কঙ্কনা চক্রবর্তী, একাধারে পরিচালক আবার অভিনেত্রীও। তাঁর নির্দেশনায় দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছিল সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার 'রি-রাউটিং'। ৩৫ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মের টিজার শেয়ার করে কঙ্কনাকে সোশাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন খোদ বলিউডের শাহেনশা অমিতাভ বচ্চন। খাস কলকাতার মেয়ে হয়েও লস অ্যাঞ্জেলসই তাঁর বর্তমান ঠিকানা। তবে অভিনয়ের টানেই কলকাতা-মুম্বই আসা যাওয়ার মধ্যেই থাকেন কঙ্কনা। এবার অভিনেত্রীর ভূমিকায় প্রশংসিত কঙ্কনা। ১০ এপ্রিল থেকে জি ফাইভে শুরু হয়েছে রজত কাপুর পরিচালিত মার্ডার মিস্ট্রি 'এভরিবডি লাভস সোহরব হান্ডা'। সেখানেই নাজিয়া চরিত্রে নজর কেড়েছেন বঙ্গললনা। ২০১৯-এ 'শব্দজব্দ' সিরিজে রজত কাপুরের সঙ্গে একটি দৃশ্যে অভিনয় কী ভাবে এই নতুন সিনেমায় কাজের সুযোগ এনে দিল সেই গল্পই সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে শোনালেন কঙ্কনা চক্রবর্তী।
বেশ কয়েক বছর পিছন ফিরে শুরু করলেন 'এভরিবডি লাভস সোহরব হান্ডা'-র নাজিয়া হয়ে ওঠার কাহিনি। কঙ্কনা বলেন, "আমি প্রথমে রজত কাপুরের তরফে একটা মেল পেয়েছিলাম। সেখানেই বলেছিল অন্য একটা নম্বর থেকে কল করছি, ফোনটা ধরো। রজতের সঙ্গে ২০১৯-এ আমার প্রথম কাজ 'শব্দজব্দ' সিরিজে। একটাই দৃশ্যে আমরা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলাম। আর ওই দৃশ্যের শুটিং শেষে রজত আমাকে প্রমিস করেছিল কোনও না কোনও দিন আমাকে ওঁর ছবিতে কাস্ট করাবে। এরপর ২০২১-এর ডিসেম্বরে অডিশনের ডাক পাই। তখন মেলে-ই স্ক্রিপ্টও পাঠিয়েছিল, গল্পটা আমার ভালো লাগে। এরপর আমি অডিশন দিতে যাই, নাজিয়া চরিত্রের জন্য সিলেক্ট হই। এই সিনেমার নির্দেশনা থেকে চিত্রনাট্য লেখা, অভিনয় সবটাই রজত করেছেন। তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করাটা সত্যিই বিরাট পাওনা।"
রজত কাপুরের নির্দেশনায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ কঙ্কনার
ক্যামেরার পিছনে রজত কাপুর কেমন সেই প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর সংযোজন, "আমাদের শুটিং হয়েছিল লোনাভলাতে। প্রথমদিন রজত নিজে প্রত্যেকের হাতে একটা করে গোলাপ দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিল। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোই ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ক। এই ছবিতে প্রতিভাবান শিল্পীদের ভিড়ে অভিনেত্রী হিসেবে আমাকে নবাগতা বললেও ভুল বলা হয় না। কিন্তু, কাজ করতে গিয়ে সেই অনুভূতিটাই হয়নি। প্রত্যেকে ভীষণ সহযোগী।"
২০২১-এর ডিসেম্বরে অডিশনের ডাক পাই। তখন মেলে-ই স্ক্রিপ্টও পাঠিয়েছিল, গল্পটা আমার ভালো লাগে। এরপর আমি অডিশন দিতে যাই, নাজিয়া চরিত্রের জন্য সিলেক্ট হই।
নাজিয়া চরিত্র নিয়ে কঙ্কনা বলেন, "আমি চরিত্রটাকে ভালোবেসে কাজ করেছি। পর্দায় নিখুঁততভাবে ফুটিয়ে তোলার প্রচেষ্টাই করেছি। রজতের সঙ্গে ২০১৯-এ কাজ না করলে এই সিনেমায় সুযোগ পেতাম কিনা জানি না। এডিট টেবিল থেকে রজত আমাকে মেসেজ করেছিল আমার সিক্যোয়েন্সগুলো যখন আসছে তখনই নতুনভাবে আমাকে খুঁজে পাচ্ছে। ওঁর সঙ্গে কাজ করা আমার পরম সৌভাগ্য। সিনেমাটা মুক্তি পেতে চার বছর সময় লেগে গেল। মামি মুম্বই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটি প্রদর্শিত হওয়ার পর প্রশংসিত হয়েছিল। আশা করি এখন দর্শকেরও ভালো লাগবে।"
