রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকবিহ্বল বাংলা সিনেপাড়া। বিগত কয়েক দিন ধরেই অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে টলিউড (Tollywood)। একাধারে সিনেইন্ডাস্ট্রি যখন প্রয়াত রাহুলের বিচারের দাবিতে একজোট হয়েছে, তখন এমন আবহে শিল্পীদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তাও আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। শুটিং ফ্লোরে শিল্পীরা আদৌ কতটা নিরাপদ? স্টুডিওপাড়ার প্রত্যেক সেটে এখন এই প্রশ্নই প্রাসঙ্গিক। এমন আবহেই এবার খ্যাতনামা সংস্থার প্রযোজকের বিরুদ্ধে আট বছর ধরে হেনস্তার অভিযোগ আনলেন অভিনেত্রী।
বাংলা টেলিদুনিয়ার অত্যন্ত পরিচিত সংস্থা টেন্ট সিনেমা। যার কর্ণধার সুশান্ত দাস। টিআরপি তালিকার প্রথম দশেও ঠাঁই পায় সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে তৈরি ধারাবাহিক। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন টেলিঅভিনেত্রী সুকন্যা দত্ত গুহ। রাহুলের প্রয়াণের পর টলিপাড়ার সদস্যদের একাংশ যখন একে একে নিজেদের বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন, তখন এমন আবহেই সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে আট বছর ধরে হেনস্তার অভিযোগ তুললেন টেলিঅভিনেত্রী। প্রথমটায় সোশাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেও এবার জাতীয় মহিলা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন সুকন্যা।
"যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার আমাকে নানাভাবে 'এক্সপ্লয়েট' করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন উনি। ওর প্রযোজিত 'দীপ জ্বেলে যাই' ধারাবাহিকে কাজ করতাম।..."
অভিনেত্রীর অভিযোগ, "আমার নিজের জীবন, আমার কেরিয়ার, আমার ব্যক্তিগতজীবন সবকিছু নষ্ট হওয়ার নেপথ্যে ইন্ডাস্ট্রিরই এক নামী প্রোডাকশন হাউস জড়িত। দিনের পর দিন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যেটাতে আমার কোনও স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি ছিল না। একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ। যার হাত ধরে আজ অনেক সিরিয়ালের নায়িকা, নায়িকা হয়েছেন, কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কী আছে? তা অনেকেই জানেন। অনেক মেয়েই এই নোংরামি সহ্য করতে না পেরে সরে গিয়েছে। আমি নিজে চোখে দেখেছি। আর যারা প্রতিবাদ করে, তারা কাজ পায় না, ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত বাদ পড়ে যায়। টেন্ট সিনেমার কর্ণধার সুশান্ত দাস আমাকে নানাভাবে 'এক্সপ্লয়েট' করেছিলেন। প্রায় আট বছর ধরে বিভিন্নভাবে আমায় ও আমার পরিবারকে হেনস্থা করছেন সুশান্ত দাস। ওর প্রযোজিত 'দীপ জ্বেলে যাই' ধারাবাহিকে কাজ করতাম। তখন আমায় কুপ্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন যদি রাজি না হই, তাহলে আমার দৃশ্যটা বাদ দিয়ে দেবে। আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ে! তবুও রাজি হইনি আমি। বাদ যায় আমার দৃশ্যটা। শুধু একটা পাসিং শট গিয়েছিল। এরপর থেকেই শুরু হয় অনাচার। সবচেয়ে অবাক লাগে তাঁর স্ত্রী সব জেনেও চুপ থাকতেন।"
"উনি প্রভাব খাটিয়ে আমাকে দমিয়ে দিতে চাইছেন। ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন।..."
টেলি অভিনেত্রীর দাবি, "আমি তখন সন্তোষপুরে থাকতাম, ওঁরও বাড়ি সন্তোষপুরেই। তাই সুযোগ পেলেই আমার ফ্ল্যাটে এসে উনি উৎপাত করতেন, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিতেন এবং অন্য অভিনেত্রীদের নিয়ে নানা গল্প শোনাতেন।" সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দেওয়ার পর থেকেই ওই প্রযোজকের থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ সুকন্যার। অভিনেত্রী বলছেন, "উনি প্রভাব খাটিয়ে আমাকে দমিয়ে দিতে চাইছেন। ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে আমার বাবাকে ১২ বার ফোন করেছেন। কেন? পোস্ট মুছে ফেলার জন্যেও হুমকি দিচ্ছেন। আমার স্বামী সবটা শুনে মনে জোর দিয়েছে। আমি আর চুপ করে তাকব না। মহিলা কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছি। এর শেষ দেখে ছাড়ব।" যদিও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সংবাদ প্রতিদিন-এর তরফে প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি, তবে সূত্রের খবর, পালটা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছেন সুশান্ত দাস।
