সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২৫ অক্টোবর প্রয়াত হয়েছেন পর্দার 'সারাভাই' সতীশ শাহ। তাঁর মৃত্যুতে বিনোদুনিয়ায় তৈরি হয়েছে এক গভীর ক্ষত। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির অসুখে ভুগছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। ছার দশকের অভিনয় জীবনে সতীশ শাহ হয়ে উঠেছিলেন প্রত্যেক দর্শকের পছন্দের মানুষ। বড়পর্দা হোক বা ছোটপর্দা সর্বত্রই তিনি তাঁর হাস্যরসের মাধ্যমেই জিতে নিয়েছেন মানুষের মন। 'কমেডি কিং'র প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিনোদুনিয়া। এবার প্রয়াত অভিনেতাকে মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করার আর্জি জানাল প্রধানমন্ত্রীকে সিনে সংগঠন বা ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ।
প্রধানমন্ত্রীকে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে সিনে সংগঠন। সেই চিঠিতে লেখা হয়েছে, 'শ্রদ্ধা ও বিনয়ের সঙ্গে আমরা ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ'র পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, প্রয়াত অভিনেতা শ্রী সতীশ শাহকে বিনদুনিয়ায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হোক। তিনি এমন একজন অভিনেতা ছিলেন যিনি বছরের পর বছর অগনিত দর্শকের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। শুধুই অভিনয় না, একজন মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন অসামান্য। ইন্ডাস্ট্রির কথা ভেবেছেন বরাবর। এমনকী সিনে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাঁকে আমরা পাশে পেয়েছি। তাঁর প্রয়াণে আমরা শোকস্তব্ধ।'
বিগত চার দশকের অভিনয় কেরিয়ারে সতীশ শাহ যেমন টেলিদর্শকমহলে ‘কাছের মানুষ’ হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তেমনই বিভিন্ন সময়ে সিনেপর্দায় শাহরুখ-সলমনের মতো তাবড় তারকাদের মাঝেও নিজস্ব অভিনয়গুনে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৮৩ সালে কুন্দন শাহের স্যাটায়ার জঁরের ছবি ‘জানে ভি দো ইয়ারো’ সিনেমায় অভিনয় করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন সতীশ। তার পর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’, ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘কাল হো না হো’, ‘কভি হাঁ কভি না’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে ‘ওম শান্তি ওম’-এর মতো একাধিক সুপারহিট সিনেমায় নজর কেড়েছে তাঁর অভিনয়। টেলিপর্দাতেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন সতীশ শাহ। ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত ইন্দ্রবদন সারাভাইয়ের চরিত্রটি ভারতীয় টেলিদুনিয়ার ইতিহাসে অন্যতম আইকনিক কমিক চরিত্র হিসেবেই রয়ে যাবে।
