে। পাশাপাশি সঞ্জয়ের উইল নিয়ে যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে, তা নিরসনের দায়ভার যে সম্পূর্ণভাবে প্রিয়া কাপুরের উপরই বর্তায়, সেকথাও জানিয়েছে আদালত।
আদালতের তরফে এও জানানো হয়েছে যে, সঞ্জয় কাপুরের সম্পত্তি অবশ্যই সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং এগুলো কোনওভাবেই হস্তান্তর কিংবা নষ্ট করা যাবে না। একইসঙ্গে প্রিয়া সচদেব কাপুর যাতে ওই সম্পত্তিগুলো কোনওভাবেই বিক্রি না করতে পারে, তাতে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশও জারি করেছে। পাশাপাশি সঞ্জয়ের উইল নিয়ে যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে, তা নিরসনের দায়ভার যে সম্পূর্ণভাবে প্রিয়া কাপুরের উপরই বর্তায়, সেকথাও জানিয়েছে আদালত। ফলত, এই রায় যে করিশ্মা কাপুরের দুই সন্তান সামাইরা এবং কিয়ানকে বড় স্বস্তি দিল, তা বলাই বাহুল্য।
