পঁচিশ সালের মহাকুম্ভ থেকে যে ভাইরালকন্যেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়েছিলেন, সেই মোনালিসা ভোঁসলের বিয়ের খবর পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন সনোজ মিশ্র! ‘দ্য মণিপুর ডায়েরি’ সিনেমার পরিচালক খুব আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, “মোনালিসা গঙ্গার মতো পবিত্র ছিল, কিন্তু লাভ জিহাদে ফেঁসে গেল।” ছবির অভিনেত্রীর বিয়ের খবরে পরিচালকের এহেন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসার পর কম ফিসফাস হয়নি! এবার পালটা সনোজ মিশ্রর বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তা এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে পকসো মামলা দায়ের করলেন মোনালিসা ভোঁসলে।
“সনোজ মিশ্র মোটেও ভালো মানুষ নন। শুটিংয়ে তিনি বেশ কয়েকবার আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, আমাকে জাপটেও ধরেছিলেন। আমি আমার পরিবারকে জানিয়েছিলাম যে, ...।"
গত মার্চেই এক সাংবাদিক বৈঠকে মোনালিসা জানিয়েছিলেন, নেপাল ও দেরাদুনে ‘দ্য ডায়েরি অফ মণিপুর’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন সনোজ মিশ্র তাঁকে একাধিকবার অশালীনভাবে স্পর্শ করেন। মোনালিসা বলেছিলেন, “সনোজ মিশ্র মোটেও ভালো মানুষ নন। শুটিংয়ে তিনি বেশ কয়েকবার আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। শুধু তাই নয়, আমাকে জাপটেও ধরেছিলেন। আমি আমার পরিবারকে জানিয়েছিলাম যে, সানোজ আমাকে খারাপভাবে স্পর্শ করেছেন, কিন্তু পরিবার আমার পাশে দাঁড়ায়নি। আসলে ওরা টাকার জন্য চুপ ছিল।” এখানেই অবশ্য থামেননি মোনালিসা। তাঁর সংযোজন, "সনোজ মিশ্র অত্যন্ত নোংরা লোক। সিনেমায় সুযোগের টোপ দিয়ে তরুণীদের শ্লীলতাহানি করেন।" কিন্তু কেন তখন পুলিশের দ্বারস্থ হননি মোনালিসা? জবাবে মহাকুম্ভের ভাইরালকন্যের সংযোজন, “আমার পরিবারই অভিযোগ দায়ের করতে দেয়নি। ওরা আমাকে ছেড়ে চলে যায়। এমতাবস্থায় আমি কী-ই বা করতাম! সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, আমাদের সাহায্য করুন। আমার সিনেমার পোস্টার পুড়িয়ে আমাদের প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সনোজ মিশ্র আমার স্বামী ফরমান খানকেও সন্ত্রাস বলে তোপ দেগেছেন। উনি আসলে দাঙ্গা চান। মোটেই ভালো মানুষ নন।” এবার সেই পরিচালক সনোজ মিশ্র-সহ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক নেতা এবং এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে পালটা পকসো আইনে মামলা করলেন মোনালিসা।
স্বামী ফরমান খানের সঙ্গে মোনালিসা।
কেরলে ফরমান খানকে বিয়ের পরেই মোনালিসার মা অভিযোগ করেছিলেন, জন্মের ‘ভুয়ো’ শংসাপত্র দেখিয়ে বয়স বাড়িয়ে তাঁর মেয়েকে বিয়ে করেছেন ফরমান। উল্লেখ্য়, এই একই দাবিতে সুর চড়িয়েছিলেন 'দ্য মণিপুর ডায়েরি' ছবির পরিচালক সনোজ মিশ্রও। সেই প্রেক্ষিতেই মোনালিসার স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়। এরপরই মোনালিসাকে বয়ান রেকর্ডের জন্য তলব করা হলে ফরমান পুলিশকে জানান, মোনালিসা এখন অন্তঃসত্ত্বা। তাই বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় হাজিরা দিতে যেতেও পারবেন না। এবার পালটা পরিচালক-সহ এক নেতা ও আইনজীবীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করলেন মহাকুম্ভের 'ভাইরাল গার্ল'।
মহাকুম্ভের সেই ‘ভাইরাল গার্ল’কেই রুপোলি পর্দার নায়িকা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সনোজ মিশ্র। পরবর্তীতে পরিচালক এও দাবি করেন যে, মোনালিসাকে পড়়াশোনা করানোর পাশাপাশি গ্ল্যামার দুনিয়ার জন্যেও তৈরি করছেন তিনি। মোনালিসাও কেরিয়ার গড়ার আশায় পরিবারের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে সনোজের হাত ধরে মধ্যপ্রদেশ থেকে উড়ানে মায়ানগরীতে পা রাখেন।
পঁচিশ সালের মহাকুম্ভই ঘুরিয়ে দিয়েছিল এই বিড়ালাক্ষী মালাপসারিণীর ভাগ্যের চাকা। প্রয়াগরাজে পা রেখে রাতারাতি সেনসেশন হয়ে ওঠেন পাথরের মালা বিক্রেতা। যার জেরে সিনেদুনিয়া থেকেও ডাক পান খারগাঁওয়ের এই ষোড়শী। মহাকুম্ভের সেই ‘ভাইরাল গার্ল’কেই রুপোলি পর্দার নায়িকা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সনোজ মিশ্র। পরবর্তীতে পরিচালক এও দাবি করেন যে, মোনালিসাকে পড়়াশোনা করানোর পাশাপাশি গ্ল্যামার দুনিয়ার জন্যেও তৈরি করছেন তিনি। মোনালিসাও কেরিয়ার গড়ার আশায় পরিবারের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে সনোজের হাত ধরে মধ্যপ্রদেশ থেকে উড়ানে মায়ানগরীতে পা রাখেন। যদিও সেই সিনেমার কোনও আপডেট আপাতত নেই, তবে এর মাঝেই দক্ষিণী সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে প্রেমিক ফরমানের খানের সঙ্গে বিয়ে করে ফের লাইমলাইটে উঠে আসেন মোনালিসা। এবার মহাকুম্ভের সেই ভাইরালকন্যেই সনোজ মিশ্রর বিরুদ্ধে অশালীন স্পর্শের অভিযোগে পকসো মামলা দায়ের করলেন।
