shono
Advertisement
Piya Sengupta

ইম্পার অফিসে পিয়া-রানার বৈঠক, কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত বলেছেন, "শুটিং ফ্লোরে কোনও টেকনিশিয়ানেরই দাদাগিরি আমরা সহ্য করব না। আমি তো ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকেই প্রশ্ন করব যে তাঁর উপস্থিতিতে কীভাবে এইরকম একটা ঘটনা ঘটতে পারে?"
Published By: Kasturi KunduPosted: 07:40 PM Mar 28, 2026Updated: 07:40 PM Mar 28, 2026

শুক্রবার ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে টলিপাড়া। অভিযোগ, রানা সরকারের ‘গুনগুন করে মহুয়া’র শুটিং চলাকালীন সেটে তাণ্ডব চালায় কয়েকজন। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছিলেন ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। শনিবার প্রযোজক রানা সরকারকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন পিয়া। কী আলোচনা হল বৈঠকে? সমস্যার সমাধান সূত্র মিলল? ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত বললেন, "রানা কাল আমাকে ফোন আর মেলের মাধ্যমে সবটা জানিয়েছে। তোমার যে ভুল ধারণাটা ভেঙেছে আর মনে হয়েছে পিয়া দি কাজটা করতে পারে সেটার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ওঁর অভিযোগ পেয়েই টিমের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিই, যে কোনও অবস্থাতেই ফেডারেশনের যে লাইট টেকার গিল্ড যাদের ফেডারেশনের কোনও অ্যাফিলেশনই নেই তাদের দাদাগিরি কেন সহ্য করব?"

Advertisement

আরও যোগ করেছেন, "শুটিং ফ্লোরে কোনও টেকনিশিয়ানেরই দাদাগিরি আমরা সহ্য করব না। আমি তো ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকেই প্রশ্ন করব যে তাঁর উপস্থিতিতে কীভাবে এইরকম একটা ঘটনা ঘটতে পারে? ভবিষ্যৎ-এ যদি আবার একই ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের টিমের সদস্যদের আমাদের সঙ্গে বৈঠক করে জানতে হবে কীভাবে ফেডারেশনের সঙ্গে আগামীতে কাজ করবে। আদৌ কাজ করা সম্ভব হবে কিনা বা সেখানের পরিবেশ কতটা সুস্থ থাকবে। প্রয়োজনে আমরাই কাজ বন্ধ করে দেব। প্রযোজকরা যদি ছবি করা বন্ধ করে দেয় আমার বিশ্বাস যাঁরা ইম্পার সদস্য, আমাকে ভরসা করে তাঁরা প্রত্যেকে বুঝবেন পিয়া দি খুব একটা ভুল কথা বলছেন না। এইরকম ঘটনা ঘটলে কী ভাবে ছবি তৈরি সম্ভব? আমরা যাঁরা প্রযোজক অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে ছবি বানাই। ফেডারেশনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রত্যেকেরই সংসার আছে। কিন্তু, কাজ করতে গিয়ে যে সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছি সেটা তো কাম্য নয়।"

প্রযোজক রানা সরকার শুক্রবারের ঘটনার বিরবণ দিতে গিয়ে বলেন,"আমাদের ইউনিটের একটি ছেলের সঙ্গে ওদের পাওনাগন্ডা নিয়ে একটা সমস্যা ছিল। সেই ছেলেটিকে ফ্লোরে ঢুকে মারধর শুরু করে। তখন আমরা তো গুন গুন করে মহুয়া সিনেমার শুটিং একজনের বাড়িতে করছিলাম। এসব কান্ড দেখে বাড়ির মালিক বলে শুটিং ছেড়ে বেরিয়ে যাও। বাধ্য হয়ে যখন ফিরে আসি তখন দেখলাম মদ্যপ অবস্থায় প্রায় সাত-আটজন ছেলে সেখানে রয়েছে। ওরা সত্যিই লাইট কেয়ার টেকার, আগেও দেখেছি। মারমুখী হয়ে সকলের সঙ্গে ঝামেলা করছিল। আমাকেও ধাক্কা দিয়েছে। পুলিশে খবর দেওয়া হলে তখন পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওরা আবার অভিযোগ করেছে আমরাও নাকি মারধর করেছি। আমি তখনই ফেডারেশন, ইম্পা সকলকে ঘটনাটা জানাই।"

রানার বক্তব্য, "আমার সঙ্গে যদি কারও কোনও সমস্যা থাকে তাহলে সে কথা বলার জন্য আসতেই পারে। কিন্তু, ফ্লোরে এসে গুণ্ডাগিরি করবে সেটা তো হয় না। এই ঘটনা আইন বিরুদ্ধ। কলকাতা কেন গোটা পশ্চিমবঙ্গে এই ঘটনা কোনওদিন দেখিনি। যারা এই ধরনের কাজ করেছে তাদের কী উদ্দেশ্য ছিল সেটা নিয়ে চিন্তিত। সমস্যা সমাধানের জন্যই পিয়া দিকে অনুরোধ করেছি। আজ সকালে হঠাৎ লাইট কেয়ারটেকারদের গিল্ড হঠাৎ জানিয়েছে তারা আমাদের সঙ্গে শুটিং করবে না। সেটা ফেডারেশনকে জানিয়েছি। ওঁরা বলেছেন লাইট কেয়ার টেকারদের সঙ্গে সঙ্গে কোনও সংযোগ নেই। শুটিং প্রায় দুঘণ্টা বন্ধ ছিল। বাংলা সিনেমার বর্তামন যা পরিস্থিতি প্রত্যেকে আমরা কষ্ট করে ছবি তৈরি করি। আবেগ, ভালোবাসা দিয়ে ছবি বানাই। মহুয়া রায়চৌধুরীর মতো একজন মানুষকে নিয়ে বায়োপিক তৈরির করতে চাইছি। সিনেমার প্রতি ভালোবাসা কখনও শেষ হয়ে যাবে না। অনেক ঝুঁকি নিয়েও ছবি বানাই। কিন্তু, যদি আমাদের টিমের সদস্যদের মার খাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে তো কাজ বন্ধের কথা ভাবতে হবে। কারণ এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে দেওয়া যাবে না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement