হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। খড়্গপুরের চেনা পিচ নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার বিদায়ী বিধায়ক এবার শ্যামপুর কেন্দ্রের বিজেপিপ্রার্থী। তৃণমূল প্রার্থী নদেবাসী জানার বিরুদ্ধে ভোটে লড়বেন। জানুয়ারি মাসে বিয়ে বিতর্কের জেরে প্রথমটায় নেতা-অভিনেতার টিকিট পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও শেষবেলায় শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয় হিরণকে। বুধবারই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে হলফনামা পেশ করেছেন তিনি। তবে মনোনয়নপত্র জমা দিতেই ফের আক্রমণ শানিয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী! সেই প্রেক্ষিতেই চর্চায় বিজেপির তারকা প্রার্থীর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির খতিয়ান।
শ্যামপুরের পদ্মপ্রার্থীর হাতে নগদ রয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক ও বিমায় বিনিয়োগ করেছেন মোট ৫ কোটি ২৫ লক্ষ ৯১ হাজার ৮২৩ টাকা। গাড়ি বলতে ৪ লক্ষ ৭১ হাজারের টয়োটা এটিয়স। সোনা বলতে ২০ গ্রাম। যার বাজারমূল্য বর্তমানে ৩ লক্ষ। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও নেহাত কম নয়!
হলফনামায় নিজেকে অভিনেতা, রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ী বলে উল্লেখ করেছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। কত সম্পত্তি রয়েছে নেতা-অভিনেতার? গাড়ি-বাড়িই বা ক'টা? কতগুলি মামলা রয়েছে হিরণের বিরুদ্ধে? হলফনামা অনুযায়ী, পদ্মপ্রার্থীর বিরুদ্ধে দুটি মামলার খাঁড়া ঝুলছে। ২০২২ সালে খড়্গপুরে ৩৪১, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের হয় হিরণের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করায় গত জানুয়ারি মাসে হিরণের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রথম পক্ষের বউ অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ মামলা রুজু করে। সেগুলি বিচারাধীন। শ্যামপুরের পদ্মপ্রার্থীর হাতে নগদ রয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক ও বিমায় বিনিয়োগ করেছেন মোট ৫ কোটি ২৫ লক্ষ ৯১ হাজার ৮২৩ টাকা। গাড়ি বলতে ৪ লক্ষ ৭১ হাজারের টয়োটা এটিয়স। সোনা বলতে মোটে ২০ গ্রাম। যার বাজারমূল্য বর্তমানে ৩ লক্ষ। হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মোট অস্থাবর সম্পত্তি ৫ কোটি ৩৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৫১৯ টাকার। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও নেহাত কম নয়! আরবানায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট-সহ আরেকটি বৈসয়িক সম্পত্তি রয়েছে। হিরণের মোট স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ২৬ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৫৪ টাকার।
হিরণ চট্টোপাধ্যায়। ছবি- সংগৃহীত
আইনত বিচ্ছেদ না হওয়ায় হলফনামায় প্রথম স্ত্রীর সম্পত্তির খতিয়ানই দিতে হয়েছে হিরণকে। সেখানেই উল্লেখ, স্থাবর সম্পত্তি না থাকলেও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণে কিন্তু অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ও স্বামীর থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই।
বুধবার হিরণের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রে ‘সঙ্গী’ হিসেবে জ্বলজ্বল করছে প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের নাম। যদিও সেখানে ‘আইনত বিবাহিত’ এবং ‘সেপারেটেড’ শব্দের উল্লেখ রয়েছে। সেই বিষয়টি নিয়েও হিরণের মনোনয়ন পেশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তোপ দাগেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন ছোড়েন, “রক্ষিতার নাম উল্লেখ করেছে কি? ভারতীয় সংবিধান কি সেটা করতে বলবে?” যদিও পোস্টে হিরণ কিংবা তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির নামোল্লেখ নেই, তবে এই বক্রোক্তি যে তাদের উদ্দেশ্য করেই, সেটা আলাদা করে বলার প্রয়োজন হয় না। আইনত বিচ্ছেদ না হওয়ায় হলফনামায় প্রথম স্ত্রীর সম্পত্তির খতিয়ানই দিতে হয়েছে হিরণকে। সেখানেই উল্লেখ, স্থাবর সম্পত্তি না থাকলেও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণে কিন্তু অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ও স্বামীর থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই। অনিন্দিতার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ৯২ লক্ষ ২৪ হাজার ৭৭৯ টাকার। ২৭১ গ্রাম সোনা রয়েছে তাঁর কাছে। যার বাজারদর বর্তমানে ১৮ লক্ষ টাকা। ৫ লক্ষের টয়োটা ফরচুনার ব্যবহার করেন তিনি। ব্যাঙ্ক ও বিমায় বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ২৪ হাজার ৭৭৯ টাকার।
হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খতিয়ান
প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় বিয়ে সেরে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। যার জেরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানের দায়ের করা অভিযোগে আইনি জটিলতাতেও পড়তে হয় তাঁকে। ফলত, দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কের জেরে ছাব্বিশের ভোটে তিনি টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা ছিল। তবে মার্চের ১৯ তারিখ পদ্মশিবিরের দ্বিতীয় প্রার্থীতালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় শত বিতর্ক সত্ত্বেও হিরণের উপর ভরসা হারায়নি দল। এবার হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির ‘তুরুপের তাস’ তিনি। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় আদা-জল খেয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। এবার পাখির চোখ ৪মের দিকে। কারণ সেদিনই শ্যামপুরের সিংহাসনের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।
