shono
Advertisement
Mandana Karimi

খামেনেই নিধনে উল্লাস, ১৬ বছর বাদে ভারত ছাড়তে গিয়ে কেঁদে ফেললেন অভিনেত্রী!

বলিউডের হাত ধরেই গ্ল্যামার দুনিয়ায় হাতেখড়ি। এবার সেই 'দ্বিতীয় বাড়ি' ভারত ছাড়ারও সময়ে আবেগপ্রবণ ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী। এবার কি তবে মন্দানা করিমির গন্তব্য ট্রাম্পের দেশ?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 10:52 AM May 13, 2026Updated: 10:52 AM May 13, 2026

গত মার্চ মাসে অগ্নিগর্ভ ইরানে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। সেসময়েই অবশ্য স্বভূমে ফেরার ইঙ্গিত দেন মন্দানা করিমি। এবার ষোলো বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ভারত ছাড়লেন ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী। ইরানে নিষিদ্ধ হওয়ার পর গত একদশক ধরে বলিউডই ছিল তাঁর আশ্রয়। 'কেয়া কুল হ্যায় হাম', 'রয়'-এর মতো সিনেমায় অভিনয় থেকে 'বিগ বস'-এর ঘরের প্রতিযোগী হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হন মন্দানা। এবার সেসব অতীত করে বলিউডের মায়া কাটিয়ে ভারত ছাড়লেন মন্দানা করিমি।

Advertisement

মাত্র আঠেরো বছর বয়সে স্বভূম ইরান ছেড়ে ভারতে আসেন মন্দানা। বলিউডের হাত ধরেই গ্ল্যামার দুনিয়ায় হাতেখড়ি। কিন্তু এবার সেই 'দ্বিতীয় বাড়ি' ভারত ছাড়ারও সময় চলে এল। অভিনেত্রী বলছেন, "দুঃস্বপ্নেও কখনও ভাবিনি এই শহর এই দেশটাকে ছাড়তে হবে।" মন্দানার সংযোজন, "আমি ভারত ছাড়ছি ঠিকই, কিন্তু আমি ইরানে ফিরছি না। আমার জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে ভারতে প্রায় ১৬টি বছর কাটানোর পর, অবশেষে... আমার দ্বিতীয় বাড়িটিকে বিদায় জানানো আর এবার এক নতুন এক শুরুর পালা। নতুন দেশ, নতুন ঘর, সবকিছুই নতুন।"

ইরানি মডেল-নায়িকা অবশ্য বরাবরই খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। হিজাব বিরোধী আন্দোলনের সময়ও সরব হয়েছিলেন। খামেনেই পতনের পরও স্পষ্টভাষায় মন্দানা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি মুক্ত ইরানকে দেখতে চান এবং সেপথ প্রশস্ত করার একমাত্র কাণ্ডারি হিসেবে ট্রাম্পকেই দেখতে পাচ্ছেন।

মন্দানা করিমির। ছবি- সংগৃহীত

ইরানের জ্বলন্ত পরিস্থিতি নিয়ে পঁচিশ সালেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মন্দানা। গতবছর ইরানের তিন পরমাণু কেন্দ্রে যখন আমেরিকা হামলা চালায় সেসময়ে মায়ানগরীর সেলেব পাড়ায় বসে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে ইরানে খামেনেই দূর্গ পতনের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মুক্তিদাতা’ আখ্যা দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন মন্দানা করিমি। তাঁর মতে, একমাত্র ট্রাম্পই পারেন এই অন্ধকার থেকে ইরানকে আলোর পথে নিয়ে আসতে। ইরানি মডেল-নায়িকা অবশ্য বরাবরই খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। হিজাব বিরোধী আন্দোলনের সময়ও সরব হয়েছিলেন। খামেনেই পতনের পরও স্পষ্টভাষায় মন্দানা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি মুক্ত ইরানকে দেখতে চান এবং সেপথ প্রশস্ত করার একমাত্র কাণ্ডারি হিসেবে ট্রাম্পকেই দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু পরে এক সাক্ষাৎকারে ভারত এবং বলিউডের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করে মন্দানা করিমি যা বলেন তাতে চমকে উঠতে হয়!

ইরানি লাস্যময়ীর রূপে মোহিত অনুরাগীর সংখ্যাও নেহাত কম নয় ভারতে। সফল মডেল হওয়ার পাশাপাশি বলিউডেও বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু যেখানে কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলেছেন, সেই মাটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরেই ভারত ছাড়লেন মন্দানা করিমি। এবার কি তবে মন্দানা করিমির গন্তব্য ট্রাম্পের দেশ?

বদলের জন্মভূমিতে ফিরতে মরিয়া অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, “এক স্বাধীন ইরানকে দেখতে পাচ্ছি। যে দেশে নারীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো চলতে পারবেন, যা খুশি পরতে পারবেন। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চান, সেখানেই পড়তে পারবেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও ইরানের দুর্দান্ত সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছি। যেখানে আর কেউ ইরানকে হুমকি বলে মনে করবে না। আমরা ইরানের মানুষেরাই মজবুত মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তোলার অগ্রদূত। যে মুহূর্তে ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন হবে, আমি ওখানে চলে যাব। ব্যাগপত্তরও গুছিয়ে রেখেছি। এবং খুব শিগগিরি ভারতের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশে ফিরে যাব। কারণ আমার পক্ষে এখানে থাকা খুবই কষ্ঠের হয়ে উঠেছে।” কেন? এপ্রসঙ্গে মন্দানা বলছেন, “ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি। বলিউডে বহু বন্ধু হারিয়েছি।” একসময়ে ‘বিগ বস’-এর ঘরে প্রতিযোগী হিসেবে যোগ দিয়ে বিনোদুনিয়ায় পরিচিতি পেয়েছিলেন মন্দানা করিমি। ইরানি লাস্যময়ীর রূপে মোহিত অনুরাগীর সংখ্যাও নেহাত কম নয় ভারতে। সফল মডেল হওয়ার পাশাপাশি বলিউডেও বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু যেখানে কর্মক্ষেত্র গড়ে তুলেছেন, সেই মাটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরেই ভারত ছাড়লেন মন্দানা করিমি। এবার কি তবে মন্দানা করিমির গন্তব্য ট্রাম্পের দেশ?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement