নয়ের দশকের ছেলেমেয়েদের কাছে সুপারহিরো 'শক্তিমান' আজও নস্ট্যালজিয়া। টিআরপি চার্টে একচেটিয়া রাজত্ব করা সেই দাপুটে সিরিয়ালের বড়পর্দায় আসার কথা ছিল রণবীর সিংয়ের হাত ধরে। এমনকী পঁচিশ সালে এই সুপারহিরো সিনেমার শুটিং শুরু করার পরিকল্পনাও করে ফেলেছিলেন নির্মাতারা। কিন্তু বাধ সাধেন মুকেশ (Mukesh Khanna)। 'ধুরন্ধর' রণবীর (Ranveer Singh) 'শক্তিমান' মুকেশের মোটেই ভরসার পাত্র নন। রণবীরের মতো একজন সফল অভিনেতাকে প্রত্যাখান করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মুকেশ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অতীত বিতর্ক নিয়ে জানান, তাঁর কাছে 'কিলবিশ' চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু, নিজের সিদ্ধান্তে অটুট মুকেশ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কোটি টাকার চেকও।
তাঁর মতে, 'শক্তিমান'-এর সঙ্গে তিনিই দর্শকের পরিচয় করিয়েছিলেন। তাই কোনওভাবেই খলনায়ক 'কিলবিশ'-এর চরিত্রে অভিনয়ে রাজি নন। তিনি বলেন, "আমি কেন এই ছবিকে সমর্থন করব? শক্তিমান তো আমিই তৈরি করেছি।" রণবীর দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ব্যায় করে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও সবই বৃথা। কিন্তু, রণবীরের মধ্যে শক্তিমান চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার বিশ্বাসযোগ্যতা খুঁজে পাননি। এদিকে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতেও খারাপ লাগছিল মুকেশের।
কিন্তু, মুকেশও 'শক্তিমান' চরিত্রে অভিনয়ের জেদে অনড়। মুকেশের সংযোজন, "আমি ওকে এখান থেকে চলে যেতে বলেছিলাম। কারণ উনি শক্তিমানের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য ভীষণ আগ্রহী ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা এখানে বসে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। সত্যি বলতে, না বলতে গিয়ে আমারও খারাপ লাগছিল। কারণ ওঁর মধ্যে আমি শক্তিমানের জন্য যে ধরনের মুখ কল্পনা করেছিলাম, সেটা দেখতে পাচ্ছিলাম না।"
রণবীর সিং ও মুকেশ খান্না
রণবীরের প্রশংসা করে মুকেশ বলেন, "এতটাই এনার্জেটিক ছিলেন যে ওই তিন ঘণ্টা পুরো গল্প বলছিলেন। কখনও আবার মেঝেতে বসে পড়ছিলেন। এরপর আদিত্য চোপড়া পিছন থেকে এলেন। আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। তাঁর মতো এত এনার্জেটিক মানুষ আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। দেব আনন্দ সাহেবের পর এই অভিনেতার মধ্যেই আমি এতটা এনার্জি দেখেছি। তিনি এক জায়গায় স্থির হয়ে বসতেই পারেন না। এখানে বসলে ওখানে চলে যাবেন, সেখান থেকে টেবিলের ওপর লাফ দেবেন, তারপর আবার অন্য কোথাও চলে যাবেন।"
কোটি টাকার চেক ফিরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে মুকেশ খান্না বলেন, "বাণিজ্যিক দিক থেকে দেখলে আমি বোকামি করছি। আমি লাখ টাকার নয়, কোটি টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়েছি। আমার নিজের অফিসের লোকজনও বলেছিলেন, স্যার, চেকটা নিয়ে নিন। পরে লড়াই করবেন। আমি বলেছিলাম, চুপ করুন। এসব নিয়ে কথা বলবেন না। আমি এটা করতে চাই না। টাকা আমার কাছে নীতির আগে নয়। ওঁরা আমার সঙ্গে পরামর্শ করতে রাজি ছিলেন, কিন্তু ছবিটা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ীই বানাতেন।"
