shono
Advertisement
Rajinikanth

'মুখ্যমন্ত্রী বিজয়', শুনেই করজোড়ে এড়িয়ে গেলেন রজনীকান্ত! রাজনীতির পরীক্ষায় পাশ না করায় হিংসে?

দ্রাবিড়ভূমের মসনদে না বসতে পারার হিংসে! 'অনুজ' বিজয়ের কথা শুনেই কেন এড়িয়ে গেলেন রজনীকান্ত?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 08:50 PM May 12, 2026Updated: 09:20 PM May 12, 2026

একসপ্তাহের টালবাহানার পর শেষমেশ রবিবাসরীয় সকালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থলপতি বিজয়। আর সেই প্রেক্ষিতেই সতীর্থ 'জন নায়াগন'কে নিয়ে বর্তমানে তামিলভূমের সিনেইন্ডাস্ট্রিতে গর্বের অন্ত নেই। কমল হাসান, রামচরণ, বিজয় দেবেরাকোন্দ্রা থেকে আল্লু অর্জুন-সহ একাধিক তারকা 'মুখ্যমন্ত্রী' থলপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু দ্রাবিড়ভূমে বিজয়ের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ইনিংস নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন রজনীকান্ত। এবার সাংবাদিকদের মুখে 'মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ে'র নাম শুনে 'টুঁ' শব্দ করা তো দূর অস্ত, এমনকী এড়িয়ে গেলেন 'আন্না'। যে ভিডিও ভাইরাল হতেই ফের সমালোচনার শিকার দাক্ষিণাত্যভূমের মেগাস্টার।

Advertisement

থলপতি বিজয়। ফাইল ছবি।

ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম সুপ্রিমোর বিপুল জয়ের পর রজনীকান্ত শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নেটভুবন তাঁকে মনে করিয়ে দেন বিজয়ের প্রচারপর্বের সময় বলা ফিল্মি সংলাপ। সেসময়ে রজনীকান্ত বলেন, "সময় কথা বলে না তবে অপেক্ষা করে আর ঠিক সময়ে উত্তর দেয়।" আন্নার এহেন 'তীর্যক' মন্তব্যে বিজয় অনুরাগীরা স্বাভাবিকভাবেই চটে যান। আর সেই প্রেক্ষিতেই তামিলভূমের রাজনীতির ময়দানে বিজয়ের জয়ধ্বনি অনুরণিত হওয়ার পর রজনীকান্তের শুভেচ্ছাবার্তায় ট্রোল করা শুরু করেন। কাট টু ১২ মে, মঙ্গলবার। চেন্নাই বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা যখন প্রবীণ অভিনেতাকে 'মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ে'র সম্পর্কে কিছু বলার অনুরোধ জানান, তখন 'টুঁ' শব্দটি না করে করজোড়ে পাশ কাটিয়ে চলে যান রজনীকান্ত। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই ফের বিতর্কের শিরোনামে রজনী আন্না। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি রাজনীতির পরীক্ষায় নিজে পাশ না করতে পেরে থলপতিকে হিংসে করছেন থালাইভি?

২০১৭ সালেই নিজস্ব দল ‘রজনী মাক্কাল মন্দ্রম’ তৈরি করে দাক্ষিণাত্যভূমের রাজনীতিতে ‘ডেবিউ’য়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রজনী আন্না। কিন্তু ঘোষণাই সার! একাধিকবার গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেও এযাবৎকাল রাজনীতির রানওয়েতে ‘ল্যান্ড’ করতে পারেননি দাক্ষিণাত্যভূমের মেগাস্টার। তবে জনতার ‘থালাইভা’ না পারলেও সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন থলপতি বিজয়।

অতীতে বহু দক্ষিণী তারকাই রাজনীতির ময়দানে ভাগ্য নির্ধারণ করতে নেমেছেন। তবে পয়লাবারে সাফল্য কিন্তু সবার হাতে ধরা দেয়নি। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একা জয়ললিতাই লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছিলেন। সাম্প্রতিক অতীতে ফিরে তাকালে সেই তালিকায় নবতম সংযোজন হতে পারতেন কমল হাসান কিংবা রজনীকান্ত। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘মাক্কাল নিধি মাইয়াম’ দল নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামেন কমল হাসান। তবে বিজয়ের মতো ভোটযুদ্ধে শিকে ছিঁড়তে পারেননি। অন্যদিকে ২০১৭ সালেই নিজস্ব দল ‘রজনী মাক্কাল মন্দ্রম’ তৈরি করে দাক্ষিণাত্যভূমের রাজনীতিতে ‘ডেবিউ’য়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রজনী আন্না। কিন্তু ঘোষণাই সার! একাধিকবার গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেও এযাবৎকাল রাজনীতির রানওয়েতে ‘ল্যান্ড’ করতে পারেননি দাক্ষিণাত্যভূমের মেগাস্টার। তবে জনতার ‘থালাইভা’ না পারলেও সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন থলপতি বিজয়। আর সেই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বিজয়ের সাফল্যে হিংসে হচ্ছে রজনীকান্তের?

'অনুজ' বিজয়ের কথা শুনেই কেন এড়িয়ে গেলেন রজনীকান্ত?

আসলে অতীতে যা শিবাজি গণেশন, কমল হাসান কিংবা রজনীকান্তের মতো মেগাস্টাররা পারেননি, একাই সেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ইতিহাস গড়েছেন থলপতি বিজয়। চব্বিশের লোকসভা ভোটের সময়েই নিজস্ব দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তামিলভূমের অন্যান্য দলগুলিকে ছাব্বিশের নির্বাচনী ময়দানে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ‘জন নায়াগন’-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে যায় ৪মে। ছাব্বিশের বিধানসভার হাত ধরেই ভোটের ময়দানে ডেবিউ। আর অভিষেকেই ‘রিল-রিয়েল’ মিশিয়ে একাকার করে দেন থলপতি। পর্দায় শত্রু নিধনের মতো ব্যালটযুদ্ধেও বিরোধীদের পরাস্ত করে দ্রাবিড়ভূমের মসনদে বসেছেন বিজয়। গোড়া থেকেই ডিএমকে, এডিএমকে এবং অন্যান্য দলগুলিকে কড়া প্রতিযোগিতার মুখে ফেলেছিলেন টিভিকে সুপ্রিমো। প্রথমবার ভোটযুদ্ধে ‘অভিষেক’ করা কোনও দল ওপেনিং ইনিংসেই সরকার গড়তে পেরেছে, এমন উদাহরণ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু বিরল নয়, নেই বললেই চলে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement