আউটডোরে শুটিং করাকালীন সলিল সমাধি। গত ২৯ মার্চ তালসারিতে 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যদিও অভিনেতার মৃত্যুতে এখনও পর্যন্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর অধরা। কারণ গোড়া থেকেই ইউনিটের সদস্যদের বয়ানের সঙ্গে পুলিশের হাতে আসা ফুটেজে অসঙ্গতি পাওয়ায় রহস্য দানা বেঁধেছিল। এরপর রাহুলের মৃত্যুতদন্তের দাবিতে এক মাসব্যাপী বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রিতে ঝড় বয়ে গেলেও সময়ের সঙ্গে থিতিয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট ইস্যু! এবার সেই মামলাতেই দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের। অতঃপর রাহুলের মৃত্যুর তদন্তে (Rahul Banerjee Death Case) এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দিল্লি।
রাহুলের মৃত্যুতদন্তের গতি বাড়াতে মোদির দ্বারস্থ সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
রাহুলের মৃত্যুর পরই শুটিংয়ে তারকাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুর চড়িয়েছিল অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেসময়ে প্রযোজনা সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করে অভিনেতার পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতেও সোচ্চার হয় সংশ্লিষ্ট সংগঠন। সম্প্রতি সেই সংগঠনই রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতদন্তের গতি বাড়াতে মোদির দ্বারস্থ হয়। যার ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দফতর এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। জানা গিয়েছে, অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন' (AICWA)-এর সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তের আবেদনের প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যের কারণ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে। সর্বভারতীয় এই সিনে সংগঠনের অভিযোগ, ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি এবং একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের জেরেই প্রাণ হারান রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার তদন্তের জন্য একটি 'স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম' অর্থাৎ সিট গঠনের দাবি তুলেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। শুধু তাই নয়।
'ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স'-এর লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং ফৌজদারি মামলা রুজু করে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন।
'ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স' -এর লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সকলের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং ফৌজদারি মামলা রুজু করে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের বক্তব্য, নিরাপত্তা বিধি অমান্য করার ফলেই প্রাণ হারাতে হয়েছে রাহুলকে। যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভবিষ্যতে যাতে শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে এমনটা না ঘটে, তার জন্যে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপেরও আর্জি জানানো হয়েছে তাদের তরফে। সর্ব ভারতীয় সিনে সংগঠনের বক্তব্য, রাহুলের মৃত্যুর ন্যায়বিচার আর বিলম্বিত হওয়া উচিত নয়। সেই মর্মেই প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিল AICWA। তার ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে ওড়িশা সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
