একাধিকবার সলমন খান জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়িটা একটুকরো হিন্দুস্থান। যেখানে সর্বধর্মের সহাবস্থান। খান পরিবারে যেমন ইদ উদযাপন হয়, তেমনই ধুমধাম করে গণপতির আরাধনাও হয়। শুধু কি তাই? ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে পদবির জেরে একাধিকবার 'দেশদ্রোহী' খোঁটা খেতে হলেও সলমনরা বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে এসেছেন। এবার রাখি উদযাপনেও সর্বধর্ম সমন্বয়ের পাঠ দিলেন 'সেক্যুলার' সলমন খান।
'হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান- সবাই ভাই ভাই' —এর এক অনন্য উদাহরণ।'
শুক্রবার গভীর রাতে ভাইজানের রাখি উদযাপনের ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত প্রকাশ্যে আসে। সেখানেই দেখা যায়, বোন অর্পিতা খান শর্মা পরমযত্নে ভাইজানের হাতে রাখি বেঁধে দিচ্ছেন। কিন্তু সলমন-অর্পিতার রাখি সেলিব্রেশনে অনুরাগীদের নজর কাড়ে ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড। যেখানে জ্বলজ্বল করছে যিশু খ্রিস্টের 'দ্য লাস্ট সাপার' পেইন্টিং। সেভাবে দেখতে হলে, যিশুকে সাক্ষী রেখেই সলমনের কবজিতে পরম স্নেহে 'রক্ষাসূত্র' বেঁধে দেন বোন অর্পিতা। আর এহেন ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত প্রকাশ্যে আনতেই নেটভুবনে তা দাবানল গতিতে ভাইরাল। চর্চার শিরোনামে সেলেব ভাইবোন। যার জেরে সলমনের 'খানদান'কে 'বলিউডের সেক্যুলার পরিবারে'র তকমা দিয়েছে অনুরাগীমহল। অতঃপর নেটভুবনেও প্রশংসাবার্তার ছয়লাপ।
সলমন-অর্পিতার রাখি উদযাপন
'পিছনের দেওয়ালে 'দ্য লাস্ট সাপার' পেইন্টিং— হে ঈশ্বর! সলমনকে দেখে বাকি বলিউড তারকাদের শেখা উচিত কীভাবে সব ধর্মকে সম্মান করতে হয়।'
কারও মন্তব্য, 'হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান- সবাই ভাই ভাই' —এর এক অনন্য উদাহরণ।' কেউ বা মনে করিয়ে দিলেন, 'ভাইজান বরাবরই ধর্মনিরপেক্ষ। 'কারও উচ্ছ্বাস, 'পিছনের দেওয়ালে 'দ্য লাস্ট সাপার' পেইন্টিং— হে ঈশ্বর! সলমনকে দেখে বাকি বলিউড তারকাদের শেখা উচিত কীভাবে সব ধর্মকে সম্মান করতে হয়।' কেউ লিখেছেন, 'ভাইজান সবসময়েই ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে সোচ্চার, সব ধর্মের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই এবং তা এই ভিডিওতে সেটাই ফুটে উঠেছে।' জনৈক ভক্তের রসিকতা, 'ধর্মনিরপেক্ষতার আল্ট্রা প্রো ম্যাক্স সংস্করণ সলমন খান।' রাখির সাজপোশাক নিয়ে যখন কৃতী শ্যানন কিংবা সেলিনা জেটলির মতো বলিউড তারকাদের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে, তখন এমন আবহেই রাখিতে সর্বধর্ম সমন্বয়ের পাঠ দিয়ে চর্চায় সলমন খান। এদিন দুপুরে বোন আলভিরার বাড়ি থেকে বেরনোর সময়েও গেরুয়া তিলক দেখা যায় বলিউড সুপারস্টারের কপালে।
ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হলেও একাধিকবার পদবীর জেরে ‘দেশদ্রোহী’ খোঁটা খেতে হয়েছে ভাইজানকে। শুধু তাই নয়, ভারতীয় সিনেমায় তাঁর অবদান ভুলে নেটপাড়াতেও বারবার দাবি করা হয়েছে, ‘পাকিস্তানে চলে যান।’ তৎসত্ত্বেও বারবার আন্তর্জাতিক ময়দানে গর্বের সঙ্গে ভারতের সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন সলমন খান। কখনও সিনেমার মাধ্যমে সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছেন তো কখনও বা আবার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুলে দুস্থদের সাহায্য করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আদতে মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী। তবে মুসলিম ধর্মাবলম্বী হলেও গোমাংস ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেন না সলমন খান। এপ্রসঙ্গে সলমন একবার জানান, “আমি গোমাংস এবং পর্ক (শুয়োরের মাংস) ছাড়া সবকিছু খাই। গোমাতা তো আমাদেরও মা। আসলে আমার নিজের মা, সলমা খান (সুশীলা চরক) হিন্দু ধর্মাবলম্বী। আর বাবা মুসলিম। এদিকে আমার আরেক মা হেলেন, খ্রিস্টান। আমার মায়ের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকি আমি। তাই আমার কাছে সব ধর্মই সমান। প্রত্যেকেরই উচিত সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাস করা। আমার বাড়িটাই তো একটুকরো হিন্দুস্তান।”
