shono
Advertisement

Breaking News

Ghooskhor Pandat

মনোজ বাজপেয়ীর 'ঘুষখোর পণ্ডিত'-এ ব্রাহ্মণদের অপমান! মামলার জেরে নাম বদলাচ্ছে নেটফ্লিক্স

দিল্লি হাই কোর্টে মামলার পর উত্তরপ্রদেশেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয় নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত সিনেমাকে। নেটফ্লিক্সকেও ছবির প্রচারঝলক সরানোর নির্দেশ দেয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রক।
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 04:25 PM Feb 10, 2026Updated: 04:25 PM Feb 10, 2026

'ঘুষখোর পণ্ডিত' সিনেমা নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিকমহল। কথায় বলে, 'নামে কি আসে যায়?' কিন্তু এই নামের জেরেই ঘোর আইনি বিপাকে মনোজ বাজপেয়ীর আসন্ন সিনেমা। 'পণ্ডিত'-এর আগে 'ঘুষখোর' শব্দটি নিয়েই যত বিতর্কের ঝড়। গত বুধবার টিজার প্রকাশ্যে এনে সিনেমার ঘোষণা করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই জোড়া মামলার ফলায় বিদ্ধ হন সিনেনির্মাতারা। অভিযোগ, 'ঘুষখোর পণ্ডিত' নামে সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়কে অপমান করা হয়েছে। আর সেই মর্মেই দিল্লি হাই কোর্টে মামলার পর উত্তরপ্রদেশেও আইনি জটিলতায় পড়তে হয় নীরজ পাণ্ডে পরিচালিত সিনেমাকে। কেন্দ্রের কাছেও 'মুখ পুড়েছে' নেটফ্লিক্সের! সংশ্লিষ্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে ছবির প্রচারঝলক সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে।

Advertisement

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের মন্তব্য, "ভারতীয় জনতা পার্টি এবং মোদি সরকার সমাজের সকল সম্প্রদায়কে সম্মান করে এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার দৃঢ় সমর্থক। সমাজের কোনও অংশকে হেয় করার বা তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টা আমাদের কাছে একদম গ্রহণযোগ্য নয়।

এবার খবর, তুমুল আইনি বিতর্কের জেরে সিনেমার নাম বদলাতে রাজি হয়েছে নেটফ্লিক্স। আইনজীবী বিনীত জিন্দালের মারফৎ মহেন্দ্র চতুর্বেদী নামে জনৈক ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার মনোজ বাজপেয়ীর সিনেমার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, পণ্ডিতের সঙ্গে কেন ‘ঘুষখোর’ শব্দটি রাখা হল? জানা গিয়েছে, ওই মামলাকারী ভারতীয় ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ণ ও শিক্ষাদানে নিবেদিত একজন আচার্য। আর সেই প্রেক্ষিতেই সমূহ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হয়ে অপমানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন তিনি। আদালতে মামলা দায়ের করে তাঁর যুক্তি, "'পণ্ডিত' শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে পাণ্ডিত্য, নীতিশাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিক নির্দেশনার প্রতীক। আর সেটাকেই কিনা সিনেমার শিরোনামে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হল! এটা তো ন্যায়সংহিতার ১৪, ২১ এবং ২৫ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে।" সেই মামলার প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার নেটফ্লিক্সের তরফে দিল্লি হাই কোর্টকে জানানো হয়, 'ঘুষখোর পণ্ডিত'-এর প্রযোজকরা সচেতনভাবেই সিনেমার নাম বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ছবির নাম নিয়ে চলতি উদ্বেগের আবহে অন্য কোনও শিরোনামে সিনেমাটিকে আনা হবে বলে জানায় নেটফ্লিক্স। যদিও নির্মাতাদের তরফে নতুন কোনও নাম এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

'ঘুষখোর পণ্ডিত'-এ মনোজ বাজপেয়ী, ছবি- সোশাল মিডিয়া

জানা গিয়েছে, 'ঘুষখোর পণ্ডিত' ছবিতে অজয় ​​দীক্ষিত যাকে 'পণ্ডিত' বলে পরিচয় করানো হয়েছে, সেই ব্যক্তি আদতে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিক। টেবিলের তলা দিয়ে ঘুষ নিয়ে কাজ খালাস করতে যার জুড়ি মেলা ভার। আর পরিচালক নীরজ পাণ্ডের ফ্রেমে এহেন চরিত্রে অভিনয় করেই বিপাকে পড়েছেন মনোজ বাজপেয়ী! যে সিনেমার নাম, এমনকী বিষয়বস্তু নিয়ে বর্তমানে তুমুল আইনি বিতর্ক। তবে আপত্তি যে শুধু গেরুয়া শিবিরের তরফেই উঠেছে, তেমনটা নয়! এই সিনেমা বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখার অন্যতম 'ইস্যু' হয়ে উঠেছে। কারণ যোগীর পাশাপাশি এই সিনেমার নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন বিরোধী মায়াবতীও। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের মন্তব্য, "ভারতীয় জনতা পার্টি এবং মোদি সরকার সমাজের সকল সম্প্রদায়কে সম্মান করে এবং মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার দৃঢ় সমর্থক। সমাজের কোনও অংশকে হেয় করার বা তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে কোনও প্রচেষ্টা আমাদের কাছে একদম গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এমতাবস্থায় নেটফ্লিক্স থেকে বিতর্কিত ছবি 'ঘুষখোর পণ্ডিত'-এর টিজার এবং সমস্ত প্রচারঝলক সরানোর এই নির্দেশ অত্যন্ত যথাযথ এবং প্রশংসনীয়।" তখনই অনুমান করা হয়, নাম বদল করে নতুন মোড়কে সিনেমার ঝলক প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে পারেন নীরজ পাণ্ডে এবং মনোজ বাজপেয়ী। এবার সেই অনুমানই সত্যি হল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement