পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের সিঁদুরে মেঘ ভারতের আকাশেও! এমতাবস্থায় গত রবিবার দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু তাই নয়, আগামী এক বছর বিদেশযাত্রা কিংবা বিদেশে গিয়ে 'বিগ বাজেট' বিয়ের পরিকল্পনায় কাটছাঁট করার পাশাপাশি সোনা কিনতেও বারণ করেছেন তিনি। সরকারি কর্মচারীদের সপ্তাহে দুদিন ওয়ার্ক ফর্ম হোম-সহ প্রাইভেট গাড়ি চাপাতেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রী-সহ বিজেপিদের বাকি শীর্ষ নেতৃত্বরাও নিজের কনভয় সংখ্যা কমিয়েছেন। এমতাবস্থায় দেশের সিনেইন্ডাস্ট্রিগুলিকে 'বিলাসিতা বন্ধ করার' নিদান দিয়ে কড়া বার্তা কমল হাসানের।
চব্বিশ সালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে তামিলভূমে স্লোগান তুলেছিলেন, "মোদি হঠাও, দেশ বাঁচাও।" সেই নেতা-অভিনেতাই কিনা এবার নরেন্দ্র মোদির কথায় সায় দিয়ে ভারতের সমস্ত সিনেইন্ডাস্ট্রিগুলিকে প্রোডাকশনের খরচ কমানোর বার্তা দিলেন।
তামিলভূমের সিনেইন্ডাস্ট্রিতে মেগাস্টার হলেও রাজনীতিক হিসেবে তেমন শিকে ছিঁড়তে পারেননি কমল হাসান! ২০১৮ সালে নিজের দল মাক্কাল নিধি মাইয়াম গড়ে রাজনীতির 'রানওয়েতে ল্যান্ড' করেছিলেন ঠিকই কিন্তু উনিশ-একুশের বিধানসভা ভোটে ধারাবাহিকভাবে খারাপ রেজাল্ট করেছে তাঁর দল। চব্বিশ সালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে তামিলভূমে স্লোগান তুলেছিলেন, "মোদি হঠাও, দেশ বাঁচাও।" সেই নেতা-অভিনেতাই কিনা এবার নরেন্দ্র মোদির কথায় সায় দিয়ে ভারতের সমস্ত সিনেইন্ডাস্ট্রিগুলিকে প্রোডাকশনের খরচ কমানোর বার্তা দিলেন। তামিল সুপারস্টার তথা রাজ্যসভার সাংসদ কমল হাসানের মন্তব্য, "বাজেট কাটছাঁট করে সুশৃঙ্খলভাবে সিনেশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।"
মাক্কাল নিধি মাইয়াম দলের তারকা সুপ্রিমো কমল হাসান।
শুধু তাই নয়, মাক্কাল নিধি মাইয়াম দলের তারকা সুপ্রিমোর কথায়, "অযথা বিশাল লোকলস্কর, বিলাসবহুল কনভয় নিয়ে চলার এই সংস্কৃতি সিনেইন্ডাস্ট্রিতে অবিলম্বে বন্ধ হোক।" পাশাপাশি দর্শককে পর্দায় 'লার্জার দ্যন লাইফ' অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রচেষ্টায় সিনেনির্মাতারা বিদেশ-বিভুঁইয়ের লোকশনে শুটিং করার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয় করেন, সেকথা উল্লেখ করে কমলের সংযোজন, "কেন প্রতিটা রোম্যান্টিক ছবির গল্পের প্রেক্ষাপট শুধু প্যারিসই হতে হবে? বিশ্বজুড়ে যে গভীর জ্বালানি সংকট দানা বেঁধেছে এবং তার ফলে পরিবহণ ব্যবস্থায় যেরকম প্রভাব পড়েছে, সেখানে এমন আবহে বিলাসিতা করে বিদেশ ভ্রমণের পরিবর্তে ভাবনাচিন্তা করে আমাদের 'দেশি' লোকেশনেই ভরসা রাখা উচিত। যে অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব পুরো সিনেইন্ডাস্ট্রির বাস্তুতন্ত্রেই পড়বে। যার মধ্যে প্রযোজক, সিনেকর্মী, প্রেক্ষাগৃহের মালিক, পরিবেশক এবং বিনিয়োগকারীরাও রয়েছেন।"
সম্প্রতি মোদিও দেশবাসীর বিলাসবহুল জীবনযাপনে রাশ টানার বার্তা দিয়েছিলেন। এবার তাতে সায় দিয়েই দেশের সিনেইন্ডাস্ট্রিগুলিকে খরচ কমানোর পাঠ কমলের। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই প্রথম মোদির সঙ্গে সহমত হলেন কমল হাসান। তাহলে কি তামিলভূমের রাজনীতিতে সুপারস্টার বিজয়ের উত্থানের পর এবার নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন মাক্কাল নিধি মাইয়াম দলের তারকা সুপ্রিমো?
কমল হাসানের কথায়, "ফলত যে টাকা বাঁচবে সেটা বড় হাইপ তোলার কাজে খরচ না করে সিনেমার স্বার্থেই খরচ হওয়া উচিত। তবে এই বাজেটের কাটছাঁট যেন কর্মীদের মজুরি, নিরাপত্তা, মর্যাদা, খাবার, যাতায়াত, বাসস্থান কিংবা মানবিক কাজের পরিবেশের বিনিময়ে না হয়। এই সংকটের বোঝা যেন সিনেইন্ডাস্ট্রির দিন আনি দিন খাই কর্মীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়, যারা এই শিল্পের জন্য সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন।" সম্প্রতি মোদিও দেশবাসীর বিলাসবহুল জীবনযাপনে রাশ টানার বার্তা দিয়েছিলেন। এবার তাতে সায় দিয়েই দেশের সিনেইন্ডাস্ট্রিগুলিকে খরচ কমানোর পাঠ কমলের। এপ্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই প্রথম মোদির সঙ্গে সহমত হলেন কমল হাসান। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি তামিলভূমের রাজনীতিতে সুপারস্টার বিজয়ের উত্থানের পর এবার নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন মাক্কাল নিধি মাইয়াম দলের তারকা সুপ্রিমো?
