এখন কী মনে হচ্ছে, অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল?
- (হাসি) খুব কঠিন সিদ্ধান্ত, তবু নিতে হল, কারণ চারিদিকে যা চলছে। দ্রুত এই ঘুঘুর বাসা ভাঙতে হবে। সাংস্কৃতিক জায়গা থেকে শুরু করে, সব দিক থেকে। ইউনিয়ন রুম বানিয়ে দিয়েছে ঝান্ডা লাগিয়ে, যেখানে আমাদের কালচারাল জায়গা ছিল।
বিজেপি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ছুঁতমার্গ ছিল। কাটল কীভাবে, কী মনে হয়?
- লোকজন এখন পাগল হয়ে গেছে। ছুঁতমার্গ আর নেই। অন্যান্য রাজ্যের চিত্রটাও তো দেখেছে। এখানে হিন্দু-মুসলমানের অবস্থান যেমন ছিল, তার থেকে অন্যান্য জায়গায় মুসলমানরা ভেরি ওয়েল প্লেসড অ্যান্ড অ্যাপয়েন্টেড। তারাও বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। বাম-তৃণমূলের লোকেরাও ভোট দিয়েছে। নয়তো এই জয় আসত না। আমার কেন্দ্রে বিরোধী বলেছিলেন, ১১১ থেকে ১১৪ নম্বর ওয়ার্ড তাকে জিতিয়ে দেবে। দেখা গেল ওই কটা ওয়ার্ডই ধড়াস করেছে। রাস্তাঘাট তৈরি করে দেননি, স্কুল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর কী কী বলব।'
সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরু দু’পক্ষ সমান গুরুত্ব পাবে তা হলে?
- একদম। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কিচ্ছু নেই।
"নইলে আমার মতো দাপুটে অভিনেত্রীকে সরে যেতে হয়! টালিগঞ্জের ক্ষতি করেছে। কিন্তু মানুষের মনের মধ্যে আমি তো পড়ে আছি। মানুষ জানতে চেয়েছে, কেন কাজ করতে পারছি না। মানুষের চাহিদা তো বুঝতে হবে। সেটা বোঝে না বলে প্রাইম টাইমে বাংলা সিনেমা ঢুকিয়েছে, আগে বাংলা সিনেমাকে ওই লেভেলের হতে হবে।..."
আঁচ করেছিলেন টালিগঞ্জে এমন 'জায়ান্ট কিলার' হয়ে উঠবেন?
- আমি গোড়া থেকেই জানতাম ওদের হারিয়ে দেব। কারণ, এত মানুষের সাড়া পেয়েছিলাম। মানুষ ওদের বিরাধী হয়ে গেছে। শুধু আলো দিয়ে সাজালে তো হবে না। এই আলোর ব্যবসাটা তো ওরা করে।
বাম মনস্ক এবং তৃণমূল পন্থীরাও কি কাজ পাবেন টলিউডে? অভিযোগ, একসময় রুদ্রনীল ঘোষ কাজ পাননি।
- ওদের ব্যাপার আলাদা, ওদের আপনি-কোপনি সংসার। শুধু আমি আর তুমি, আর কেউ নয়। নিরপেক্ষ দেশ আমাদের। মোদিজি তো সকলের জন্য করেছেন। শুধু যাঁরা বিজেপি করেন তাঁদের জন্যই নয়, সকলের জন্য করেছেন। ওঁরা নিজেদের মধ্যেও কাজ করেননি, তাই জন্য এত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।
পাপিয়া অধিকারী।
ইন্ডাস্ট্রিতে পলিটিকাল ইন্টারফেয়ারেন্স আসবে না বলছেন?
- আবার বলছি, ওরা বিভিন্ন কালচারাল জায়গায় ইউনিয়ন করে ঝান্ডা লাগিয়ে দিয়েছে। এই রাজনীতিকরণ একেবারে বন্ধ করতে হবে। এরকম চলতে পারে না। মানুষের জন্য কাজ করো। মাস্তানি, মাফিয়াগিরি, সিন্ডিকেট রাজত্ব করবে, তা হলে হবে না।
একসময় দাপটে অভিনয় করেছেন। পরের দিকে কাজ করেননি। অল্প সিনেমা-সিরিয়ালে দেখা গেছে আপনাকে। ধীরে ধীরে সরে গিয়েছেন। কেন?
- আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নইলে আমার মতো দাপুটে অভিনেত্রীকে সরে যেতে হয়! টালিগঞ্জের ক্ষতি করেছে। কিন্তু মানুষের মনের মধ্যে আমি তো পড়ে আছি। মানুষ জানতে চেয়েছে, কেন কাজ করতে পারছি না। মানুষের চাহিদা তো বুঝতে হবে। সেটা বোঝে না বলে প্রাইম টাইমে বাংলা সিনেমা ঢুকিয়েছে, আগে বাংলা সিনেমাকে ওই লেভেলের হতে হবে। ‘ধুরন্ধর’ যেখানে হয়, সেখানে তো অন্য যে কোনও ছবি মার খেয়ে যাবে। এগুলো বোকার মতো সিদ্ধান্ত। উনি কালচারের কিছু বোঝেন না। উনি গানবাজনা করতে ভালোবাসেন। ঠিক আছে, উনি নিজের ভালোবাসায় করেছেন, কিন্তু বুঝতেন না। আমার মনে হয়, শি হ্যাড বিন ভিক্টিমাইজড বাই অল অপারচুনিস্ট। এখন এটা মনে হয়।
"কালকে আমাদের কনস্টিটিউশনের বই দিয়েছে, ওঁদেরও নিশ্চয়ই দিয়েছে। ওঁরা স্টাডি করুন। আমি গতকাল থেকেই পড়তে শুরু করে দিয়েছি। ইউ মাস্ট স্টাডি। আমি বলছি না, ডিগ্রিতে শিক্ষিত হও, কাজের মধ্যে দিয়ে শিক্ষিত হও। আমি যাঁকে হারিয়েছি, তিনি কনস্টিটিউশনের একটা পাতাও পড়েছেন কি না, জিজ্ঞেস করুন তো। পড়েননি বলেই এই সব ভুলভাল কাজ করেছেন। আমি শপথ গ্রহণ করেই পড়ছি রাত থেকেই।"
টালিগঞ্জের ঝামেলা মেটাতে সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে যুক্ত চার জয়ী বিধায়ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়ে কিছু বলবেন?
