২৯ মার্চ রবিবাসরীয় বিকেলে সমুদ্রের নোনা জলই কেড়ে নিয়েছে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণ (Rahul Banerjee Death)। অভিনেতার মৃত্যু ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য। বহু প্রশ্নের সঠিক উত্তরের অপেক্ষায় রাহুলের প্রিয়জনেরা। তাঁর মতো একজন প্রতিভাবান অভিনেতা, থিয়েটার শিল্পী, লেখকের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আগামী শনিবার অর্থাৎ ৪ এপ্রিল নাগরিক সমাজ একটি মিছিলের ডাক দিয়েছে। 'জাস্টিস ফর রাহুল' স্লোগান তুলে পথে নামার ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই সংক্রান্ত আলোচনা করতেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি জরুরি বৈঠক বসে। জানা গিয়েছে ওই বৈঠকে এসেছিলেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও। অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর পূর্ণ তদন্তের দাবিতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে খবর।
প্রসেনজিৎকে ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক মানা হয়। সম্ভবত সেই কারনেই তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, এইদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রযোজক নিসপাল সিং রানে, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল ও দেব। ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তও নাগরিক সমাজের ডাকা মিছিলে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে বিকেল চারটের সময় মিছিল রওনা দেবে। ইম্পার সঙ্গে রাহুলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। বহু কাজের সঙ্গী ছিলেন অভিনেতা। তাই নাগরিক সমাজের ডাকা মিছিলের অংশ হয়ে রাহুলের মৃত্যুর ন্যায় বিচারের দাবিতে সুর মেলাবে ইম্পার সদস্যরা।
ইন্ডাস্ট্রি ফেটারনিটির তরফেও রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে একটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। যেখানে উপস্থিত থাকবেন ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, কবি সৃজাত, পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, ফেডারেশনের সভাপতি স্বরুপ বিশ্বাস। কিন্তু, সেই মিছিলে অংশ নিচ্ছে না আর্টিস্ট ফোরাম। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে জরুরি বৈঠক বসে। আর্টিস্ট ফোরামের সদস্য হিসেবে রাহুলের মৃত্যুর কারণে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, কোন পথে প্রতিবাদ এগনো উচিত বৈঠকে এ নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
রাহুলের ঘটনায় টলিপাড়ার একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রী 'ভোলে বাবা পার কা'-এর শ্যুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শ্যুটিংয়ের সময় যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব থাকে সেই কথা স্বাকীর করেছেন অনেকেই।
রাহুলের ঘটনায় টলিপাড়ার একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রী 'ভোলে বাবা পার কা'-এর শ্যুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শ্যুটিংয়ের সময় যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব থাকে সেই কথা স্বাকীর করেছেন অনেকেই। অভিনেতার মৃত্যুর দিন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শ্যুটিংয়ের সময়ে যাঁরা যাঁরা উপস্থিত ছিলেন প্রত্যেকের বয়ানই কার্যত পরস্পর বিরোধী।
এমনকী সহ অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রও কোনও কিছু স্পষ্ট করেননি। রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু ঘিরে জটিলতা যখন বাড়ছে সেই পরিস্থিতিতে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ ছাড়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। ম্যাজিক মোমেন্টসে'র তরফে বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানানো হয়েছে। রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে টলিউডের টনক নড়ে কি না সেটাই দেখার।
