দীর্ঘ ১৫ বছর পর তৃণমূল জমানার অবসান ঘটে ৫ মে গৈরিক আভায় নতুন ভোরকে স্বাগত জানিয়েছে বঙ্গবাসী। টলিপাড়ার একঝাঁক তারকা তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফল প্রকাশের পরদিন সমাজমাধ্যমে সেলেবদের একাংশ যেমন নতুন সরকার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তেমনই আবার অনেকেই তৃণমূল তোষণের জেরে ইন্ডাস্ট্রির দুরবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন। স্টুডিওপাড়ার এমন অনেকে তারকাই আছেন যাঁরা প্রকাশ্যে কোনও দলীয় মন্তব্য করেন না, রাজনৈতিক রং নিয়ে মৌনতা ব্রততেই বিশ্বাসী। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে শূন্যের গেরো কাটতেই আবেগে ভাসলেন 'প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি'।
বুক চিতিয়ে প্রকাশ্যে সিপিএমের সমর্থনে স্বস্তিকা দত্তর মনের কথা, 'শিরদাঁড়া সোজা ছিল, আছে আর থাকবে।' কাজের প্রয়োজনে কখন কাউকে তোষামোদ করেন না স্বস্তিকা। গেরুয়া ঝড়েও নিজের জায়গায় অনড় থাকার বিষয়টি আরও একবার স্পষ্ট করলেন স্বস্তিকা। বন্ধু-অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের একটি পোস্ট নিজের ওয়ালে শেয়ার করেছেন। সমাজমাধ্যমে অনিন্দ্য লিখেছেন, 'গত ১৫ বছরের অভিনয় জীবনে শাসক দলের হয়ে স্টেজে ওঠার উত্তেজনা সম্বরণ করেছি। ওই লবিতে থাকলে হয়ত জীবনটা আর একটু সিকিওর হত। কাজের পরিধি বাড়তে পারত। ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সের কথা না ভেবে স্ট্রাগল বেছে নেওয়া আমার মতো কিছু মুষ্টিমেয় অভিনেতারা যাতে শুধু নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস রেখে মাথা উঁচু করে ভবিষ্যতেও কাজ করতে পারি এটুকুই আশা রাখব।'
সুরে সুর মিলিয়ে স্বস্তিকার দাবি, 'আমার খুব ভালো বন্ধু অনিন্দ্য! আমি আর আলাদা করে কথা গুছিয়ে লেখার সময় পাইনি কারণ আউটডোর শুটিংয়ে ছিলাম। ধরে নেবেন ওঁর দেওয়া স্ট্যাটাসের কথাগুলো আমিও বলছি!' পাটিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তের প্রচারে ছিলেন পরিচালক সৌরভ পালোধী। টলিপাড়ার বামপন্থী হিসেবেই সকলের কাছে পরিচিত। ছাব্বিশের নির্বাচনে পদ্ম ফুটলেও লাল দুর্গের ঠিকানা বদলাবেন না। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সমাজমাধ্যমে সৌরভ লিখলেন, '২০০৬ তেও ছিলাম ২০২৬ এও আছি এবং থাকব। সুদীপ্ত, মইদুল, আনিস, তামান্নার খুনিদের ক্ষমতায় আসার আগেও ছিলাম, তাদের বিদায় নেওয়ার পরেও আছি।'
বাংলার মসনদের রং বদলাতেই বহু তারকাদের দিকে ইঙ্গিত খুব শীঘ্রই তাঁরাও দল বদলাবেন। কিন্তু, স্রোতের বিপরীতে হেঁটেছেন কট্টর বামমনস্করা। সেই তালিকায় নিঃসন্দেহে রয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মানসী সিনহা। ৫ মে কার্ল হাইনরিখ মার্ক্সের জন্মদিনে আত্মবিশ্বাসী মানসী লিখছেন, 'এ হৃদয়, দপ্তর পাল্টাবে না।'
