়বিশ্বজুড়ে ১৫০০ কোটির ব্যবসা করা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এখন ‘বক্স অফিসের বাপ’! আর সিক্যুয়েলের এহেন মারকাটারি সাফল্যের মাঝেই বিস্ফোরক অভিযোগ আনল ত্রিমূর্তি ফিল্মস। দিন কয়েক আগেই আদিত্য ধরের বিরুদ্ধে চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগ এনেছিলেন সন্তোষ কুমার। এবার গানের জন্য কাঠগড়ায় নির্মাতারা।
জন্মলগ্ন থেকেই 'ধুরন্ধর' ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গী বিতর্ক। প্রথমভাগের মতো সিক্যুয়েলের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ১৯ মার্চ রিলিজের পর থেকেই কোনও না কোনও কারণে প্রতিনিয়ত কটাক্ষ, সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হচ্ছে আদিত্য ধর পরিচালিত সিনেমাকে। 'বিতর্কের সলতে'তে অবশ্য আগুনটা ধ্রুব রাঠিই ধরিয়েছিলেন। বর্তমানে সেটাই দাবানলের আকার ধারণ করেছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না! 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ'-এর বিরুদ্ধে হিংসার উদযাপনের অভিযোগও তুলেছেন সিনেবিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে এবার কন্টেন্ট নয়, বরং গানের জেরে আইনি গেরোয় আদিত্য ধর পরিচালিত ব্লকবাস্টার সিনেমা।
চিত্রনাট্য চুরির অভিযোগের পর এবার বিনা অনুমতিতে গান ব্যবহারের অভিযোগ 'ধুরন্ধর' নির্মাতাদের বিরুদ্ধে! ছবি- গ্রাফিক্স
গোড়া থেকেই চর্চায় রণবীর সিং অভিনীত ছবির গান। কারণ গল্পের সময়কাল, প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে 'ধুরন্ধর' ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আট-নয়ের দশকের একাধিক হিট গান ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও সেই রিমেক সংস্করণ নিয়ে এযাবৎকাল আপত্তি ওঠেনি কিংবা অনেকেই নস্ট্যালজিয়ায় ভেসে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন, তবে এবার 'ধুরন্ধর ২'-এর 'ওয়ে ওয়ে' গানটি নিয়ে আইনি বিপাকে নির্মাতারা। খবর, আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থা বিসিক্সটিটু (B62) স্টুডিওর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ত্রিমূর্তি ফিল্মস। তাঁদের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়াই 'ওয়ে ওয়ে' গানটি 'ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ' ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেই মর্মেই দেড় হাজার কোটির গণ্ডি পেরনো সিনেমার নির্মাতাদের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা।
"'ওয়ে ওয়ে' গানটি ব্যবহার করার আগে আমাদের তরফে কোনও অনুমতিই নেওয়া হয়নি। এই গানের স্বত্ব পুরোপুরি আমাদের। তাই অনুমতি ব্যতীত গানটি ব্যবহার করে 'ধুরন্ধর' নির্মাতারা কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছেন।"
১৯৮৯ সালে রাজীব রাই পরিচালিত 'ত্রিদেব' ছবির 'ওয়ে ওয়ে' গানটি দর্শক-শ্রোতামহলে ঝড় তুলে দিয়েছিল। কল্যাণ-আনন্দ এবং বিজু শাহর করা সুরে যে গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন অমিত কুমার এবং স্বপ্না মুখোপাধ্যায়। গানের দৃশ্যায়নে ছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ এবং সোনম। চার দশক পেরিয়ে 'ওয়ে ওয়ে' গানটি আজও সমানভাবে সুপারহিট। আটের দশকের গানটির এহেন তুমুল জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করেই 'ধুরন্ধর' সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে রিমেক সংস্করণ ব্যবহার করা হয়। আর তাতেই বেজায় চটেছে 'ত্রিদেব' ছবির প্রযোজনা সংস্থা ত্রিমূর্তি ফিল্মস। সংশ্লিষ্ট সংস্থার অভিযোগ, "'ওয়ে ওয়ে' গানটি ব্যবহার করার আগে আমাদের তরফে কোনও অনুমতিই নেওয়া হয়নি। এই গানের স্বত্ব পুরোপুরি আমাদের। তাই অনুমতি ব্যতীত গানটি ব্যবহার করে 'ধুরন্ধর' নির্মাতারা কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছেন।" এই মর্মে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থার তরফে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ত্রিমূর্তি ফিল্মস। পাশাপাশি সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা কোনওরকম প্রচারঝলকে যাতে আর 'ওয়ে ওয়ে' গানটি ব্যবহার না করতে পারেন 'ধুরন্ধর' নির্মাতারা, সেই নিষেধাজ্ঞা জারির আর্জিও জানিয়েছে মামলাকারী প্রযোজনা সংস্থা।
