২০০ কোটি টাকা আর্থিক তছরুপ মামলায় ঠগ সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে একই দোষে দুষ্ট শ্রীলঙ্কান বিউটি জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজও (Jacqueline Fernandez)। মামলা চলাকালীন সাম্প্রতিক অতীতে ইডি দাবি করেছিল, সুকেশের সমস্ত দুর্নীতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং জেনে বুঝেই কালো টাকা নিয়ে ফূর্তি করেছেন জ্যাকলিন! অভিনেত্রী বারবার দাবি করেছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর নাকি তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। এবার সেই ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের নির্দেশ দিল্লির আদালতের। শুধু জ্যাকলিনই নন এই তলিকায় রয়েছেন অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর, তাঁর স্ত্রী সহ আরও ১৪ জন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মামলার বিচারপর্ব যে জোরকদমে শুরু হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।
শনিবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টের তরফে জানানো হয়, ইডির তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে জ্যাকলিনসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হবে। আগামী ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চার্জশিটে স্বাক্ষর হওয়ার কথা। অতিরিক্ত সেশনস বিচারক প্রশান্ত শর্মার বক্তব্য, “মামলার নথি ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে অভিযুক্তরা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা প্রয়োজন।” আদালত সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীর ভেক ধরে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সংগঠিত অপরাধ ও বেআইনি সম্পদ রাখার অভিযোগে মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট (এমসিওসিএ)-এর ধারায় অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইডির অভিযোগ, সুকেশের অপরাধ জানার পরও জ্যাকলিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মামলাটি এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছাল তা বলাই বাহুল্য। অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারপর্ব শুরু হবে।
আদালত সুকেশের স্ত্রী লীনা মারিয়া পল এবং আরও ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দণ্ডবিধি, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও এমসিওসিএ-এর ধারায় চার্জ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করেছিল ইকোনমিক অফেন্সেস উইং। প্রসঙ্গত, এমসিওসিএ বা মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট ১৯৯৯ সালে প্রণীত একটি আইন, যার উদ্দেশ্য সংগঠিত অপরাধচক্র ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা। এই আইন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয় যাতে সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ
মামলার সূত্রপাত বোশ কয়েক বছর আগে। অভিযোগ, দিল্লির তিহার জেলে বন্দিদশা অবস্থায় সুকেশ চন্দ্রশেখর প্রাক্তন র্যানব্যাক্সি কর্তা শিবিন্দর সিংয়ের স্ত্রী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, সুকেশ নিজেকে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সহযোগীদের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই প্রতারণা চালিয়েছিলেন। তদন্তের সময় উঠে আসে সুকেশের প্রেমিকা জ্যাকলিনের নাম। ইডির অভিযোগ, সুকেশের কাছ থেকে একাধিক দামি উপহার নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। আর সেই উপহারগুলো কালো টাকারই অংশ। যদিও চল্লিশ বছর বয়সী জ্যাকলিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ বারবার নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
আরও বিপাকে জ্যাকলিন!
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্যাকলিন এই চলমন মামলায় ‘অ্যাপ্রুভার’ অর্থাৎ সরকারি সাক্ষী হওয়ার আবেদন করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর কাছে মজুত আছে। যদিও ইডি সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। বরং ইডির অভিযোগ, সুকেশের অপরাধ জানার পরও জ্যাকলিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মামলাটি এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছাল তা বলাই বাহুল্য। অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারপর্ব শুরু হবে।
