আদ্যোপান্ত ফিল্মি পরিবার হলেও 'বলিউড কখনও দেওলদের যোগ্য সম্মান দেয়নি' বলে আক্ষেপ করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। সিনেপাড়ায় খান-কাপুর, বচ্চনদের স্টারডমের দাপটের দৌড়ে দেওলরা যে খানিক পিছিয়ে, সেকথাই হয়তো বলতে চেয়েছিলেন 'হি ম্যান'। কিন্তু তেইশ সালেই দেওল পরিবারের ভাগ্যচক্র ঘুরেছে। একদিকে 'গদর ২' ছবির ব্যবসা দিয়ে জেষ্ঠপুত্র সানি দেওল যেমন হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে যোগ্য জবাব দিয়েছেন, তেমন 'অ্যানিম্যাল'-এর সুবাদে দাপুটে কামব্যাকে ষোলো কলা পূর্ণ করেছিলেন বলিউডে 'ব্রাত্য' ববি। 'লর্ড ববি'র মহিমার পর এবার যশরাজ ফিল্মস-এর গোয়েন্দা সিনেমা 'আলফা'য় খতরনাক খলনায়ক অবতারে ধরা দিয়েছেন ববি দেওল। এমন আবহেই সানি-ববির উদ্দেশে ধেয়ে এল চরম কটাক্ষ।
গল্প অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনিতে যোগ দেওয়ার জন্য কম কাঠখড় পোহাতে হয়নি 'ফতেহ' ববিকে। ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে সে এদেশের আর্মিতে যোগ দেয়। নেপথ্যে একটাই উদ্দেশ্য- 'আলফা মিশন'। যশরাজ ফিল্মস-এর গোয়েন্দা ছবির এহেন প্লটের সঙ্গে অনেকেই 'ধুরন্ধর'-এর সাযুজ্য খুঁজে পেয়েছেন।
'দেওল ব্রাদার্স'কে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, "একই বাড়িতে দেশপ্রেমিক ও দেশদ্রোহীর সহাবস্থান।" কিন্তু ববির 'আলফা'র জন্য কেন সমালোচনার শিকার দাদা সানি দেওল? এমন কৌতূহল অমূলক নয়। আসলে যশরাজের গোয়েন্দা ছবিতে এক পাকিস্তানি এজেন্ট 'ফতেহ'র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ববি দেওল। যে ভারতে 'আলফা জওয়ান' তৈরির ষড়যন্ত্র কষে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে পা রাখে। গল্প অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনিতে যোগ দেওয়ার জন্য কম কাঠখড় পোহাতে হয়নি 'ফতেহ' ববিকে। ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করে সে এদেশের আর্মিতে যোগ দেয়। নেপথ্যে একটাই উদ্দেশ্য- 'আলফা মিশন'। যশরাজ ফিল্মস-এর গোয়েন্দা ছবির এহেন প্লটের সঙ্গে অনেকেই 'ধুরন্ধর'-এর সাযুজ্য খুঁজে পেয়েছেন। ঠিক যেমন কাঁটাতার পেরিয়ে বহু কাঠখড় পেরিয়ে লিয়ারিতে পা রেখেছিল 'হামজা আলি' ওরফে রণবীর সিং। যদিও 'আলফা'র ক্ষেত্রে গল্পটা উলটো, তবে সেপ্রসঙ্গ টেনেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিতর্কিত অভিনেতা কমল আর খান।
'আলফা'য় অনিল কাপুর, আলিয়চা ভাট, ববি দেওল, শর্বরী ওয়াঘ
'ধুরন্ধর'-এ রণবীর সিং ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে পাকিস্তানে যায়। আর 'আলফা'য় ববি দেওল এক পাকিস্তানি এজেন্ট হিসেবে ভারতকে ধ্বংস করার ছক নিয়ে এদেশে আসে।
তাঁর কথায়, "'ধুরন্ধর' দেখার পর প্রযোজক আদিত্য চোপড়া ওই গল্পটা উলটে দিয়ে 'আলফা' তৈরি করেছেন। এটাই প্রমাণ করে যে প্রযোজকের আসলে সৃজনশীলতার অভাব। 'ধুরন্ধর'-এ রণবীর সিং ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে পাকিস্তানে যায়। আর 'আলফা'য় ববি দেওল এক পাকিস্তানি এজেন্ট হিসেবে ভারতকে ধ্বংস করার ছক নিয়ে এদেশে আসে। আদিত্য ধর রণবীর সিংকে 'বিজয়ী' হিসেবে তুলে ধরতে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনেন। অন্যদিকে 'আলফা'য় পাকিস্তানি এজেন্ট ববিকে ব্যর্থ দেখাতে তাঁকে মেরে ফেলা হয়।" এরপরই দুই দেওল ভাইদের উদ্দেশে তোপ দাগেন কমল আর খান। অভিনেতার সংযোজন, তবে এক্ষেত্রে মজার বিষয় হল, "এক ভাই সানি ভারতকে রক্ষা করছেন, আর অন্য ভাই ববি ভারতকে ধ্বংস করছেন। অর্থাৎ একই ঘরে দেশপ্রেমিক এবং দেশদ্রোহীর সহাবস্থান।" উল্লেখ্য, এযাবৎকাল 'বর্ডার', 'গদর' ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে হালফিলের মুক্তির অপেক্ষায় থাকা 'বাটওয়ারা ১৯৪৭'-এর মতো একাধিক সিনেমায় দেশপ্রেমের গাথা তুলে ধরেছেন সানি দেওল। সেই প্রেক্ষিতেই এবার ববিকে 'আলফা'য় পাক এজেন্টের ভূমিকায় দেখে এহেন আক্রমণ শানিয়েছেন কমল।
