কৃতী শ্যাননের বক্ষবিভাজিকা প্রদর্শন বিতর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থা রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে। উৎসবের পরও ধিকিধিকি করে জ্বলছে বিতর্কের আগুন। এবার সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিলেন রামনন্দ সাগরের 'রামায়ণ' খ্যাত 'লক্ষ্মণ' তথা সুনীল লহরী। এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিওবার্তায় বিজ্ঞাপন বয়কটের প্রশংসা করেছেন। সেই সঙ্গে উৎসবের দিনগুলিতে ধর্মীয় আবেগ, সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোরও আহ্বান জানিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, প্রকৃত পৌরষত্বের পাঠ পড়িয়েছেন 'লক্ষ্মণ' সুনীল।
তাঁর মতে, "উৎসব, উদযাপন নিয়ে নতুন করে বলার নেই। তবে আমাদের আবেগ, সম্পর্কের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি জড়িয়ে থাকে। উৎসবের দিনগুলিতে সেগুলো রক্ষা করা আমাদেরই কর্তব্য। ঠিক যেভাবে সম্মলিত মতপ্রকাশের মাধ্যমে রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনকে বয়কট করা হয়েছে। আন্তরিকভাবে এই উদ্যোগের প্রশংসা করছি।"
প্রকৃত পৌরুষ নিয়ে নিজের মতপ্রকাশ করে সুনীলের সংযোজন, "আমাদের সকল পুরুষে্র পৌরুষ নিহিত রয়েছে নারীদের সুরক্ষায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের রক্ষকের ভূমিকায় উত্তীর্ণ হওয়া উচিত, শিকারী নয়। নারীজাতি আমাদের কাছে শ্রদ্ধেয় ও পূজনীয়।"
রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে স্বল্পাবাসে ধরা দিয়ে মারাত্মক বিতর্কে জড়িয়েছেন কৃতী শ্যানন। বিজ্ঞাপনী ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই নেটভুবনে উত্তরোত্তর কটাক্ষ, সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে 'ককটেল ২' অভিনেত্রীকে। অভিযোগ, কৃতীর অত্যাধুনিক পোশাক থেকে উঁকি দেওয়া উন্মুক্ত বক্ষবিভাজিকা ঐতিহ্যবাহী রাখিবন্ধন উৎসবকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছে। এহেন বিতর্কযজ্ঞে 'ফোড়ন' কেটে ঘৃতাহূতি করেছিলেন কঙ্গনা রানাউত। 'সংস্কারি' সাংসদ নায়িকার প্রশ্ন, 'অন্তর্বাস পরে ভাইকে রাখি পরানো জরুরি?'
কৃতী শ্যানন। সোশাল মিডিয়া
কৃতীতে পোশাক নিয়ে তোপ দাগতেই ততোধিক হাইভোল্টেজ জবাব, "ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নারীদের মনে থাকে। পোশাকের নেকলাইন কিংবা বিভাজিকায় নয়। রাখিবন্ধন উৎসব একটা আবেগ। সুরক্ষার এক বন্ধন। আমি ও আমার বোন একে-অপরকে রাখি পরাই। আমরা বিশ্বাস করি, ভাই থাকলে যেমন সুরক্ষা দিতে পারত, আমরাও পরস্পরকে ঠিক তেমনই সুরক্ষিত রাখতে পারব। তাছাড়া, নারীরা কী পরবেন- সে বিষয়ে তাঁদের নিদান দেওয়া সমাজ কবে বন্ধ করবে? সময়ের সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল পোশাকের ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে, অথচ আজও একজন নারীর সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে শুধু তাঁর পোশাক দিয়েই বিচার করা হয়।"
