একুশের বিধানসভা ভোটে মাটি কামড়ে পড়ে থাকলেও তৃণমূল সরকারকে উৎখাতে ব্যর্থ হয়েছিল বিজেপি। ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় সরকার গঠনের সেই স্বপ্ন হয়েছে বাস্তবায়িত। গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল। শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে প্রথমবার পদ্মের ফলনে উৎসবের আমেজ গেরুয়া শিবিরে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই সুর বদলেছে সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রিটি। তৃণমূলের প্রচারে যাঁরা সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন তাঁরাই নতুন সরকার গঠনের পর পালাবদল করতে উদ্যোগী হয়েছেন, বিজেপির প্রশংসায় একেবারে মুখরিত। এহেন ভোলবদলে নাম না করে তাঁদের 'ধুরন্ধুর' বলে বিঁধলেন মীর আফসর আলি।
টলি সেলেবের একাংশ আবার ছাব্বিশের নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনীতি ছাড়ার বার্তাও দিয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় মীরের 'দুষ্টুমি' কিন্তু, কারও নজর এড়ায়নি।বিদূষকের মুখের আদলে একটি ছবি পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে মীরের মশকরা, 'আমার মুখের ভাব যখন কাউকে বলতে শুনি, আমি আর রাজনীতি করবো না, নিজের আসল কাজে ফিরতে চাই।' প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের নির্বাচনে বিপুল ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পর প্রাক্তন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বারাকপুরবাসী। অতঃপর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিচালক।
রাজনীতি ছেড়েছেন রাজ
অন্যদিকে মমতা ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত টলি অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রও 'ডিগবাজি' খেয়েছেন বললে অত্যুক্তি হবে না। সমাজমাধ্যমে কটাক্ষে বিদ্ধ হতেই রাজনীতির ময়দান ছেড়েছেন। আগামীতে আর কখনও বাংলার রীজনীতিতে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
ভোলবদল রূপাঞ্জনা মিত্রর!
বাংলায় ডিগবাজির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে সে কথা বলার অবকাশই রাখছে না। নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৯৬ ঘন্টার মধ্যেই একাধিক গুণীজনেদের মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। এই মর্মে চর্চায় উঠে এসেছিলেন হুগলির তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী রচনা বন্দোপাধ্যায়। তাঁদের সময় নাকি ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতির বাড়বাড়ন্ত ছিল না। ১৫ বছর আগে কোনও রাজনৈতিক দল এসে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চালাত না বলেও মন্তব্য করেছিলেন রচনা। সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ কাজের পরিবেশে রাজনীতির প্রভাব ছিল না বলে দাবি করেন।
চর্চায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
এখানেই শেষ নয়, টলিউডের অন্দরে রাজনীতির দাপট নিয়েও বিস্ফোরক অভিনেত্রী। টলিউডে প্রায় তিন দশকের কেরিয়ার। বিজেপি জিতছেই ভোলবদলে রচনার বক্তব্য, সরকার যেহেতু তৃণমূলের ছিল তাই আওয়াজ তোলা সম্ভব হয়নি। তবে অনেকদিন ধরেই জনতা জনার্দন যে তৃণমূলকে সমর্থন করছে না সেটা বুঝে গিয়েছিলেন তিনি। বঙ্গে রাজনীতির পালাবদলের পর ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই হাওয়াবদলের মনোভাবকেই ঠুকেছেন মীর সে কথা বলাই বাহুল্য।
