বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০০ কোটির ব্যবসা করা 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ' নিঃসন্দেহে ছাব্বিশের প্রথমার্ধের 'বক্স অফিসের বাপ'! আর সিক্যুয়েলের এহেন মারকাটারি সাফল্যের মাঝেই গত এপ্রিল মাসে আদিত্য ধর পরিচালিত সিনেমার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনে ত্রিমূর্তি ফিল্মস। 'ওয়ে ওয়ে' গানের জেরে আইনি গেরোয় পড়তে হয় রণবীর সিংয়ের ব্লকবাস্টার ছবিকে। আদিত্যর প্রযোজনা সংস্থা বিসিক্সটিটু স্টুডিওর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল ত্রিমূর্তি ফিল্মস। এবার সংশ্লিষ্ট মামলাতেই দিল্লি হাইকোর্ট একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করল।
অভিযোগ, "'ওয়ে ওয়ে' গানটি ব্যবহার করার আগে আমাদের তরফে কোনও অনুমতিই নেওয়া হয়নি। এই গানের স্বত্ব পুরোপুরি আমাদের। তাই অনুমতি ব্যতীত গানটি ব্যবহার করে 'ধুরন্ধর' নির্মাতারা কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছেন।" পাশাপাশি সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা কোনওরকম প্রচারঝলকে যাতে আর 'ওয়ে ওয়ে' গানটি ব্যবহার না করতে পারেন 'ধুরন্ধর' নির্মাতারা, সেই নিষেধাজ্ঞা জারির আর্জিও জানিয়েছিল মামলাকারী প্রযোজনা সংস্থা।
'ধুরন্ধর ২' পরিচালক আদিত্য ধর?
গোড়া থেকেই চর্চায় রণবীর সিং অভিনীত ছবির গান। কারণ গল্পের সময়কাল, প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে 'ধুরন্ধর' ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আট-নয়ের দশকের একাধিক হিট গান ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও সেই রিমেক সংস্করণ নিয়ে এযাবৎকাল আপত্তি ওঠেনি কিংবা অনেকেই নস্ট্যালজিয়ায় ভেসে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন, তবে এপ্রিল মাসে 'ধুরন্ধর ২'-এর 'ওয়ে ওয়ে' গানটি নিয়ে আইনি বিপাকে পড়েন নির্মাতারা। আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থা বিসিক্সটিটু স্টুডিওর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ত্রিমূর্তি ফিল্মস। তাঁদের অভিযোগ, "'ওয়ে ওয়ে' গানটি ব্যবহার করার আগে আমাদের তরফে কোনও অনুমতিই নেওয়া হয়নি। এই গানের স্বত্ব পুরোপুরি আমাদের। তাই অনুমতি ব্যতীত গানটি ব্যবহার করে 'ধুরন্ধর' নির্মাতারা কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছেন।" এই মর্মে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থার তরফে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল ত্রিমূর্তি ফিল্মস। পাশাপাশি সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা কোনওরকম প্রচারঝলকে যাতে আর 'ওয়ে ওয়ে' গানটি ব্যবহার না করতে পারেন 'ধুরন্ধর' নির্মাতারা, সেই নিষেধাজ্ঞা জারির আর্জিও জানিয়েছিল মামলাকারী প্রযোজনা সংস্থা। শুক্রবার সেই মামলার রায় দিতে গিয়েই মধ্যপন্থা অবলম্বন কর আদালত।
'ধুরন্ধর ২'-এর দৃশ্যে রণবীর সিং।
দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি তুষার রাও গেডেলা জানান, 'ধুরন্ধর ২' সিনেমার ওটিটি স্ট্রিমিং এবং প্রচারঝলকে গানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার প্রয়োজন নেই। তবে সুপার ক্যাসেটস (টি-সিরিজ)-কে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারী সংস্থাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে। অতঃপর 'ধুরন্ধর ২'-এর ওটিটি রিলিজের ক্ষেত্রে যে আর বাধা থাকল না, তা বলাই বাহুল্য। ১৯৮৯ সালে রাজীব রাই পরিচালিত 'ত্রিদেব' ছবির 'ওয়ে ওয়ে' গানটি দর্শক-শ্রোতামহলে ঝড় তুলে দিয়েছিল। গানের দৃশ্যায়নে ছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ এবং সোনম। চার দশক পেরিয়ে 'ওয়ে ওয়ে' গানটি আজও সমানভাবে সুপারহিট। আটের দশকের গানটির এহেন তুমুল জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করেই 'ধুরন্ধর' সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে রিমেক সংস্করণ ব্যবহার করা হয়। আর তাতেই বেজায় চটে 'ত্রিদেব' ছবির প্রযোজনা সংস্থা ত্রিমূর্তি ফিল্মস। যার জেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তাঁরা। তবে এবার 'ধুরন্ধর'-এর ওটিটি মুক্তিতে শাপমোচন ঘটল।
