বাংলাদেশে অবশেষে বাতিল হয়ে যাচ্ছে বহুল আলোচিত গণভোট অধ্যাদেশ। মহম্মদ ইউনুসের আমলে জামাতে ইসলাম ও ছাত্রদের দল এনসিপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গণভোট অধ্যাদেশ জারি হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের পক্ষেও রায় নেওয়া হয়। বর্তমান শাসকদল প্রথম থেকেই গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছে। এনিয়ে একটা সংকট সৃষ্টি হয়। এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকারি সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলি সংসদের প্রথম অধিবেশনে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ব্যাপারে সুপারিশের লক্ষ্যে সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন সরকারি দলের সদস্য। কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা গণভোট অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদনের পক্ষে প্রস্তাব করলেও সরকারি দলের সদস্যরা ‘আরও আলোচনা’ চান। কমিটির সভাপতি গত সপ্তাহে বলেন, কমিটি গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করার পক্ষে। কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আভাস দেন, গণভোটে অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে না। অর্থাৎ, অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাবে।
বর্তমান শাসকদল প্রথম থেকেই গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে আসছে। এনিয়ে একটা সংকট সৃষ্টি হয়। এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকারি সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গণভোট হয়ে গিয়েছে। অধ্যাদেশটির আর সামনে কোনও ব্যবহার নেই। গণভোট অধ্যাদেশ সংবিধানের অংশ নয়। সংবিধানে না থাকলে গণভোট হবে না, সংবিধানে এমন বিধান নেই। গণভোট আয়োজনে একটি অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। গণভোট হয়েছে। এই অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়েছে। এর কোনো বিরোধিতা নেই। এই অধ্যাদেশকে সংসদে ধারণ করে ভবিষ্যতে ব্যবহার করার আর কিছু নেই। সংসদে অধ্যাদেশটিকে অনুমোদন করা হবে কিনা– সেই প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেছেন, সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। যেমন সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে প্রণীত অধ্যাদেশের ব্যবহার আগামী ১০ বছরে বা পরবর্তী জনশুমারি না হওয়া পর্যন্ত লাগবে না। গণভোট অধ্যাদেশের আর ব্যবহার নেই। তাই অনুমোদন করার কিছু নেই। ব্যবহার হয়ে গিয়েছে। অধ্যাদেশটিকে বিল আকারে এনে আইনে পরিণত করা, সংশোধনের প্রয়োজন নেই।
সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের ওপর আলোচনা হয়েছে। কতটি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন হবে, তা ২ এপ্রিল জানা যাবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হুবহু পাস করা হবে। কিছু কিছু সংশোধনী আকারে উত্থাপন করা হবে। ১২ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় কিছু কিছু অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে না। পরবর্তী সময় বিল আকারে আনা হবে। বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, তা যথাযথভাবে থাকবে প্রতিবেদেনে।
কমিটির সদস্য জামাতের সাংসদ রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগ পৃথক্করণের মতো ১৫টি অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। ২২টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে প্রণীত অধ্যাদেশের ব্যবহার আগামী ১০ বছরে বা পরবর্তী জনশুমারি না হওয়া পর্যন্ত লাগবে না। গণভোট অধ্যাদেশের আর ব্যবহার নেই। তাই অনুমোদন করার কিছু নেই। ব্যবহার হয়ে গিয়েছে।
১৫টিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। সরকারি দল সংখ্যার জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণ করতে চাচ্ছেন। গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেছেন, পুরো জাতি গণভোটে অংশ নিয়েছে। সরকারি দল এটি বাতিলের কথা বলছে, যা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে। সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে– এটাই মূল দাবি। কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান রফিকুল ইসলাম খান।
