কাশ্মীরি-বিহারি দ্বন্দ্ব বাঁধিয়ে ফের বিতর্কে সময় রায়না ও তাঁর শো 'ইন্ডিয়াজ গট ল্যান্টেন্ট'। কখনও বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে 'মশকরা', কখনও তাঁর 'ইন্ডিয়াজ গট ল্যান্টেন্ট' শোয়ে রণবীর এলাহাবাদিয়ার যৌনগন্ধী রসিকতার কারণে জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এবার কাশ্মীরি-বিহারি দ্বন্দ্ব বাঁধিয়ে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে সময় রায়না (Samay Raina)। বিহারিদের নিয়ে সময়ের এহেন মন্তব্যে সরব অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী (Manoj Bajpayee)।
কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকলেও শিকড় বিহারের। তাই সময় রায়নার বিহারিদের নিয়ে রসিকতায় অপমানিত বোধ করেছেন অভিনেতা। 'লাস্ট ম্যান ইন টাওয়ার'-এর প্রচারে এমন মশকরার তীব্র বিরোধীতা করেছেন। তাঁর মতে, দর্শককে হাসানোর জন্য কারও ভাবাবেগে আঘাত না লাগে। মনোজের স্পষ্ট যুক্তি, "যদি সবটাই মজা করে বলা হয় তাহলে আমার সত্যিই কোনও আপত্তি নেই। অবশ্যই হাসতে হবে, একে অপরকে নিয়ে হাসতে হবে। কিন্তু, একইসঙ্গে একটি বিষয় নজরে রাখতে হবে যেন একজনের হাসি অন্য কারও কষ্টের কারণ না হয়। সম্মানের সঙ্গে রসিকতা করাটাই কাম্য়। যাকে নিয়ে রসিকতা করা হচ্ছে তাঁর সম্মানে বা ভাবাবেগে আঘাত না লাগে সেটা অবশ্যই দেখা উচিত। দু’জন মানুষ যদি একে অপরের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ থাকেন তাহলেই তাঁরা পরস্পরকে নিয়ে মজা করতে পারেন।"
বর্তমানে ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যান্টেন্ট’ শোয়ের দ্বিতীয় মরশুমের একটি পর্ব ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। যেখানে আরেক কৌতুকশিল্পী শারন ভার্মার সঙ্গে প্রাদেশিক উচ্চারণ নিয়ে রসিকতা করতে শোনা যায় সময় রায়নাকে। সময় নিজে কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের সন্তান, অন্যদিকে শারনের শিকড় বিহারে। আর সেই নিয়েই দ্বন্দ্ব বাঁধে দুই কৌতুকশিল্পীর। শারনের বিহারি শিকড়় এবং উচ্চারণ নিয়ে খোঁটা দেন সময় রায়না। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “শারন এতটাই বিহারি যে, ‘ইবোলা’ রোগের নাম শুনলে হয়তো ভাবে কেউ ‘ই-বোলা’ মানে ‘ও বলেছে’-এরকম কিছু…।”
উত্তরে তিনি বলেন, “সময় এতটাই কাশ্মীরি যে, ও ‘স্টোনড’ (নেশায় বুঁদ) থাকতে ভালোবাসে।” পালটা জবাবে এরপর সময় বলেন, “জানেন তো, শারন ভার্মা এমন একজন বিহারি যিনি চাকরির সন্ধানে মুম্বই এসেছিলেন। একদম বিহারি সুলভ ব্যাপার-স্যাপার।” পালটা উত্তরে শারন জানান, “আমি অন্তত নিজের ইচ্ছেতেই আমার রাজ্য ছেড়েছিলাম।”
জীবনের একটি ঘটনা স্মরণ করেন বাজপেয়ী জানান, "আমি যখন দিল্লিতে ছিলাম তখন আমার বয়স ১৮। প্রথমবার বাসে উঠতে গিয়ে সামনের দরজা দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলাম। শহরের নিয়মকানুন আমি জানতাম না। তখন বাসের চালক আমার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন, এই বিহারি পিছনের দরজা দিয়ে ওঠো। তিনি জানতেন না যে আমি বিহারের মানুষ। তাঁর কাছে হয়তো যেই এমন বোকামি করবে সেই বিহারি।"
পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব হওয়ার পর তাঁরাও একে অপরের রাজ্য ও পরিচয় নিয়ে মজা করতেন। তাঁর কথায়, "আমরা কখনও আহত বা অপমানিত হতাম না। তবে হ্যাঁ, সমস্যা তখনই হয়, যখন কোনও মানুষ আপনার কাছে বা আপনার সম্প্রদায়ের কাছে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত আমাদের একে অপরকে নিয়ে এবং নিজেদের নিয়ে হাসাহাসি রসিকতা করাই যায়। এটাই তো সুস্থ সমাজের লক্ষণ।"
