সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্যালেন্ডারে জুন মাস। মাণ্ডির সাংসদ পদপ্রাপ্তির সবে বছর ঘুরেছে। আর এর মাঝেই রাজনীতি নিয়ে তিতিবিরক্ত কঙ্গনা রানাউত! সদ্য এক সাক্ষাৎকারে তেমনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন নেত্রী-অভিনেত্রী। বলিউডের মতো রাজনীতির পিচেও নিত্যদিন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে কঙ্গনাকে। সংসদীয় এলাকার বাসিন্দাদের ছোটখাট সমস্যা নিয়ে দরবারে হাজির হওয়াতেই নাকি বেজায় চটেছেন 'মণিকর্নিকা'। আর সেই প্রেক্ষিতেই বিরক্তির উদ্রেক ঘটেছে সাংসদের! কঙ্গনার মন্তব্য, "সাংসদ হয়ে পঞ্চায়েতের বিধায়ক লেভেলের কাজ কেন করব?"
সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার নিয়ে মুখ খুলেছিলেন সাংসদ-অভিনেত্রী। সেখানেই কঙ্গনা জানান, "আমি বেশ বুঝতে পারছি, রাজনীতি একেবারে অন্যরকম একটা কাজ। মূলত সমাজসেবা করা। একেবারেই বলব না, আমি এটা উপভোগ করছি। কারণ আমার রাজনৈতিক কোনও ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। অতীত অভিজ্ঞতাও নেই। তাই আমি কোনওদিন মানুষের সেবা করব বলে ভাবিওনি। নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য আওয়াজ তুলেছি। তবে সেটার সঙ্গে জনসাধারণের কাজ সামলানোর কোনও মিল নেই।" আচমকাই কেন এমন উপলব্ধি কঙ্গনা রানাউতের?
মাণ্ডির সাংসদ বলছেন, "নারীক্ষমতায়নের জন্য লড়া আর কারও বাড়ির ভেঙে যাওয়া নর্দমা সারাই করানো নিয়ে মাথা ঘামানো একবিষয় নয়। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমি তো সাংসদ, আর এই লোকগুলো আমার কাছে পঞ্চায়েত লেভেলের সমস্যাগুলো নিয়ে কেন আসছেন? ওদের সত্যিই কিছু যায়-আসে না। যখনই আমাকে দেখবে, তখনই এসে সমস্যার কথা বলবে। কেউ ভাঙা রাস্তার কথা বলেন, আবার কেউ অন্য সমস্যা নিয়ে আসেন। আমি ওঁদের বলি, এটা তো রাজ্যসরকারের দেখা উচিত। পরিবর্তে আমাকে শুনতে হয়- আপনার তো অনেক টাকা আছে, নিজের টাকা দিয়েই রাস্তাটা বানিয়ে দিন। এরপরই কঙ্গনা রানাউত আরও একটা বোমা ফাটালেন।
নেত্রী-অভিনেত্রী বললেন, "আমি বরাবর ভীষণ স্বার্থপরের মতো জীবনযাপন করেছি। মানে এই ধরুন, আমার বড় বাড়ি-গাড়ি চাই। আমার হিরের গয়না চাই। আমাকে যেন দেখতে সুন্দর লাগে। এসবে মাথা ঘামাতাম।" ভবিষ্যতে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান? এহেন প্রশ্নের উত্তরে কঙ্গনার সোজাসাপটা মত, "আমার মনে হয় না আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য, আর আমার সেই ইচ্ছেও নেই।" রাজনীতিতে অভিষেকের বছর ঘুরতেই কঙ্গনা রানাউতের এহেন মন্তব্যকে ইঙ্গিতপূর্ণ মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন অভিনেত্রী?
