বলিউডের ব্যস্ততম অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম সলমন খান। সমস্যার বেড়াজাল পেরিয়ে ‘মাতৃভূমি’র শেষ মুহূর্তের শুটিংয়ে ব্যস্ত, শুধু তাই নয় নয়নতারার সঙ্গেও আগামী ছবি ‘এসভিসি ৬৩’র প্রথম পর্বের কাজ শুরু করে দিয়েছেন ভাইজান। কাজের চূড়ান্ত ব্যস্ততার মাঝেই বিতর্কে সলমন! চর্চার কেন্দ্রে দীর্ঘ ২৫ বছর আগের পুরনো কেচ্ছা! ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'চোরি চোরি চুপকে চুপকে'র সঙ্গে 'আন্ডারওয়ার্ল্ড'র গভীর সংযোগ ছিল। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সলমনের ছবি নিয়ে বিস্ফোরক পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা। ক্যামেরার পিছনে ঘটে যাওয়া অজানা তথ্য এবার প্রকাশ্যে। সিনেমার শুটিং শুরুর নেপথ্যে ছিল কোন কাহিনি?
রামু বলেন, "ভরত শাহর কাছে এক ভদ্রলোক এসে বলেন সলমন তাঁকে ডেট দিয়েছেন। এটা শুনে কোনও বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেননি, শুধু বলেছিলেন ঠিক আছে। কিন্তু, সেই ভদ্রলোকটির কোনও ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। এমনকী ধনী ব্যক্তিও নন। তাহলে সলমন ওকে ডেট কেন দেবেন? ভরত শাহ যখন সলমনের সত্যিটা জানতে তখন পূর্ণ সম্মতি দিয়ে জানান ওই ভদ্রলোককে ডেট দেওয়া হয়েছে।" সলমনের মুখের কথাটুকুই ভরত শাহর কাছে যথেষ্ট ছিল। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া হয় এবং 'চোরি চোরি চুপকে চুপকে' ছবির শুটিং শুরু হয়।
প্রথমে ভারত শাহ ভেবেছিলেন সবকিছুই বৈধ। কিন্তু যখন জানতে পারেন প্রযোজক নাজিম রিজভির আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তখনই পরিস্থিতি বদলায়। ভর্মার কথায়, "কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন যে প্রযোজক নাজিম রিজভির ছোটা শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। কিন্তু নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন তিনি তো কোনও অবৈধ ব্যবসা করছেন না। প্রযোজকের যদি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে, তাতে তার কী আসে যায়? নিজে তো অপরাধী নন, শুধু একজন অপরাধীর সঙ্গে যুক্ত মাত্র।"
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন এক ব্যবসায়ী আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে ফোন পান। ভর্মা জানান, ওই ব্যবসায়ীকে পাঁচ কোটি টাকা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি সাহায্যের জন্য ভারত শাহের শরণাপন্ন হন। প্রযোজক নাজিম রিজভির সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তাঁর থেকে সাহায্যে আশা করেছিলেন। পরে বিষয়টি ছোটা শাকিলের কাছে পৌঁছালে টাকার অঙ্ক কমিয়ে সেটিকে দু'কোটিতে নামিয়ে আনা হয়। চলচ্চিত্র জগতের বহু মানুষ ভারত শাহের কাছে সাহায্যের জন্য আসতে থাকেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
২০০১ সালে মুম্বই পুলিশ ভারত শাহ এবং নাজিম রিজভিকে গ্রেফতার করে। প্রযোজকের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে গোপন সংযোগ আড়াল করার অপরাধে পরিচালক ভারত শাহকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং এক বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আরও জানান, "তিনি কিন্তু টাকার বিনিময়ে সাহায্য করতেন না। তবুও পুলিশ ওঁর ফোন ট্যাপ করছিল। পুলিশ ওকে বলেছিল হয়তো শাকিল আপনার জন্য কাজ করছে। তখন ভারত ভাই বলেন, সে কেন আমার জন্য কাজ করবে? আমি তো শুধু একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। ২০০১ সালে মুম্বই পুলিশ ভারত শাহ এবং নাজিম রিজভিকে গ্রেফতার করে। প্রযোজকের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে গোপন সংযোগ আড়াল করার অপরাধে ভারত শাহকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং এক বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয়।"
