তালসারিতে শুটিং করাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচমকা মৃত্যুর (Rahul Arunoday Banerjee Death) ঘটনা এইমুহূর্তে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের জন্য সমুদ্র সৈকতে এক রোম্যান্টিক দৃশ্যের শট দিচ্ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই কীভাবে তলিয়ে গেলেন? শুটিং স্পটেই বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল না? এহেন একাধিক প্রশ্ন উঠছে এইমুহূর্তে। ইতিমধ্যেই রাহুলের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মিত্র-সহ আরও অনেকে। কারণ শুটিং ইউনিটের সদস্যদের বয়ানের সঙ্গে পুলিশের হাতে আসা ফুটেজে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে।
কিছুটা যাওয়ার পরই হঠাৎ অভিনেত্রী টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। ঠিক তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রাহুল আরেকটু সামনে পড়ে গিয়ে সমুদ্রের নোনা জলে তলিয়ে যান। সেই ফুটেজেই দেখা যায়, ইউনিটের একজন সদস্য দ্রুত এগিয়ে এসে অভিনেত্রীকে উদ্ধার করলেও রাহুলকে কিন্তু সেসময়ে আর ফ্রেমে দেখা যায়নি।
পুলিশি সূত্রে খবর, তাদের হাতে আসা শুটের ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ধারাবাহিকের নায়িকা শ্বেতা মিশ্রর হাত ধরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুটা যাওয়ার পরই হঠাৎ অভিনেত্রী টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। ঠিক তার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রাহুল আরেকটু সামনে পড়ে গিয়ে সমুদ্রের নোনা জলে তলিয়ে যান। সেই ফুটেজেই দেখা যায়, ইউনিটের একজন সদস্য দ্রুত এগিয়ে এসে অভিনেত্রীকে উদ্ধার করলেও রাহুলকে কিন্তু সেসময়ে আর ফ্রেমে দেখা যায়নি। ঠিক সেই মুহূর্তেই ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। আর পুলিশের হাতে আসা এহেন ভিডিও ফুটেজই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে! কারণ চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, গল্পে জলের দৃশ্যই ছিল না।
তালসারিতে শুটিংয়ের মুহূর্তে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়।
একদিকে যখন 'ভোলে বাবা পার করেগা' ইউনিটের দাবি, মাত্র চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যেই অভিনেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে, তখন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় দু'-তিন ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর অচৈতন্য অবস্থায় অভিনেতাকে উদ্ধার করা হয়। আউটডোর লোকেশনে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতার এহেন চরম পরিণতিতে প্রশ্ন উঠছে, কেন সমুদ্র সৈকতের শুটিং স্পটে লাইফ গার্ড বা পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না?
অভিযোগ, রাহুল নাকি বারণ সত্ত্বেও নিজের ইচ্ছায় জলে নেমেছিলেন। আবার পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানিয়েছেন, ড্রোন ক্যামেরায় নায়ক-নায়িকার 'জলকেলি'র দৃশ্যের শুটিং করা হচ্ছিল। এদিকে বালাসোর জেলা পুলিশের বিস্ফোরক তথ্য বলছে, এই শুটিংয়ের জন্য কোন অফিসিয়াল অনুমতি বা আগাম তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়নি। কিংবা সমুদ্রে বা বোট নিয়ে শুট করারও কোনও অনুমতিই ছিল না ইউনিটের কাছে। তাহলে কার নির্দেশে ক্যামেরা বা ড্রোনে ওই মুহূর্তটি রেকর্ড করা হচ্ছিল? এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। এখানেই শেষ নয়!
সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার পর রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্ধার করতে কতটা সময় লেগেছে? প্রোডাকশন টিমের সদস্যদের বয়ানে সেই সময় নিয়েও নানা অসঙ্গতি মিলেছে। একদিকে যখন 'ভোলে বাবা পার করেগা' ইউনিটের দাবি, মাত্র চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যেই অভিনেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে, তখন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় দু'-তিন ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর অচৈতন্য অবস্থায় অভিনেতাকে উদ্ধার করা হয়। আউটডোর লোকেশনে শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতার এহেন চরম পরিণতিতে প্রশ্ন উঠছে, কেন সমুদ্র সৈকতের শুটিং স্পটে লাইফ গার্ড বা পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না? এই ঘটনায় দায়ই বা কে নেবে? পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
