রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। নজির গড়ে গোল পেয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে এবার কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরের একটি ঘটনাও সমানভাবে চর্চায়। বিশ্বকাপের ৩২তম রাউন্ডে ম্যাচের সেরার পুরস্কার নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার সাংবাদিক সোফি মার্টিনেজের সঙ্গে মেসির কথোপকথন নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
মিক্সড জোনে সোফিকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে যান মেসি। তাঁকে জড়িয়েও ধরেন। কোনও সংকোচ ছাড়া মেসির গালে চুমু এঁকে দেন ওই সাংবাদিক। এরপর মেসি বলেন, “যদি আমি তোমার দিকে তাকাই, তাহলে সকলে বলবে কেন তাকালাম। যদি তোমার সঙ্গে কথা বলি, তা হলে সকলে বলবে কেন কথা বললাম।” জবাবে সোফি বলেন, “তুমি যা বললে তার গুরুত্ব আমার কাছে খুব বেশি। তোমার এই কথার জন্য ধন্যবাদ।”
মেসি ও সোফি। ছবি সংগৃহীত।
ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। একাংশের মতে, এতে নতুন কোনও সম্পর্কের রসায়ন না খোঁজাই উচিত। স্বাভাবিক আচরণ করেছেন মেসি। আবার অন্যদের দাবি, এত সাংবাদিকের মধ্যে শুধু সোফির সঙ্গে তাঁর এই আন্তরিকতা নতুন করে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যদিও মেসি, তাঁর স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো অথবা সোফি, কেউই এ ব্যাপারে কিছু বলেননি।
মেসি ও সোফির পরিচয় নতুন নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে সোফির একটি সাক্ষাৎকারে তিনি মেসিকে বলেছিলেন, বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও আর্জেন্টিনাবাসীর কাছে তিনি নায়কই থাকবেন। সেই সাক্ষাৎকারও সেসময় সাড়া ফেলে দিয়েছিল। কয়েক মাস আগে সোফিকে দেওয়া মেসির একটি সাক্ষাৎকারের পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়।
এ দিকে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠলেও নিজেদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, “জানতাম ম্যাচটা খুব কঠিন হবে। বিশ্বকাপে কেউ আপনাকে সহজে কিছু দেবে না। এখন আমরা বিশ্রাম নেব। এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করব। কেপ ভার্দেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য অভিনন্দন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আগেই জানতাম কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। এই দলটা স্পেন এবং উরুগুয়েকে আটকে দিয়েছিল। প্রথম গোল করাটাই ছিল সবচেয়ে কঠিন। সেটা আমরা করতে পেরেছি। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার পর ভেবেছিলাম খেলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ঠিক উলটোটা হয়েছে।”
নিজেদের প্রত্যাশামতো খেলতে না পারার কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন মেসি। তাঁর কথায়, “কেপ ভার্দে ওদের পরিকল্পনা এবং দক্ষতার দুর্দান্ত ব্যবহার করেছে। নকআউট ম্যাচে চাপ থাকেই। সহজে কিছু পাওয়া যায় না। কেউ নাম দেখে প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখতে পারে, আমরা তা করি না।” বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের কঠিন বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। মেসির বক্তব্য, “এটাই বিশ্বকাপের সৌন্দর্য। এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। ভালো খেললেও প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। আর নিজের সেরাটা দিতে না পারলে আরও বেশি খাটতে হয়।”
