পয়লা জুলাই তো জন্মদিন। পরিকল্পনা কী?
জন্মদিন থাকলেও খুব উদযাপন করার মানুষ আমি নই। বন্ধুবান্ধব, কাছের আত্মীয় আর অনুরাগীরা খুব ভালোবেসে মনে করে। ভালো লাগে। সেই দিনটায় নিজেকে আরেকটু স্পেশাল ভাবতে ইচ্ছে করে। ছোটবেলায় প্রজাপতি ড্রেস পরে যেমন আদর-উদযাপন হত, মনে পড়ে। তবে এই সময়ে এসবে একটু লজ্জাও লাগে।
ফুটবলে আগ্রহ কতটা, কার ফ্যান?
আগ্রহ আছে (হাসি)। শেষবার রাশিয়ায় গিয়ে বিশ্বকাপ দেখেছিলাম। এবারে যাওয়া হল না। পর্তুগালকে খুব ভালোবাসি কিন্তু চারপাশে সারাক্ষণ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল শুনতে হয়। রোনাল্ডোকে খুব ভালো লাগে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, মেসিকেও ভালো লাগে (জোরে হাসি)।
জয়ার সঙ্গে...
এ মাসেই 'আজও অর্ধাঙ্গিনী' আসছে। 'অর্ধাঙ্গিনী' সফল ছবি। তার তিন বছর পর সিক্যুয়েল। সফল ছবির দ্বিতীয় ভাগ আনার ক্ষেত্রে চাপ থাকে?
চাপ থাকে সত্য। তবে আমার কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে, এ বারে নাটকীয় জায়গাগুলো আরও বেশি ছবিতে। সেটা আবার খুব জোর করে চাপিয়ে দিয়েছেন পরিচালক তেমনটা নয়। অভিনয় করতে গিয়ে আমার ভালো লেগেছে। আমি তো একজন দর্শকও, সেইখান থেকে মনে হয়, দর্শকেরও ভালো লাগবে। আরও নতুন চরিত্রের সমাগম হয়েছে। আগের চরিত্রগুলোও তো এতদিন যাপন করেছে তার ফলে ওদের জীবনেও নতুন চরিত্র এসেছে।
স্টাইলিশ জয়া
তিন বছর ধরে 'মেঘনা মুস্তাফি'কে নিজের ভিতরে রেখে দেওয়া তো শক্ত। এই তিনবছরে আপনার অভিনীত 'ডিয়ার মা' এসেছে, 'পুতুল নাচের ইতিকথা' এসেছে। কীভাবে 'মেঘনা'কে লালন করলেন?
একটা কথা বলি, চরিত্রগুলো যখন আমরা করি পুরোপুরি ফ্লাশ আউট করে দিই না। জয়া হিসাবেও 'মেঘনা'-র কিছু জিনিস আমার ভিতরে রয়ে যায়। যেমন করে, একটা বই পড়ে বইয়ের চরিত্র বা দর্শন রয়ে যায়। আমরা তো সবটা ফেলে দিই না। তারপরেই তো ব্যক্তি জয়ার জার্নি। তেমনই 'মেঘনা' চরিত্রের কিছু না কিছু আমার ভিতরে রয়েই গিয়েছিল। কাজের সময় সেটাকে আবার জাগিয়ে তুলেছি।
আজও অর্ধাঙ্গিনী
এবারে মেঘনা (জয়া) আর শুভ্রার (চূর্ণী) দ্বৈরথ না বন্ধুত্ব কোনটার পাল্লা ভারী?
বলব, দুটোই সমান সমান আছে। শেষে একটা লাইন আছে- দু'জন অর্ধাঙ্গিনী মিলে একজন পূর্ণাঙ্গ নারী হয়ে উঠতে পারি কি না।
এই লাইনের তাৎপর্য কী? ঝলকে দেখলাম।
এটার জন্য ১০ জুলাই অবধি অপেক্ষা করতে হবে। (হাসি)
মনে তো হয়, এবারে জটিলতা চরম আকার নেবে। শুধুই মেঘনা, শুভ্রা, সুমন (কৌশিক সেন) নয়, ইন্দ্রাশিসের (রায়) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্পষ্ট। অম্বরীশের (ভট্টাচার্য) চরিত্রে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে।
অবশ্যই, তাই। সবটা এখনই ডিসক্লোজ করছি না। একটু অপেক্ষা থাক।
'অর্ধাঙ্গিনী' জয়া
অনেকদিন পর দর্শক আপনাকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিতে পাবে। পরিচালক কৌশিক আর অভিনেত্রী জয়ার পুরনো ম্যাজিক কি কাজ করবে?
এই ছবিটা কোনওভাবে যদি দর্শক-প্রিয়তা পায় তাহলে ভালো লাগবে। তবে বলব, ম্যাজিক তো তৈরি করা যায় না, ম্যাজিক হয়ে ওঠে। ম্যাজিক আদৌ হয়েছে কি না সেটার জন্য আমিও অপেক্ষা করছি।
জয়ার অভিনয়
এপারে কি একটু কম কাজ করছেন?
না, না, সামনে কাজের কথা চলছে (হাসি)।
এখানে রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেছে। এই মুহূর্তে টলিউডে কাজ করা নিয়ে কতটা আশাবাদী?
বাংলা ছবির জন্য কাজ করি। এটা ঠিক, আরেকটি দেশের পাসপোর্ট ক্যারি করি। কিন্তু এতদিন ধরে তো এখানে কাজ করছি, কোনওভাবে মনে হয় না আমি এই ইন্ডাস্ট্রির বাইরের কেউ। যদি এখানকার বাসিন্দা হতাম, তারপরেও বোধহয় যে পরিমাণ কাজ করছি এইটুকুই করতাম। একইরকম ভালোবাসা দিয়ে এখানে আমার অভিনীত ছবি রিলিজ করেছে, একইরকম ভালোবাসা দিয়ে মানুষ আমাকে ডাকছে। প্রোডাকশন হাউসগুলো এইরকম ভালোবাসা দিয়ে তাদের ছবিতে নিচ্ছে, পরিচালকদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলব। সেটা আমি অন্তত টের পাই। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির দর্শকের জন্য আমি। আমার মতো করে সার্ভ করি। সেখানে আমার কিছুটা হলেও অবদান থাকলে ভালো লাগে, সেটাই করে যাচ্ছি।
জয়া আহসান
ছবির একটা ট্যাগ লাইন দেখলাম-কিছু সিদ্ধান্ত বদলে দেয় জীবনের মোড়। আপনার জীবনের তেমন সিদ্ধান্ত, যা আমূল পরিবর্তন এনেছে?
হ্যাঁ, এই টলিউডে কাজ করা, 'আবর্ত' দিয়ে শুরু।
না, ব্যক্তিজীবনের কথা জানতে চাইছি।
নিজেই সেই বিষয়ে সচেতন নই। অ্যাম জাস্ট গোয়িং উইথ দ্য ফ্লো। বিশ্বাস করো।
পালাবদলের পরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন কেমন?
এখন ভালো অবস্থা। মাঝখানে একটু উত্তপ্ত ছিল। ইন্ডাস্ট্রির কাজের কথা যদি বলি, ভালোভাবে চলছে।