- বুধবারের মিটিংয়ে আমি থাকতে পারিনি। কিন্তু হ্যাঁ, ঠিক কাজ করেছেন। এক-একজনের এক-একরকমের অভিজ্ঞতা। আমার যেমন মঞ্চের বিরাট অভিজ্ঞতা। এই যে শিল্পীরা, কলাকুশলীরা যাঁরা বহুদিন ধরে কাজ পাচ্ছেন না, তাঁরা আমার কাছে অভিযোগ করেছেন বহুদিন ধরে। আজকে আমি বিধায়ক হয়েছি বলে নয়। বলেছি, দাঁড়ান সরকারটা বদলালেই সব ঠিকঠাক নিজেদের জায়গায় কাজ করতে পারবেন। খেলোয়াড়কে খেলতে দেবে না, বাচ্চাকে কাঁদতে দেবে না, কর্মীকে কাজ করতে দেবে না, এটা অসংবিধানিক। আমাদের সংবিধান মেনে কাজ করতে হবে। কালকে আমাদের কনস্টিটিউশনের বই দিয়েছে, ওঁদেরও নিশ্চয়ই দিয়েছে। ওঁরা স্টাডি করুন। আমি গতকাল থেকেই পড়তে শুরু করে দিয়েছি। ইউ মাস্ট স্টাডি। আমি বলছি না, ডিগ্রিতে শিক্ষিত হও, কাজের মধ্যে দিয়ে শিক্ষিত হও। আমি যাঁকে হারিয়েছি, তিনি কনস্টিটিউশনের একটা পাতাও পড়েছেন কি না, জিজ্ঞেস করুন তো। পড়েননি বলেই এই সব ভুলভাল কাজ করেছেন। আমি শপথ গ্রহণ করেই পড়ছি রাত থেকেই। কারণ, আমি যা জানতাম সেটা যথেষ্ট নয়। আইনত কীভাবে এগোব, তা জানতে হবে। এদের সব ইললিগ্যাল, বৈধ কোনটা করেছে!
মেসিকে কিন্তু আনব, কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও, একদিনের জন্য হলেও। ফুটবল প্রেমীদের এবং ফুটবলারদের দেখাব। বহু মানুষ আমাকে বলেছেন, মেসিকে দেখতে পেলাম না।...
'ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতিকরণ বন্ধ করতে হবে', বলছেন পাপিয়া অধিকারী।
ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত আপনি। ছেলেমেয়েরা বেশ রাতে শুটিং করে ফেরে। অন্যান্য কাজেও মেয়েদের রাত হতে পারে। রাতে নিরাপত্তা থাকবে তো?
- একদম থাকবে। মোদিজি নারীসুরক্ষার কথা বারবার বলেছেন, আমাদের অ্যাজেন্ডায় আছে মেয়েদের জন্য হেল্পডেস্ক, আর যে যোগাযোগ নাম্বারগুলো দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে কানেক্ট করা যাবে। সব ব্যবস্থা আছে। অকারণে দেরি যেন না করেন। নিশ্চয়ই মেয়েরা সুরক্ষিত থাকবেন। কাজ তো করতেই হবে। জন্মদিনে, বিয়ে বাড়িতে গেলেও সবাই যেন সুরক্ষিত থাকে, নারীসুরক্ষা সর্বাগ্রে। কিন্তু সরকারি জায়গায় যদি কাউকে খুন করে দেওয়া হয়, এর চেয়ে দুঃখের কিছু হতে পারে না। এমনটা কিছুতেই হবে না। যে জন্য তাঁর মা এবার ভোটে দাঁড়ালেন এবং জিতলেন।
এখানে মেসিকে আনব বলাতে আপনি খুব ট্রোলড হয়েছেন।
- (জোরে হাসি) আমার বাচ্চাদের আবেগে ভীষণ আবেগতাড়িত হয়েছি। মেসিকে কিন্তু আনব, কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও, একদিনের জন্য হলেও। ফুটবল প্রেমীদের এবং ফুটবলারদের দেখাব। বহু মানুষ আমাকে বলেছেন, মেসিকে দেখতে পেলাম না। সেই জন্য একবার মেসিকে নিয়ে আসবই। এখানে প্রপার ফুটবলার তৈরি হোক এটা চাই। মেসির বিষয়ে আর একটা কথা, এই যারা ট্রোল করে তাদের কোনও কাজ নেই। এর পর তারা কাজ পাবে। মোদিজির পরিকল্পনা আছে, সবাই কাজ পাবে। এই তৃণমূলের যারা সিন্ডিকেট চালাত, পাপিয়াদিকে এই একটা ব্যাপারে ধরে ফেলেছে। যেদিন মেসি আসবে, সেদিন কী বলবে তারা। (হাসি)
