shono
Advertisement
ED

টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরা, অসহযোগিতার অভিযোগে ইডির হাতে গ্রেপ্তার ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস

সোনা পাপ্পুর প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করল ইডি। সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
Published By: Arpita MondalPosted: 09:56 PM May 14, 2026Updated: 12:15 AM May 15, 2026

কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস গ্রেপ্তার। সোনা পাপ্পুর প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করল ইডি। সাড়ে ১০ ঘণ্টা টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডিসিপি শান্তনুকে। সূত্রের খবর, ইডি দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। তদন্তে টানা অসহযোগিতার অভিযোগেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

Advertisement

এর আগে একাধিকবার তাঁকে তলব করে ইডি। জারি করা হয় লুক আউট নোটিসও। অবশেষে বৃহস্পতিবার ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বর্তমানে তিনি ডিরেক্টর সিকিওরিটি কন্ট্রোলে ছিলেন। প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় সোনা পাপ্পু ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র পেতেই টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। ইডি সূত্রে খবর, একের পর এক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান শান্তনু। সূত্রের খবর, ইডির হাতে আসা একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের প্রসঙ্গও উঠে আসে ইডির জিজ্ঞাসাবাদে। টানা অসহযোগিতার অভিযাগেই অবশেষে ইডির জালে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস।

হাতে আসা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের সূত্র ধরেই ইডির গোয়েন্দাদের দাবি, 'শান্তনুদা-র হাতে তুলে দিতে হবে', '২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারিতে শান্তনু স‌্যারের হাতে ফাইল তুলে দেওয়া হয়েছে', এমন বেশ কিছু লাইনের উল্লেখ রয়েছে। এই 'শান্তনুদা' ও 'শান্তনু স‌্যার' আসলে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস কি না, তা জানতে এদিন তাঁকে জেরা করা হয়। ইডির অভিযোগ, প্রথমে তিনি সব কিছুই অস্বীকার করতে থাকেন। ওই শান্তনু তিনি নন বলেও দাবি করেন।

ইডির দাবি, সোনা পাপ্পুর মামলায় ধৃত অভিযুক্ত জয় কামদারের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। তাতে ‘শান্তনু স‌্যার’কে প্রচুর উপহার দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা রয়েছে। এ ছাড়াও জয়ের একাধিক মোবাইল থেকে সংগ্রহ করা নথির সূত্র ধরেই ইডির গোয়েন্দাদের দাবি, 'শান্তনুদা-র হাতে তুলে দিতে হবে', '২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারিতে শান্তনু স‌্যারের হাতে ফাইল তুলে দেওয়া হয়েছে', এমন বেশ কিছু লাইনের উল্লেখ রয়েছে। এই 'শান্তনুদা' ও 'শান্তনু স‌্যার' আসলে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস কি না, তা জানতে এদিন তাঁকে জেরা করা হয়। ইডির অভিযোগ, প্রথমে তিনি সব কিছুই অস্বীকার করতে থাকেন। ওই শান্তনু তিনি নন বলেও দাবি করেন। যদিও ইডির দাবি, মোবাইলে থাকা বেশ কিছু অকাট‌্য প্রমাণ হাতে রয়েছে গোয়েন্দাদের। তাই তদন্তে অসহয়োগিতা করেও কোনও লাভ হয়নি।

ইডির অভিযোগ, জমি ও বাড়ি দখলের জন‌্য বিভিন্ন থানায় যে অভিযোগ দায়ের করা হত, তাতে শান্তনুর মদত ছিল। ওই পুলিশকর্তার ছেলে সায়ন্তন সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে জয় কামদারের একটি অ‌্যাকাউন্টে ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকার লেনদেনের সন্ধান মিলেছে। শান্তনুর দুই পুত্র জয় কামদারের নির্মাণ সংস্থা থেকে ফ্ল‌্যাট কেনেন। তার বদলে তাঁরা ওই সংস্থার অ‌্যাকাউন্টে দু’দফায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ও ৩ লাখ ৪৩ হাজার পাঠান বলে অভিযোগ। ইডির অভিযোগ, ফার্ন রোডের যে বাড়িতে শান্তনু ও তাঁর পরিবার থাকেন, সেটি একটি বিতর্কিত সম্পত্তির উপর বেআইনিভাবে তৈরি। জয় কামদারের নির্মাণ সংস্থার বেআইনি টাকা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও তাঁর পরিবারের লোকেদের মাধ‌্যমে লেনদেন হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন শান্তনুকে জেরা করা হয় বলে জানিয়েছে ইডি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement