পরনে দুধ সাদা ব্রালেট। লাস্যময়ী অবতারে রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে ধরা দিয়ে বিতর্কের শিরোনামে কৃতী শ্যানন (Kriti Sanon)। যে প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসার ৪২ ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কের স্ফুলিঙ্গ জ্বেলে দিয়েছে আসমুদ্রহিমাচলে। ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগে নিন্দার ঝড় সোশাল পাড়াতেও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে বিতর্ক থামাতে বড়সড় পদক্ষেপ করতে বাধ্য হল গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা।
অভিযোগ, কৃতীর অত্যাধুনিক পোশাক থেকে উঁকি দেওয়া উন্মুক্ত বক্ষবিভাজিকা ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাখিবন্ধন উৎসবকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছে! এহেন বিতর্কযজ্ঞে ‘ফোড়ন’ কেটে ঘৃতাহূতি করেছিলেন ‘সংস্কারি’ সাংসদ নায়িকা কঙ্গনা রানাউত। এরপরই নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতী শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী।
রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে স্বল্পাবাসে ধরা দিয়ে মারাত্মক বিতর্কে জড়িয়েছেন কৃতী শ্যানন। বিজ্ঞাপনী ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই নেটভুবনে কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার ‘ককটেল ২’ অভিনেত্রী। অভিযোগ, কৃতীর অত্যাধুনিক পোশাক থেকে উঁকি দেওয়া উন্মুক্ত বক্ষবিভাজিকা ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাখিবন্ধন উৎসবকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছে! এহেন বিতর্কযজ্ঞে ‘ফোড়ন’ কেটে ঘৃতাহূতি করেছিলেন ‘সংস্কারি’ সাংসদ নায়িকা কঙ্গনা রানাউত। এরপরই নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতী শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। এককথায় 'স্বল্পাবাসী' নায়িকার রাখিবন্ধনের ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিকমহলেও জোর তরজা। বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে নেওয়া হল ওই বিজ্ঞাপনী ভিডিও।
"ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা বরাবরই পরিবারের সকলের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো উদযাপনে বিশ্বাসী।..."
রাখি উপলক্ষে জনপ্রিয় গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার দূত হিসেবে এক বিজ্ঞাপনী ভিডিও করেন কৃতী শ্যানন। আর তার প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসতেই রে-রে করে উঠেছে সভ্যমহলের একাংশ। একাংশের মতে, ‘কৃতীর সাজপোশাক একেবারে বেমানান। রাখিবন্ধনের মতো পবিত্র উৎসবে খোলামেলা পোশাক পরে ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে কলুষিত করছেন তিনি।’ কারও বা প্রশ্ন, ‘আলমারিতে আর কোনও পোশাক ছিল না?’ শুধু তাই নয়, রাখির বিজ্ঞাপনে পোষ্য সারমেয়কে রাখি বাঁধাতেও আপত্তি তুলেছেন একাংশ। বিতর্কের আবহে নিন্দুকদের উদ্দেশে পালটা কৃতী হাইভোল্টেজ জবাব ছুড়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। এবার বিবৃতি জারি করে জনপ্রিয় ওই গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে জানানো হল, ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান অটুট রেখেই ওই বিজ্ঞাপনী ভিডিও তুলে নেওয়া হচ্ছে।
কৃতী শ্যানন। সোশাল মিডিয়া
বিবৃতিতে উল্লেখ, "ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা বরাবরই পরিবারের সকলের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো উদযাপনে বিশ্বাসী। আর এবার আমরা সেই ভালোবাসা ও উদযাপনের অংশীদার করতে চেয়েছিলাম আমাদের পোষ্যদেরও। তাই আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনও অংশের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকে, তবে সেটা মোটেও আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। শ্রদ্ধাবশত আমরা সব সোশাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই বিজ্ঞাপনটি তুলে নিচ্ছি। এই উৎসবের মরসুমে আপনাদের সবার জন্য রইল ভালোবাসা ও শুভকামনা!"
কৃতী যুক্তি দেন, “ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নারীদের মনে থাকে। পোশাকের নেকলাইন কিংবা বিভাজিকায় নয়। রাখিবন্ধন উৎসব একটা আবেগ। সুরক্ষার এক বন্ধন।..."
মঙ্গলবার এপ্রসঙ্গে কৃতী যুক্তি দেন, “ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নারীদের মনে থাকে। পোশাকের নেকলাইন কিংবা বিভাজিকায় নয়। রাখিবন্ধন উৎসব একটা আবেগ। সুরক্ষার এক বন্ধন। আমি ও আমার বোন একে-অপরকে রাখি পরাই। আমরা বিশ্বাস করি, ভাই থাকলে যেমন সুরক্ষা দিতে পারত, আমরাও পরস্পরকে ঠিক তেমনই সুরক্ষিত রাখতে পারব। তাছাড়া, নারীরা কী পরবেন- সে বিষয়ে তাঁদের নিদান দেওয়া সমাজ কবে বন্ধ করবে? সময়ের সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল পোশাকের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে, অথচ আজও একজন নারীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে শুধু তাঁর পোশাক দিয়েই বিচার করা হয়।” তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধীও বলেন, “একজন নারী কী পরবেন, কী করবেন এবং কোথায় যাবেন?– সেসব একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ। নারীদের স্বাধীনতায় নাকগলানো বন্ধ করুন।” এমন আবহেই বিজ্ঞাপনী ভিডিও তুলে নেওয়া হল।
