সম্প্রতি এআর রহমান বলেছিলেন, "ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই গত আট বছরে বলিউডে কাজের সুযোগ কমেছে। কারণ যাঁরা সৃজনশীল নন, ক্ষমতা এখন তাঁদের হাতেই...।" অস্কারজয়ী মিউজিক মায়েস্ত্রোর এহেন মন্তব্য নিয়ে গোটা জানুয়ারি মাস ধরে কম কাটাছেঁড়া হয়নি সিনেদুনিয়া থেকে রাজনৈতিক ময়দানে। সেই বিতর্কের আবহেই দিন কয়েক আগে প্লেব্যাক দুনিয়া থেকে অবসর ঘোষণা করেন অরিজিৎ সিংও। এবার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির 'সুপারিশ সংস্কৃতি' নিয়ে বোমা ফাটালেন বিশাল দাদলানি (Vishal Dadlani)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কাজ পাওয়ার জন্য কোনও নেতা-মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করিয়ে কোনও লাভ হবে না।" সম্প্রতি নাকি এক গায়ককে এজন্য উচিত শিক্ষাও দিয়েছেন শিল্পী। কীরকম?
সোম রাতে কড়া ভাষায় সোশাল মিডিয়ায় এক পোস্ট করেন বিশাল। সেখানেই শিল্পী সাফ জানিয়েছেন যে, কোনওরকম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর কাছে কাজের সুযোগ চাইলে চিরকালের মতো তাঁর স্টুডিওর দরজা সেই গায়কের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। ঠিক কী লেখেন বিশাল দাদলানি? গায়ক-সুরকারের পোস্টে উল্লেখ, "নতুন সঙ্গীত শিল্পীদের জন্য একটা পরামর্শ। কোনও মন্ত্রী বা তাঁর সহযোগীকে দিয়ে ভুলেও আমাকে ফোন করিও না। এমনটা করলে আমার গানে সুযোগ পাওয়া তো দূরঅস্ত, আমার সঙ্গে দেখা করারও পথও চিরকালের মতো বন্ধ হয়ে যাবে। নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রভাব খাটিয়ে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের প্রতি আমার কোনও সম্মান নেই।" সম্প্রতি এক গায়ক নাকি তেমন চেষ্টাই করেছিলেন। জনৈক তাবড় মন্ত্রীকে দিয়ে বিশালের দরবারে কাজের সুপারিশ করিয়েছিলেন। আর তাতেই খেপে যান গায়ক-সুরকার! পালটা উচিত পাঠ দিতেও ছাড়েননি ওই মন্ত্রী এবং গায়ককে। ঠিক কী করেন বিশাল দাদলানি?
বিশাল দাদলানি, ছবি- ইনস্টাগ্রাম
বলিউডের স্বনামধন্য গায়ক জানান, "সম্প্রতি এক ছোকড়া সেই চেষ্টাই করেছিল। মন্ত্রীজির পাশাপাশি আমি তাকেও ব্লক করে দিয়েছি। এবার বিষয়টা কী দাঁড়াল? তুমি দুর্দান্ত গান গাইলেও তোমাকে নিয়ে আমার আর কোনও আগ্রহই রইল না।" অতঃপর সিনেদুনিয়ার সঙ্গীতসাম্রাজ্যে যে 'প্রভাব খাটানোর তত্ত্ব' নেহাত নিছক নয়, সেটা বিশালের এহেন পোস্টে আবারও সিলমোহর পড়ল। পাশাপাশি উঠতি শিল্পীদের জন্যে গায়ক-সুরকারের পরামর্শ, "দয়া করে নিজের প্রতিভার উপর বিশ্বাস রাখুন। কঠোর পরিশ্রম করার জন্য প্রস্তুত থাকুন এবং ধৈর্য ধরুন। আপনি যদি ভালো গায়ক হন, তাহলে আপনার সময়ও আসবে। কিন্তু কাউকে দিয়ে সুপারিশ করাবেন না। এটা ভীষণ বিরক্তিকর বিষয় এবং একঘেয়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে যারা কর্মজগতে এগোতে চায়, তাদের আসলে নিজের গুণের উপর ভরসা নেই।"
